বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
উত্তরবঙ্গ
 

ভাঙন বৈষ্ণবনগর ও কালিয়াচকে, আতঙ্ক
আরও বাড়ল গঙ্গা ও মহানন্দার জলস্তর

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: ২৪ ঘণ্টায় মালদহে আরও বাড়ল গঙ্গা ও মহানন্দা নদীর জলস্তর। গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় মালদহের বৈষ্ণবনগর ও কালিয়াচকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৈষ্ণবনগরের লালুটোলায় হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। তাতে কয়েক বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি এলাকার একটি মসজিদও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে। এনিয়ে ভাঙন অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ফুলহার নদীর জলস্তর কমলেও অসংরক্ষিত এলাকা ডুবে রয়েছে। মহানন্দা নদীর জলও হু হু করে বেড়ে চলায় ইংলিশবাজার ও পুরাতন মালদহ শহরের অসংরক্ষিত এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আর মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার জলস্তর বৃদ্ধি পেলেই দুই নদী বিপদসীমা পার করবে। যদি এমনটা হয়, তা হলে ফের বানভাসি হতে পারেন জেলার একাংশ বাসিন্দা।  যদিও সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজরদারি জারি রেখেছে সেচদপ্তর। এবিষয়ে বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক তথা মালদহ জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তৃণমূল কংগ্রেসের চন্দনা হালদার বলেন, বৈষ্ণবনগর লালুটোলায় হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জল বেড়ে যাওয়ায় এরকম সমস্যা হয়েছে। তবে ব্যাপক অর্থে ভাঙন হয়নি। এলাকার একটি মসজিদ সঙ্কটের মুখে রয়েছে। আমরা  এনিয়ে নজর রাখছি। মানুষের সমস্যা হলে দেখা হবে। বীরনগরের বাসিন্দা জসিম শেখ  বলেন, রবিবার থেকে হঠাৎ করে এখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে আগে থেকে ভাঙন হওয়ায় এলাকাবাসী সজাগ ছিলেন বলে তাঁরা আগেভাগেই  বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছেন। যে কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে জল কমলে ফের ভাঙন হতে পারে। মালদহের কালিয়াচক-২ ব্লকের পঞ্চানন্দপুরের বাসিন্দা অনুপ সরকার বলেন, পুজোর পর গঙ্গায় হঠাৎ করে জল বেড়ে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে আমরা কল্পনা করতে পারিনি।  গঙ্গার জল বেড়ে যাওয়ায় কাঁকড়ি বাঁধা মৌজার নদীর চর নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ১০ বছর আগে ওই চরটি জেগে উঠেছিল। সেখানকার কৃষকরা জমি হারিয়ে হতাশায় ভুগছেন। এবিষয়ে জেলা সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা বলেন, গঙ্গা ও মহানন্দা নদীর জলস্তর বাড়ছে। তবে ব্যাপক ভাঙন কোথাও হয়নি। জল বৃদ্ধি ও কমার মাঝে নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন হয়ে থাকে। বীরনগরে সেরকমই হয়েছে। জেলা সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গঙ্গার জলস্তর ছিল ২৪.২৭ মিটার। সোমবার সকালে জল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩৩ মিটারে। গড়ে একদিনে গঙ্গার জল ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আর মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার জলস্তর বৃদ্ধি পেলেই বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাবে গঙ্গা। ফুলহার নদীর জলস্তর কিছুটা কমলেও মহানন্দা নদীর জল বেড়েই চলেছে। এদিন সকালে মহানন্দা নদী ১৯.৯০ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে বইছিল। মহানন্দার বিপদসীমা হচ্ছে ২১ মিটার। স্বাভাবিকভাবে গঙ্গা  ও মহানন্দা দু’টি নদীই ক্রমশ ফুঁসছে। এরই মাঝে বৈষ্ণবনগর এবং কালিয়াচক নদীর চরে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা শঙ্কিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফের বিধ্বংসী ভাঙনের কবলে পড়বেন জেলার একাংশ বাসিন্দা। সেই উদ্বেগ নিয়ে অনেকে প্রহর গুণছেন।  মহানন্দা নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়ে ইংলিশবাজার ও পুরাতন মালদহের অসংরক্ষিত এলাকার বাড়িঘরে জল উঠতে শুরু করেছে। এদিকে ইংলিশবাজারের মিশন ঘাট এলাকায় বেশকিছু বাড়ি জলে ডুবে গিয়েছে। মাসখানেক আগেও ওই সব এলাকায় জল উঠে প্লাবিত হয়েছিল। মাস ঘুরতে না ঘুরতেই  একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। 
নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি ও কমার সঙ্গে ভাঙন দেখা দেয়। তবে জল কমতে শুরু করলে ভাঙনের তীব্রতা বেশি হয়। 

26th     October,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021