বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিদেশ
 

ম্যাচ ড্র, শীঘ্রই শেষ হচ্ছে মহামারী,
জানালেন মার্কিন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ
সংক্রমণ রোধে টিকাই শক্তিশালী কবচ

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: ওমিক্রনের দাপটে দেশজুড়ে করোনার ঢেউ চললেও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা খুব কম। লাগছে না অক্সিজেন। মৃত্যুহারও মূল সার্স-কোভ-২ বা ডেল্টার থেকে অনেক কম। পাঁচ থেকে সাতদিনের মধ্যে নেগেটিভ হয়ে যাচ্ছে রোগী। এই পরিস্থিতিতে মহামারী নিয়ে আশার কথা শোনালেন মার্কিন বিজ্ঞানী তথা ভাইরোলজিস্ট ডাঃ কুতুব মেহমুদ। সংক্রমণ রোধে টিকাকরণ শক্তিশালী অস্ত্র জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাচ ড্র’ হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই শেষ হচ্ছে মহামারী। 
এক সাক্ষাৎকারে কুতুব বলেন, চিরদিন করোনা মহামারী চলতে পারে না। এটা দাবা খেলার মতো। আর সেই খেলা ড্র হতে চলেছে। ভাইরাস লুকিয়ে পড়বে আর আমরা জিতে যাব। মাস্ক ছেড়ে আমরা বেরিয়ে আসব। তাই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এ বছর যত এগবে, আমরা সম্ভবত ততই মহামারী শেষের দিকে এগিয়ে যাব। তাহলে কি আর নতুন করে সার্স-কোভ-২ মিউটেট হবে না? জবাবে ভাইরাস বিশেষজ্ঞ বলেন, নতুন কোনও ভ্যারিয়েন্ট এলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। আশা করি, আমরা টিকাকরণের মাধ্যমে তা আটকে দিতে পারব। সিংহভাগ মানুষ টিকা পেলেই মোক্ষম জবাব দেওয়া যাবে। আর টিকা বা বুস্টার ডোজ নেওয়া ব্যক্তি যেকোনও স্ট্রেইনের ক্ষেত্রেই সুরক্ষিত।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, টিকা নেওয়া বা অতীতে সংক্রামিত ব্যক্তিরাও ফের আক্রান্ত হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে কুতুব বলেন, যাঁদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁরাই একাধিকবার সংক্রামিত হচ্ছেন। এক্ষেত্রে বুস্টার জরুরি। এরপরেই ভারতের টিকাকরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন বিশিষ্ট মার্কিন চিকিৎসক। তাঁর কথায়, এক বছরের মধ্যে ভারত ৬০ শতাংশ টিকাকরণ সম্পূর্ণ করেছে। এটা ভ্যাকসিন নির্মাতা দেশ হিসেবে বড় প্রাপ্তি। ভারতে তৈরি টিকা বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত বছর এই সময় ডিজিসিআই জরুরি ব্যবহারের জন্য টিকায় অনুমোদন দিয়েছিল। আর ১২ মাস শেষে ৬০ শতাংশ টিকাকরণ সম্পূর্ণ। এটা ভারত সরকার, স্বাস্থ্যমন্ত্রক এবং ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির বিরাট কৃতিত্ব।
এখানেই থেমে থাকেননি কুতুব মেহমুদ। ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিনেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। ভাইরোলজিস্টের কথায়, এই টিকা নিস্ক্রিয় ভাইরাস দিয়ে তৈরি। এটাই ভ্যাকসিন তৈরির প্রথাগত পদ্ধতি। ভারতে প্রাপ্ত করোনার স্ট্রেইন দিয়ে ভারতেরই সংস্থা এই টিকা তৈরি করেছে। এটা ভারতের চমকপ্রদ আবিষ্কার। দু’বছরের শিশুর ক্ষেত্রেও এটা সুরক্ষিত। এর জন্য ভারতীয় সংস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কুতুব যখন ওমিক্রনের মাধ্যমে মহামারী বিদায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তখন অন্য কথা শোনালেন আইসিএমআর-এর প্রাক্তন প্রধান ডাঃ টি জ্যাকব জন। তাঁর মতে, ডেল্টা ও ওমিক্রনের দাপটে দু’টো মহামারী সমান্তরালভাবে চলছে। জনের মতে, কোভিড-১৯-এর ‘জারজ সন্তান’ ওমিক্রন। উহান-ডি৬১৬জি বা আলফা, বিটা, গামা, ডেল্টা, কাপ্পা বা মিউ থেকে এর উৎপত্তি হয়নি। তবে, মহামারীর কারণ উহান-ডি৬১৬জির সঙ্গে ওমিক্রনের একটা যোগ রয়েছে। অর্থাৎ, পাশাপাশি দু’টি মহামারী চলছে। প্রথমটির জন্য ডেল্টা ও সাঙ্গ-পাঙ্গরা দায়ী। আর দ্বিতীয়টির জন্য ওমিক্রন এবং তার সম্ভাব্য মিউটেশন। 
সাধারণ আরটিপিসিআর পরীক্ষায় ওমিক্রন ধরা পড়ছে না। জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে হচ্ছে। আর সেকারণেই ওমিক্রনকে সার্স-কোভ-২-এর রূপ মানতে নারাজ জ্যাকব। তাঁর কথায়, কোভিড ফুসফুসে হানা দেয়। যেখানে ওমিক্রনের জেরে গলায় সংক্রমণ হচ্ছে। প্রায় একই কথা বলেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি মেলিটা ভুজনোভিক। তাঁর মতে, যেভাবে কোভিড-১৯ তার রূপের বিবর্তন ঘটাচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে ভাইরাস কখনই পাকাপাকিভাবে বিদায় নেবে না। আসলে ভাইরাসটি মহামারী শেষে এক ধরনের ‘গা সওয়া’ রোগ রেখে যাবে। অর্থাৎ, কীভাবে আমরা এর মোকাবিলা করব এবং নিজেদের সুরক্ষিত থাকতে হবে, তা শিখতে হবে। সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় সেদিকে জোর দিতে হবে। তা না হলে নিত্যনতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্ম নেবে।

17th     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ