বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিদেশ
 

করোনা এখন আর ‘মহামারী’ নয়
চাঞ্চল্যকর দাবি দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: দেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষকে আক্রান্ত ও সাড়ে চার লক্ষের বেশি মানুষের জীবনহানি করা করোনা এখন আর অতিমারী বা প্যানডেমিক, মহামারী বা এপিডেমিক পর্যায়ে নেই। দুর্বল হতে হতে এটি ‘এনডেমিক’ পর্যায়ে চলে এসেছে। দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেওয়া এই দাবি করেছেন ভারতের বিশিষ্ট ভাইরাস বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও মহামারীবিদরা। যা স্বস্তি জোগাবে আপামর দেশবাসীকে। 
প্রসঙ্গত, কোনও অসুখে যদি অল্প সময়ের ম঩ধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার বিশাল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হন, তাকে বলা হয় মহামারী। কোনও মহামারী যদিও একাধিক দেশ ও মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা আখ্যা পায় ‘প্যানডেমিক’-এর। অন্য঩দিকে, সেই রোগ যদি একটি নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাকে বলা হয় ‘এনডেমিক’। 
২০১৯ সালের শেষদিকে উহান দিয়ে শুরু হয় করোনার সংক্রমণ। পরে তা ‘এপিডেমিক’ থেকে ‘প্যানডেমিক’-এ পরিণত নেয়। যা মনে করিয়ে দিয়েছে ১৯১৮ সালের ‘স্প্যানিশ ফ্লু’,  ১৮৫৫ সালের প্লেগ,  ১৩৩১ সালের ব্ল্যাক ডেথ-এর মতো ভয়ঙ্কর প্যানডেমিককে।  
বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট এবং সিএমসি ভেলোরের ভাইরোলজি’র প্রাক্তন অধ্যাপক ডাঃ টি জেকব জন, তিরুমালাই মিশন হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ এম এস শেষাদ্রি, আইসিএমআরের মহামারীবিদ্যার প্রধান ডাঃ সমীরণ পান্ডার মতো মানুষের মতামত কমবেশি একই। ডাঃ জন ও ডাঃ শেষাদ্রি একটি সর্বভারতীয় দৈনিকে একসুরে জানিয়েছেন, ২৭ জুন ভারত কোভিডের ‘এপিডেমিক’ পর্যায় থেকে নেমে ‘এনডেমিক’ পর্যায়ে চলে এসেছে। তাঁরা জানান, মহামারীতে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়বে এবং ধারাবাহিকভাবে কম সংখ্যায় এসে নামবে এবং তা পরিবর্তিত হবে এনডেমিকে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শিখরে উঠেছিল ৬ মে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৪ লক্ষ ১৪ হাজার ৪৩৩ জন। ২৭ জুন তা ৫০ হাজারেরও কমে এসে পৌঁছয়। ৮ সেপ্টেম্বর তা আরও কমে ৪০ হাজারে নেমে আসে। ২৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা আরও কমে হয় ৩০ হাজারের নীচে। ৮ অক্টোবর তা হয় ২০ হাজারেরও কম এবং ২৭ অক্টোবর চলে আসে ১৫ হাজারে। সেটাই চলছে এখনও পর্যন্ত (১৪ নভেম্বর)। এই দুই বিজ্ঞানী বলেছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে টিকানীতি পরিবর্তন করা উচিত ও স্কুলপড়ুয়াদের অবিলম্বে টিকা দেওয়া উচিত। আইসিএমআরের ডাঃ পাণ্ডা বলেন, আগেও বলেছি, এখনও বলছি, দেশে কোনও তৃতীয় ঢেউ হবে না। কমবেশি যেটুকু উত্থান পতন হবে, সবই হবে রাজ্য ও জেলাভিত্তিক। শুধু তাই নয়, পরবর্তী ছ’মাসে করোনা অন্যান্য রোগের মতোই রুটিন সংক্রমণে পরিণত হবে। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী বলেন, করোনা এখন মহামারী থেকে কিছু কিছু এলাকায় এনডেমিকে এসে ঠেকেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বা হু যা বলবে, সেটাই মেনে নিতে হবে। ততদিন সংক্রমণ মোকাবিলায় বিধি মেনেই চলতে হবে।

20th     November,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ