বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিদেশ
 

নাসার আর্টেমিস প্রকল্পের হাত
ধরে এবার চন্দ্রপৃষ্ঠে নারীশক্তি
২০২৪ সালে চাঁদে যাবেন এক অশ্বেতাঙ্গও

ওয়াশিংটন: ১৯৭২ সালের পর ২০২৪— দীর্ঘ ৫২ বছরের খরা কাটিয়ে ফের চাঁদে মানুষ পাঠাতে কোমর বাঁধছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র নাসা। বিডেন-হ্যারিস প্রশাসনের অর্থানুকূল্যে বহুচর্চিত ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পের অধীনে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ পাঠাতে চলেছে নাসা। তবে পুরুষ নয়, মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই প্রথম চাঁদে একজন মহিলা ও একজন অশ্বেতাঙ্গকে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সোমবার এমনটাই ঘোষণা করেছেন নাসার চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর স্টিভ জুরসিজেক। তবে কারা হবেন সেই ভাগ্যবান, সে সম্পর্কে কিছু খোলসা করেননি তিনি। 
চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষের পা পড়ে ১৯৬৯ সালের ২১ জুলাই। এরপর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিন বছর বিভিন্ন সময় নাসার অ্যাপোলো প্রকল্পের অধীনে মোট ১০ জন মহাকাশচারী চাঁদে হেঁটে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। শেষবার ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মহাকাশযানে চেপে চাঁদে পৌঁছেছিলেন মহাকাশচারী ইউজিন কারনান। কিন্তু, এবার মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চাঁদে মহিলা মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাই তো গ্রিক পুরাণের সূর্যের দেবতা অ্যাপোলোর বদলে এবার তাঁরই যমজ বোন চাঁদের দেবী আর্টেমিস-এর নামানুসারে প্রকল্পের নাম রেখেছেন বিজ্ঞানীরা।
নাসার তরফে জানানো হয়েছে, চাঁদে পদার্পণের জন্য নাসার অত্যন্ত শক্তিশালী ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস)’ ও মহাকশযান ‘ওরিয়ন’কে গড়ে তোলার কাজ প্রায় শেষ। আগামী মাসেই ওই ইঞ্জিনগুলির ‘হট ফায়ার টেস্ট’ হবে। ‘আর্টেমিস-১’-কে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানো হবে আগামী বছর। সেই অভিযানে কোনও মহাকাশচারী থাকবেন না। তার দু’বছর পর ২০২৩ সালে মিশন শুরু করবে ‘আর্টেমিস-২’। এরপর চূড়ান্তভাবে মানুষ নিয়ে ২০২৪ সালে চাঁদে পাড়ি দেবে ‘আর্টেমিস-৩’। আর আর্টেমিস-৪ অভিযানে চাঁদের কক্ষপথে একটা স্থায়ী আস্তানা গড়ে তুলবে নাসা। এবার একটানা সাতদিন চাঁদের মাটিতে থাকবেন মহাকাশচারীরা। পাশাপাশি, অতীতে যেখানে চাঁদে পৌঁছতে ৩ দিন সময় লেগেছিল, এবার সেখানে মাত্র আড়াই দিন লাগবে বলেই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
কিন্তু, চাঁদে হঠাৎ মহিলাকে পাঠানোর প্রয়োজন কেন পড়ল নাসার? এটা কী নিছকই গিমিক? নাসার প্রাক্তন মহিলা মহাকাশচারী পেগি হুইটসনের কথায়, ‘না কোনও গিমিক নয়, এই অভিযান নিয়ে লিঙ্গসাম্যের বার্তা দিতে এবং সাধারণ মানুষের মনে আগ্রহ তৈরি করতেই এমন পরিকল্পনা নিয়েছে নাসা কর্তৃপক্ষ।’ তবে এনিয়ে এত হইচইয়ের প্রয়োজন নেই বলেই মত পেগির। তিনি বলেন, ‘ষাটের দশকে যখন আমরা শেষ চাঁদে গিয়েছিলাম, ওই অভিযানের সকল মহাকাশচারীই পুরুষ ছিলেন। সেদিক থেকে ২০২৪ সালের পরিকল্পনা সত্যি নজিরবিহীন। কিন্তু, আমি মনে করি, ভবিষ্যতের অভিযানগুলিতে মহাকাশচারীদের দলে এক বা একাধিক মহিলার অন্তর্ভূক্তিতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ, ওই মহিলারা প্রত্যেকেই পুরুষদের মতোই সমান সক্ষম।’
একই মত পোষণ করেন ‘আর্টেমিস’ টিমের টেস্ট পাইলট নিকোল মান। তাঁর সাফ কথা, ‘নাসা তো বলেনি, এই অভিযানের লক্ষ্য হল চাঁদে মহিলা পাঠানো। আমরা দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য এই অভিযানে নেমেছি। আর এখানে মহিলা মহাকাশচারীর অন্তর্ভূক্তি নেহাত বৈচিত্রের খাতিরেই ঘটেছে। এটা খুবই সাধারণ একটা বিষয়।’

13th     April,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
12th     May,   2021