বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিদেশ
 

স্বাধীনতায় রক্ত ঝরালেও দেশের নাগরিকত্ব
আজও পেলেন না মায়ানমারবাসী গোর্খারা 

রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মার সেনাবাহিনীতে গোর্খাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তৎকালীন বার্মার স্বাধীনতার জন্য তাঁরা রক্তও ঝড়িয়েছিলেন অনেক। বার্মা বদলে এখন সে দেশ মায়ানমার। কিন্তু আজও সেই গোর্খারা সে দেশে ব্রাত্য। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা পায় মায়ানমার। আর সেই স্বাধীনতার লড়াইয়ে নেপালি বংশোদ্ভূত গোর্খা বাহিনী জান-প্রাণ দিয়ে লড়েছিল। কিন্তু আজও সেই গোর্খাদের দেশের নাগরিক বলে স্বীকার করতে পারেনি মায়ানমার। বিক্ষিপ্তভাবে এখন আশ্রিতদের মতো সে দেশে তাঁদের বাস। তবে সেই সংখ্যাটা কম নয়। ২০২১ সালের হিসেবমতো প্রায় ৩ লক্ষ গোর্খা বংশোদ্ভূত মানুষ মায়ানমারে রয়েছেন। কিন্তু তাও তাঁরা দেশের নাগরিকই নন।
মায়ানমারের নাগরিক না হওয়ায় আজও তাঁদের অর্থ ও অন্ন সংস্থানের জন্য বৈধ নাগরিকদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। বাধ্য হয়ে অনেক গোর্খাকেই দেশ ছেড়ে অন্য জায়গায় ঘাঁটি গাড়তে হয়েছে। অনেকেই চলে এসেছেন ব্রিটেনে। তবে মায়ানমারকে তাঁরা ভোলেননি। ভুলে যাননি মায়ানমারের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের পূর্বপুরুষদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। শুধু ক্ষোভ বা অভিমান একটাই। মায়ানমার হয়তো তাঁদের অস্তিত্বকে ভুলে গিয়েছে। তাই আজও মায়ানমারের কাছে তাঁরা অনাহুত। সম্প্রতি মায়ানমারে হিংসা শুরু হওয়ায় অনেকেই ব্রিটেনে চলে এসেছেন। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন নুম রাজ। ২০০৯ সালে তিনি মায়ানমার থেকে লন্ডনে চলে আসেন। ভর্তি হন ওয়েস্ট লন্ডন বিজনেস স্কুলে। নুম ‘বর্তমান’কে জানান, ‘মায়ানমারে পড়াশোনা করে আমি উচ্চশিক্ষা অর্জন করি। হয়তো সেখানে আমি চাকরি জোগাড় করতে পারতাম। কিন্তু বাবা আমাকে লন্ডনে চলে আসতে বলেন।২০১৩ তে আমার নিজের ফুড ট্রাকের ব্যবসা শুরু করি।’ অবশ্য পরে তিনি ২০১৫ সালে মায়ানমারে ফিরেছিলেন। কিন্তু তখন দেশের অবস্থা যা ছিল, তা নুমকে অনেকটাই হতাশ করে। দেশে তখন সেনা অভ্যুত্থানে পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। ক’দিনের মধ্যেই লন্ডনে ফিরে আসেন নুম।
‘বর্তমান’কে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং হিংসা বাড়ছে। এখন মায়ানমার সাধারণ মানুষের থাকার জন্য নিরাপদ নয়। আমার ঠাকুর্দা এই দেশের জন্যই প্রাণ দিয়েছিলেন। অথচ বর্তমানে আমাদের মতো গোর্খাদের উপরই অত্যাচার সবচেয়ে বেশি। রোজ সে দেশে গোর্খাদের মরতে হচ্ছে। এই জন্যই হয়তো বাবা আমাকে লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।’ নুম তাঁর পরিবার নিয়ে লন্ডনে রয়েছেন। কিন্তু তাঁর মা, ভাই বোন ও আত্মীয়রা এখন অস্থির মায়ানমারেই জীবনের সঙ্গে যুঝছেন। তাদের সঙ্গে দুসপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করতে পারছে না। সুকির গ্রেপ্তারি নিয়ে হিংসা বাড়ছে। সেই নিয়ে কার্যত রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে নুমের। ইশ্বরের কাছে তাঁর একটাই প্রার্থনা। শান্ত হোক মায়ানমার।  

6th     March,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
13th     April,   2021