বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

২০ বছর পার, গোধরায় দুই
সম্প্রদায়ের মনেই বিভেদের চওড়া পাঁচিল

গোধরা: শহরের একেবারে মাঝখান দিয়ে এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে রাস্তাটা। একদিকে মুসলিম ও অন্যদিকে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। গুজরাতের গোধরা। ২০০২ সালের সেই ভয়াবহ হিংসার ক্ষত এখনও দগদগে।  শুধু রাস্তা তো নয়, দুই পারের বাসিন্দাদের মনের গহিনেও অবিশ্বাসের কালো ছায়া । শুক্রবারই স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভোটের প্রচারে সেই হিংসার স্মৃতিকেই হাতিয়ার করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ২০০২ সালে হিংসাকারীদের শায়েস্তা করা হয়েছে। এমন সবক শেখানো হয়েছে, তাতে আর মাথা তুলতে পারে না তারা। রাজ্যে চিরস্থায়ী শান্তি এসেছে। কাদের শায়েস্তা করা হয়েছে, তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুখে না বললেও বুঝে নিতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ২০ বছর পর দুর্নীতি, তীব্র বেকারত্ব, অনুন্নয়নের অসন্তোষ সমগ্র গুজরাতেই বিজেপির রাতের ঘুম কেড়েছে। টানা ২৭ বছরের  শাসনে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া কতটা প্রবল, তা বিধানসভা ভোটের মুখে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিজেপি। তাই উন্নয়নের ইস্যুতে যে চিঁড়ে ভিজবে না, তা বিজেপির থিঙ্কট্যাঙ্কের কাছে পরিষ্কার। তাই আরও একবার গুজরাতের কুর্সি হাসিল করতে হিন্দুত্বই ভরসা। ধর্মীয় মেরুকরণ আর মোদির মুখকে সামনে রেখেই বাজিমাতের মোক্ষম কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের নাম্বার টু শাহর মন্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। গোধরার পরতে পরতে এখনও ছড়িয়ে বিদ্বেষ, বিভাজনের বিষ। 
সরকারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ এখানকার সংখ্যালঘুদের। শহরের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারাও সমস্যার কথা মানছেন। কিন্তু অসন্তোষের চেয়ে তাঁদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দুত্ব। সেই সঙ্গে মোদির ক্যারিশ্মায় আচ্ছন্ন তাঁরা। গোধরার ওই রাস্তার একদিকে প্যাটেলওয়াড়া। অন্যদিকে  রানি মসজিদের কাছে পোলান বাজার। মুসলিম অধ্যুষিত পোলান বাজারে  ঢুকলেই চোখে পড়বে ভাঙাচোরা রাস্তা, ইতিউতি জঞ্জালের স্তূপ। ওপারে  প্যাটেলওয়াড়ায় রাস্তাঘাট খানিক চওড়া। রয়েছে ছোটখাটো কারখানা, থিয়েটার, পোশাক সামগ্রী ও গাড়ির ঝাঁ চকচকে শোরুমও। পোলান বাজারের বাসিন্দা ইশাক বলছেন,  যা কিছু উন্নতি, তা ওদিকে।  
গোধরার মোট ভোটার ২ লক্ষ ৭৯ হাজার। এরমধ্যে ৭২ হাজার সংখ্যালঘু। এই আসনে বিজেপি প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক সি কে রাউলজি। তাঁর বিরুদ্ধে  কংগ্রেসের রশ্মিতাবেন চৌহান। এবার আপ প্রার্থী রাজেশভাই প্যাটেল ও মিমের সাব্বির কাচবাও লড়াইয়ে নেমেছেন। এই রাউলজি বিলকিস বানুর ধর্ষণে অপরাধীদের ‘সংস্কারি’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে মুসলিম মহল্লায় ক্ষোভ থাকছেই। উন্নয়নের কথা বলছেন বটে রাউলজি। কিন্তু সেসব গৌন। সেখানে মেরুকরণ খুবই স্পষ্ট।  রাজ্যের শাসক দল বিজেপিকে নিয়ে অনেকেই হতাশ। কিন্তু তাঁরা আবার ভোট দেবেন পদ্মফুলেই। ৪৮ বছরের মণীশ শাহ রেস্তোরাঁর মালিক। করোনায় মাকে হারিয়েছেন তিনি। গোধরায় শিল্পের অভাব ও দুর্নীতির কথা মানছেন তিনিও। কিন্তু ওই হিন্দুত্ব আর মোদির প্রতিই আস্থা তাঁর। উল্টো দিকের মুসলিম লাকাকে ‘মিনি পাকিস্তান’ বলতেও ছাড়লেন না কেউ কেউ। 
এখানকার বিজেপি প্রার্থী বলছেন, ২০০২ সালের পর গোধরায় হিংসার ঘটনা ঘটেনি। শুক্রবার খেড়ায় ঩কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখেও শোনা গিয়েছে সেই একই কথা। কিন্তু এতগুলো বছর পরেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ স্পষ্ট। 

27th     November,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ