বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

এক ঘণ্টা কথা হয়েছিল
কংগ্রেস নেতার সঙ্গে
গোয়ায় জোট নিয়ে দাবি তৃণমূলের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কংগ্রেসের সঙ্গে ‘হাত’ মেলাতে তৃণমূলের সদিচ্ছার যে কোনও অভাব নেই, সেটা বৃহস্পতিবারই উঠে এসেছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তৃণমূলের সহ-সভাপতি পবন বর্মাকে পাঠানো হয়েছিল কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমের কাছে। কিন্তু কংগ্রেসের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। ঠিক এই অবস্থায় শুক্রবার পবন বর্মা সরাসরি দাবি করলেন, ২৪ ডিসেম্বর দুপুর দেড়টার সময় দিল্লিতে চিদম্বরমের বাড়িতে গিয়েছিলাম। গোয়াতে বিজেপিকে হারাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এক ঘণ্টা কথা বলেছিলাম। কিন্তু চিদাম্বরমের কাছ থেকে কোনও প্রত্যুত্তর আসেনি। এই প্রসঙ্গকে সামনে রেখে তৃণমূল বুঝিয়ে দিয়েছে, বিজেপি বিরোধী ঐক্য শক্তিশালী করতে বরং কংগ্রেসই উদাসীন।‌ পাশাপাশি দলের অপর এক নেতা দাবি করেছেন, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আমরা কখনই জোট গড়ার কথা বলিনি।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে আসন্ন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা চলছে। একদিকে তৃণমূল ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। অন্যদিকে অ-বিজেপি দলগুলির এক ছাতার তলায় আসা নিয়ে নানা অঙ্ক কষা হচ্ছে। একদিকে যেমন বিজেপির সংগঠনে ধস নেমেছে, তেমনই গোটা দেশে কংগ্রেসের অবস্থাও খুব ভালো নয়। ফলের রাজনীতির অলিন্দে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এই অবস্থায় ১৪ ফেব্রুয়ারি গোয়া বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে তৃণমূল আসন সমঝোতা করেছে মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সঙ্গে। তৃণমূল প্রথম দফায় ১১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। শনিবার দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। এই পর্বে শুক্রবার তৃণমূলের জোট শরিক মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি ১০টি আসনে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। তৃণমূল চেয়েছিল, এই নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গেও আসন সমঝোতা হোক। কিন্তু কংগ্রেসের তরফে কোনও সদুত্তর আসেনি বলে অভিযোগ। এখানেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পবন বর্মা বলেছেন, আমরা কংগ্রেসকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু রাহুল গান্ধী এবং পি চিদাম্বরম দুজনেই সঙ্কীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন গোয়াবাসীর স্বার্থে। আসলে কংগ্রেস বিরোধীদের ভোট ভাগ করতে চায়। তৃণমূল নেতা উল্লেখ করেছেন, ২০১২ সাল থেকে কংগ্রেস দল ৯০ শতাংশ নির্বাচনে হেরেছে। ফলে কংগ্রেস যদি না পারে তাহলে অন্য কাউকে দায়িত্ব নিতে দেওয়া উচিত।
এখানে তৃণমূলের তরফে বলা হচ্ছে, বিজেপি বিরোধী মুখ এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভরকেন্দ্র তৃণমূল। বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, বিজেপি বিরোধিতায় ব্যর্থ কংগ্রেস। তাই অনেক দলের নেতা মনে করছেন, কংগ্রেস সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যত নেই। যদিও তৃণমূল বরাবর বলে আসছে, কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে হটানোই মূল লক্ষ্য। তাই জোটের আহ্বান করা হয়েছে এর আগে। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, আমরা এমন কথা কখনওই বলিনি, যে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে জোট করব। সবাইকে নিয়ে জোট চাই। ‌কিন্তু কংগ্রেস ব্যর্থ হচ্ছে, তাই বিজেপি যাতে ওয়াকওভার পেয়ে যেতে না পারে, তাই আমরা লড়াই করছি। কংগ্রেসকে নিয়েই জোট দরকার। মমতা আগেই বলেছেন, বিকল্প জোটের একটা স্টিয়ারিং কমিটি হোক। তৃণমূলের ব্যাখ্যা, বিজেপি শাসিত রাজ্য ত্রিপুরা ও গোয়াতে পা রেখেছে জোড়াফুল। কিন্তু কংগ্রেস শাসিত কোনও রাজ্যে এখনও সংগঠন বিস্তারের জন্য যায়নি। ফলে কংগ্রেস আগে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করুক। বিশেষ করে কংগ্রেস নিজেদের মুখ ঠিক করতে পারছে না। ভুগছে অস্তিত্ব সঙ্কটে।  

22nd     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ