বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

ট্যাবলো বাতিলের ড্যামেজ
কন্ট্রোলে মোদির দাওয়াই
ইন্ডিয়া গেটে বসছে নেতাজির মূর্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মসার্ধশতবর্ষ পালন নিয়ে প্রচারের ফানুস উড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই প্রচার হাঁকডাকের পর্যায়েই থেকে গিয়েছে। ৮৫ জনের জাম্বো কমিটি হয়েছে। সেই কমিটির একটিও বৈঠক করার সৌভাগ্য হয়নি। চেষ্টা করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দিল্লিতে সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে নেতাজিকে নিয়ে ট্যাবলো। তাতেও জল ঢেলেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। আর তারপরই বিতর্কের আঁচ পৌঁছে গিয়েছে দেশের আনাচে কানাচে। সুভাষ-ভক্তরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন, আর কত অবমাননা হবে নেতাজির! পাঁচ রাজ্যে ভোটের মুখে উত্তাপ এমনই আকার নিয়েছে যে, ড্যামেজ কন্ট্রোলে তড়িঘড়ি নামতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। আচমকাই তিনি ঘোষণা করেছেন, রাজধানীতে ইন্ডিয়া গেটে বসবে গ্র্যানাইটে তৈরি নেতাজির মূর্তি। শুক্রবার সকালে ব্যক্তিগত হ্যান্ডল থেকে নরেন্দ্র মোদির টুইট, ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া গেটে যতদিন না সেটি বসছে, ততদিন নির্দিষ্ট ওই ছাউনির (ক্যানোপি) নীচে দেখা যাবে নেতাজিরই হলোগ্রাম মূর্তি। গ্রানাইটের মূর্তি বসা পর্যন্ত অবিকল একই ধরনের অবয়ব দেখা যাবে ইন্ডিয়া গেটে। অর্থাৎ, থ্রিডি আলোকসজ্জার প্রতিফলন। তিনি আরও লিখেছেন, ‘ভারত যে তাঁর কাছে ঋণী, তারই প্রকাশ স্মারক হিসেবেই তা প্রতিভাত হবে’। পরে সংস্কৃতি মন্ত্রক থেকে একই তথ্য জানানো হয়েছে। 
ইন্ডিয়া গেটের ঠিক ৩০০ মিটার পিছনে যে পাথরের ক্যানোপিটি রয়েছে, সেখানেই বসবে আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনানায়কের পোশাক পরিহিত ২৮ ফুট উঁচু গ্রানাইটের মূর্তি। ওই জায়গাটিতে ১৯৫২ সালে ছিল ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম জর্জের মূর্তি। ক্যানোপির মাথায় রাজকীয় মুকুট। স্বাধীন ভারতে ১৯৫৮ সালের ১২ আগস্ট প্রথমে ওই মুকুট সরানো হয়। ১৯৬৮তে সরানো হয় পঞ্চম জর্জের পাথরের মূর্তিও। যা এখন রয়েছে দিল্লির করোনেশন পার্কে। বিরোধীরা কিন্তু একে ড্যামেজ কন্ট্রোল এবং নিজেকে ‘নেতাজি ভক্ত’ প্রমাণে প্রধানমন্ত্রীর মরিয়া কৌশল বলেই মনে করছে। তাদের প্রশ্ন, এতই যদি নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা, তাহলে এতদিনেও কেন মূর্তি গড়া হল না? তাঁর ১২৫তম জন্মদিবস সামনে রেখে নাম কেনার প্রয়াস তো দেড় বছর ধরে চলছে। তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পত্রাঘাতের পরই টনক নড়ল? বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তাতে স্পষ্ট লিখেছিলেন, নেতাজি সংক্রান্ত ট্যাবলো বাতিল করে স্রেফ সুভাষচন্দ্র বসুকেই নয়, বাংলার প্রত্যেক মণীষীকে অপমান করেছে মোদি সরকার। তৃণমূল নেত্রীর সেই ক্ষোভ প্রশমনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মমতাকে চিঠিও দেন। তাতে লেখেন, বাংলার প্রয়াস বাতিল হলেও সাধারণতন্ত্র দিবসে সিপিডব্লুডির ট্যাবলোয় নেতাজিকে সম্মান জানানো হবে। তাতে অবশ্য সমালোচনার ঝড় থামেনি। তাই শুরু হয়েছে ড্যামেজ কন্ট্রোল।
তবে শুধু মূর্তি বসানোর ঘোষণাই নয়। সুভাষচন্দ্র বসুকে যে মোদি সরকার কতটা শ্রদ্ধা সম্মান করে, তা প্রমাণ করতে আচমকাই ‘পরাক্রম দিবস’ নামে শুক্রবার একটি বিশেষ অনলাইন আলোচনার আয়োজন হয়। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর জয়পুর শাখার উদ্যোগে সেখানে অংশ নিতে অনুরোধ পৌঁছয় সুদূর জার্মানিতে। সাড়া দিয়ে অংশও নেন নেতাজি কন্যা অনিতা বসু পাফ। হাজির হন নেতাজির প্রপৌত্রী রেণুকা মালাকার। ওই অনুষ্ঠানে অনিতা বসু পাফ বলেন, ‘নেতাজি অমর। প্রতিটি ভারতীয়র হৃদয়ে ছিলেন, আছেন, থাকবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মপ্রাণ হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও সুভাষচন্দ্র সব ধর্মকে সম্মান করতেন। বাবার স্বপ্ন ছিল, ভারতে সব ধর্মাবলম্বীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। নারী-পুরুষে ভেদাভেদ নয়। সকলের সমানাধিকারের কথাই বলে গিয়েছেন নেতাজি।’ অর্থাৎ, মোদি জমানায় মেরুকরণের রাজনীতির উদ্দেশে প্রচ্ছন্ন খোঁচা এদিন দিয়ে রেখেছেন অনিতা বসু পাফ।
আজ বাদে কাল নেতাজির জন্মবার্ষিকী। তার ঠিক আগে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার লক্ষ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অন্যান্য কৃতী সন্তানদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন করেছে মোদি সরকার। সেই মতো পর্যটন মন্ত্রক আজ, শনিবার আয়োজন করেছে এক বিশেষ আলোচনা সভার। বিষয়, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ভূমিকা। অর্থাৎ, নেতাজি ইস্যু সামাল দিতে যা সমস্যা হয়েছে, তার থেকে মানুষের নজর ঘোরানো। বিরোধীরা কিন্তু বলছে, বাংলার আবেগে আঘাত দেওয়ার পর এই সব করার মানে কি? সত্যিই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা? নাকি মোদির মরিয়া ড্যামেজ কন্ট্রোল?

22nd     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ