বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

দেশকে পেন্সিলের কাঠ জোগায় কাশ্মীরের উখু
কেন্দ্রের স্বীকৃতি পেল সন্ত্রাস বিধ্বস্ত পুলওয়ামার গ্রাম

ফিরদৌস হাসান  শ্রীনগর: পুলওয়ামা নামটা শুনলেই এখনও আঁতকে ওঠেন সকলেই। আতঙ্কের আর এক নাম বলেও দক্ষিণ কাশ্মীরের এই জেলার কম বদনাম হয়নি। সৌজন্যে ২০১৯ সালের ‘ব্ল্যাক ফেব্রুয়ারি’। সিআরপিএফের কনভয়ে জঙ্গি হামলা। শহিদ চল্লিশজনেরও বেশি জওয়ান। তারপর থেকেই সংবাদ-শিরোনামে ওঠে আসা পুলওয়ামার। মাত্র দু’টি শব্দবন্ধে তার পরিচয়-ব্যপ্তি দেশে-বিদেশে—‘পুলওয়ামা অ্যাটাক’। 
অথচ, এই হাড়হিম হামলার অনেক আগে থেকেই যে পুলওয়ামার একটা সুনাম রয়েছে, সেটাই বা ক’জন জানে? জানলে হয়তো ঘরে ঘরে এক টুকরো ‘পুলওয়ামা’ খুঁজতে হুড়োহুড়ি পড়ে যাবে শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া মায় অভিভাবকদের মধ্যে। কারণ একটাই— অ আ ক খ, এ বি সি ডি থেকে উচ্চতর শিক্ষা পর্যন্ত ভরসার অন্য নাম পুলওয়ামার নমনীয় কাঠ। যা কি না পেনসিল উৎপাদনে মূল কাঁচামাল। আর দেশে এমন কোনও পরিবারের খোঁজ মিলবে না, যাঁর বাড়িতে একটা পেনসিল নেই! এখন তো দেশবাসীর হাতে পুরো পেনসিলই তৈরি করে তুলে দিচ্ছে উপত্যকার এই সন্ত্রাস-বিধ্বস্ত জেলা। সেই সুবাদেই ‘পেনসিল কা জিলা’ তকমা দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রের তরফে।
এবার আরও একটু গভীরে যেতে চাইছে মোদি সরকার। গ্রামটির নাম উখু। পেনসিল উৎপাদন শিল্পের যত কারবার পুলওয়ামার এই গ্রামকে ঘিরে। জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের তথ্য বলছে, দেশে পেনসিলের মোট চাহিদার ৯০ শতাংশ জোগানদার এই উখু। পেনসিল উৎপাদনে গ্রামবাসীর কৃতিত্বকে কুর্নিশ করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বছর ‘মন কি বাত’-এ বারবার নাম নিয়েছিলেন উখু’র। তারপরেই পেনসিল শিল্পের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্র। ওখু ঢুকে পড়ে কেন্দ্রের ‘দ্য ড্রিম অব ওয়ান নেশন, ওয়ান ল’, ওয়ান সিম্বল’ রূপরেখার মধ্যে। সরকারি কাগজে-কলমে তার পরিচিতি হয়ে ওঠে ‘পেনসিলওয়ালা গাঁও’। 
উখুর নৈসর্গিক দৃশ্য চোখ ধাঁধানো। পাহাড় ঘেরা ছোট্ট গ্রাম। খুব বেশি নয় জনসংখ্যাও। কিন্তু সবাই কর্মচঞ্চল। সকাল থেকে রাত—পেনসিল তৈরিতে ব্যবহৃত কাঠের মসৃণ ফালা প্রস্তুতে ব্যস্ত সকলেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য বলছে, উখুতে এখন পর্যন্ত এই শিল্পের অন্তত ১৭টি কারখানা রয়েছে। চার হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে উখু গ্রামের প্রায় চারশোর’ও বেশি মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে। গত আর্থিক বছরে তৈরি করা পেনসিল ও পেনসিলের কাঠ বিক্রি করে গ্রামের রাজস্ব আয় হয়েছে মোট ১০৭ কোটি টাকা। একটিমাত্র শিল্পকে ঘিরে একটি গ্রামের এই বিপুল আয়ের নজির একরকম নেই বললেই চলে। 
কেন্দ্রের এবার লক্ষ্য পেনসিল শিল্পকে আঁক‌঩ড়ে পুলওয়ামার আর্থিক বুনিয়াদ আরও দৃঢ় করা। এরজন্য একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেখানে বলা হয়েছে, পেনসিল শিল্পের বহর বাড়াতে উদ্যোগপতিদের আর্থিক সহয়তা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে একাধিক সুযোগ-সুবিধাও। সরকারের এই ঘোষণায় কাজও হয়েছে। উখু ছাড়িয়ে পেনসিল শিল্পের প্রসার ঘটছে পড়শি অনন্তনাগ, কুপওয়ারা সহ একাধিক জেলায়। বাড়ছে কর্মসংস্থানও। সরকার আসলে চাইছে, দেশবাসীর হাতে হাতে আরও বেশি করে ঘোরাফেরা করুক ‘পুলওয়ামা’। 
সন্ত্রাস জব্দ হোক শিল্প-উন্নয়নে। 

28th     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021