বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

উন্নয়নমূলক কাজের জন্যই বন্ধ মাওবাদী
কার্যকলাপ, কেন্দ্রকে রিপোর্ট দিল রাজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মাওবাদী দমন অভিযানের সংখ্যাবৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের অর্থের জোগানের উৎসগুলিকেও ধ্বংস করতে হবে। রবিবার আয়োজিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে মাও অধ্যুষিত ছ’টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে এই দু’টি বিষয়ই মূলত প্রাধান্য পেল। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, এনআইএ এবং রাজ্য পুলিস নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে কীভাবে মাও-দমন অভিযানগুলিকে আরও নিখুঁত করতে পারে, ৩ ঘণ্টার ওই বৈঠকে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে হাজির ছিলেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ও রাজ্য পুলিসের ভারপ্রাপ্ত ডিজি মনোজ মালব্য। রাজ্যের তরফে বলা হয়, এলাকার উন্নয়ন আর রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির জোরেই জঙ্গলমহল শান্ত। ২০১২ সালের পর থেকে কোনও মাওবাদী আক্রমণ রাজ্যে ঘটেনি। নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনের ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের রাজ্যের থেকে পাওয়া লিখিত রিপোর্টে সন্তুষ্ট কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার লিখিতভাবে জানিয়েছে, মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল, তাদের বেশিরভাগকেই জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এলাকায় হয়েছে রাস্তা, উদ্যোগ বেড়েছে বিনিয়োগের। অজ গাঁয়েও পৌঁছেছে বিদ্যুৎ। হয়েছে স্টেডিয়াম, তীরন্দাজ অ্যাকাডেমি। রাজ্য সরকার লিখিতভাবে কেন্দ্রকে জানিয়েছে, জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ নিয়োগ উদ্যোগে ২৯ হাজার জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রাক্তন মাওবাদীদের মধ্যে ১ হাজার ২০০ জনকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছে। মাওবাদীদের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে থেকেও একজন করে পেয়েছে স্পেশাল হোম গার্ডের চাকরি। 
কেন্দ্রের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ জানিয়েছে, রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছে বৈঠকে উপস্থিত তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে সি আর। রাজ্য জানিয়েছে, উন্নয়নমূলক কাজের ফলে জঙ্গলমহলে আপাতত মাওবাদীদের দলে নতুন কারও আসার খবর নেই। তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার সদা সজাগ। বিশেষত, ঝাড়খণ্ড আর ওড়িশা সীমানায়। বৈঠকে জঙ্গলমহলের জন্য আরও বেশি করে ব্যাঙ্কের শাখা খোলার আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাদের মতো করে মাওবাদী সংক্রান্ত যেসব গোপন তথ্য সংগ্রহ করে, তা রাজ্যের সঙ্গে ভাগ করলে উপকার হয়। এতে গোটা দেশের তথ্য জেনে  আগে থেকে ‘অ্যালার্ট’ হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে রাজ্য। 
মোট ১০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের থাকার কথা থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি এবং কেরলের পিনারাই বিজয়ন। তবে, নিজেরা উপস্থিত না হতে পারলেও প্রত্যেকেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।
বর্তমানে চালু থাকা মাওবাদী দমন অভিযানগুলি কোন পর্যায় রয়েছে, মাও-অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে কী উন্নয়নমূলক কাজকর্ম হচ্ছে, কোথায় কোথায় নিরাপত্তার ফাঁক থেকে যাচ্ছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রাজ্যগুলির কাছে জানতে চান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে রাস্তা, ব্রিজ, স্কুল, মোবাইলের টাওয়ার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির মতো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্যগুলির কোনও চাহিদা রয়েছে কি না, তাও জানতে চান অমিত শাহ। 

27th     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021