বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

অবশেষে দিল্লি ঢুকলেন কৃষকরা
যন্তরমন্তরে শুরু বিক্ষোভ-ধর্না

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পিছু হটতেই হল পুলিস ও প্রশাসনকে। দিল্লিতে প্রবেশ করেই ছাড়লেন আন্দোলনরত কৃষকরা। কেন্দ্রের কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে সংসদ ভবন থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে যন্তরমন্তরে মোদি বিরোধী অবস্থান-ধর্না বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করলেন কৃষকরা। সংসদের বাদল অধিবেশন যতদিন চলবে, ততদিন যন্তরমন্তরে এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিক্ষোভরত কৃষক সংগঠনগুলি। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছ’ঘণ্টা ধরে চলবে আন্দোলনকারীদের এই অবস্থান-ধর্না। তবে শুধুমাত্র ধর্না করেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না কৃষকরা। সংসদীয় রীতি মেনে যন্তরমন্তরে তাঁরা আয়োজন করছেন কিষান সংসদের। একইভাবে এদিন পশ্চিমবঙ্গেরও বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন কৃষকরা। এদিন সংযুক্ত কিষান মোর্চার অন্যতম সদস্য যোগেন্দ্র যাদব বলেছেন, ‘কিষান সংসদে একজন স্পিকার থাকছেন, ডেপুটি স্পিকারও থাকছেন, বিরতিও দেওয়া হচ্ছে। আমরা দেখিয়ে দেব, কীভাবে সংসদ চালাতে হয়।’ ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের শীর্ষ নেতা রাকেশ টিকায়েতের হুঁশিয়ারি, ‘সংসদ ভবন থেকে মাত্র শ’দেড়েক মিটার দূরে এখন আমাদের অবস্থান। এবার কৃষকদের আওয়াজ সরকারের কানে পৌঁছবেই।’
কেন্দ্র অবশ্য বৃহস্পতিবারও ফের কৃষকদের আন্দোলন থামিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলেছে। কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার বলেছেন, ‘সরকার  আলোচনা করতে প্রস্তুত। চাইলে আন্দোলনকারীরা কৃষি আইনের প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’ কৃষকরা অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিনা শর্তে কথা বলতে হবে তাঁদের সঙ্গে। একমাত্র কৃষি আইন বাতিল নিয়ে যদি কেন্দ্র কথা বলতে রাজি হয়, তাহলেই কৃষকরা আলোচনায় বসবেন। কেন্দ্রের উদ্বেগ বাড়িয়ে সংসদের চলতি অধিবেশনেও কৃষি আইন নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। বৃহস্পতিবার কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সংসদ চত্বরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধর্না দেয় কংগ্রেস। লোকসভাতেও কংগ্রেস এমপি অধীররঞ্জন চৌধুরীর নেতৃত্বে ওই দাবিতে সরব হন অন্য এমপিরা। উত্তাল হয় সংসদ। এই ইস্যুতে মুলতুবি প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
তবে কেন্দ্র আলোচনার প্রস্তাব দিলেও এদিন বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে  মন্ত্রী মীনাক্ষি লেখি বলেন, ‘কৃষকরা গুণ্ডামি করছেন। ওরা মাওয়ালি।’ এই মন্তব্য  কৃষকদের ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ এরপরই রাকেশ টিকায়েত বলেছেন, ‘আমরা কী, তা সরকার টের পাবে। আমরা জঙ্গি নই, গুণ্ডাও নই। আমরা অন্নদাতা।’ কৃষক নেতা শিবকুমার কাক্কার অভিযোগ, ‘সর্বভারতীয় কৃষক নেতৃত্বের ফোনেও আড়ি পেতেছে মোদি সরকার।’ অধিবেশন চলাকালীন আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন ২০০ জন করে কৃষককে যন্তরমন্তরে অবস্থান-কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার অনুমতি দিয়েছে দিল্লি পুলিস। এদিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়। মূল অবস্থান মঞ্চের আগেই ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। এমনকী মিডিয়ার প্রবেশেও বাধা সৃষ্টি করা হয়। প্রায় তিন হাজার পুলিস মোতায়েন করা হয় দিল্লির সীমানাগুলিতে। কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নেয় দিল্লি-উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর, দিল্লি-হরিয়ানার সিংঘু, তিক্রি সীমানা। পুলিস তাঁদের সঙ্গে চরম অসহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করে কৃষক নেতৃত্ব।
যন্তরমন্তরে কৃষকদের পাশে অভিনেত্রী সোনিয়া মান। ছবি: পিটিআই

23rd     July,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021