বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

দলেই বিদ্রোহ, উত্তরাখণ্ডের
বিজেপি সরকার চরম সঙ্কটে

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: উত্তরাখণ্ডে বিজেপি সরকার চরম সঙ্কটে। সরাসরি নিজেদের দলের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই এখানে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন বিজেপি বিধায়কদের সিংহভাগ অংশ। দলের অন্দর থেকেই দাবি উঠেছে, মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতকে অবিলম্বে সরাতে হবে। আগামী বছর উত্তরাখণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে একঝাঁক বিধায়ক দলত্যাগের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। এই বিধায়কদের অনেকেই কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে এসেছিলেন। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে টানাপোড়েন। পরিস্থিতি এতই সঙ্কটজনক যে, সোমবার বিকেলে ডেকে পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। দিল্লিতে হাজির হয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। তবে সঙ্কট কাটার দিশা তাতে মেলেনি। বিদ্রোহী অংশের বক্তব্য পরিষ্কার, আগামী বছর নির্বাচনের আগেই ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতকে সরিয়ে দিতে হবে। 
রাজ্যের সিংহভাগ বিধায়ক জানিয়েছেন, ত্রিবেন্দ্রর নেতৃত্বে সরকার চালানো, কিংবা আগামী বছর ভোটের লড়াইয়ে নামা সম্ভব নয়। তাঁর জায়গায় অবিলম্বে সতপাল মহারাজ অথবা রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ককে মুখ্যমন্ত্রী পদে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরব হয়েছেন পরিষদীয় দলের অধিকাংশ সদস্য। বিজেপির বিধায়কদের বক্তব্য, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা নেই। প্রশাসনিকভাবেও তিনি দুর্বল। এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাঁর নেতৃত্বে ভোটের লড়াইয়ে নামলে বিজেপির আবার সরকারে ফেরা কঠিন।
উত্তরাখণ্ডে বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের পরিবর্তে ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতকে মুখ্যমন্ত্রী করার কারণই ছিল গোষ্ঠীকোন্দল থেকে বাঁচা। ত্রিবেন্দ্রর বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই। নতুন প্রজন্মের নেতা। সেই কারণেই তাঁকে তুলে আনা হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যেই তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অসন্তোষ। 
একইসঙ্গে বিজেপির কাছে বড় উদ্বেগ আম আদমি পার্টির উত্থান। দিল্লি, পাঞ্জাবের পর এবার অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল উত্তরাখণ্ডেও ক্রমে প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তারের আভাস দেখাচ্ছে। বিজেপির শীর্ষ স্তরের নেতা রামন সিংয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটিকে সম্প্রতি পাঠানো হয়েছিল উত্তরাখণ্ডে। সেখানে বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে রামন সিং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে রিপোর্ট দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দলের মধ্যে বিদ্রোহ তুঙ্গে। তাই এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সেই সুপারিশের পরই মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতকে ডেকে পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে। জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে, তাঁকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হতে পারে। 
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে ভোট। এখন থেকেই ওই দুই রাজ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজেপি। কারণ, কৃষকদের আন্দোলন। সরাসরি এই দুই রাজ্য থেকে কৃষকরা দিল্লি সীমানায় গিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সেই প্রভাব আগামী বছরের ভোটে যাতে না পড়ে, সেই প্রয়াসে মরিয়া বিজেপি। দক্ষিণ ভারতে কর্ণাটক ছাড়া আর কোনও রাজ্যেই নরেন্দ্র মোদির পার্টি ক্ষমতায় নেই। উত্তর ভারতে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ দখলে রয়েছে। এই অবস্থায় ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে ফলাফল খারাপ হলে বিজেপির ভাবমূর্তি চরম ধাক্কা খাবে। আর তা হবে লোকসভা ভোটের ঠিক দু’বছর আগে।

9th     March,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
10th     April,   2021