বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

কর্পোরেটকে ছাপিয়ে ব্যক্তিগত আয়কর, 
মোদির রাজকোষ ভরাচ্ছেন মধ্যবিত্তরাই

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মূল্যবৃদ্ধি থেকে ইএমআই—চাপ বেড়েই চলেছে। আর্থিক বোঝায় সবথেকে বেশি কাহিল আম জনতা। অথচ তারাই ভরাচ্ছে মোদি সরকারের রাজকোষ। কর্পোরেট নয়, করদাতা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা এব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকায়। বলছে খোদ সরকারি পরিসংখ্যানই। দেখা যাচ্ছে, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম সাত মাসে মোট ট্যাক্স আদায় প্রায় রেকর্ড গড়ার জায়গায়। প্রত্যক্ষ কর আদায় বেড়েছে ১১ শতাংশের উপর। আর এই প্রবণতায় তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য, কর্পোরেট করের তুলনায় ব্যক্তিগত আয়কর বৃদ্ধির হার বেশি। সোজা কথায়, প্রতি আর্থিক বছরে ট্যাক্স সংগ্রহের হার যে পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, সেই শতকরা হিসেবে কর্পোরেটদের হারিয়ে দিয়েছেন সাধারণ করদাতারা। ব্যক্তিগত আয়কর সংগ্রহ বৃদ্ধির হার বর্তমানে প্রায় ১৮ শতাংশ। কর্পোরেট করের ক্ষেত্রে তা ১৬ শতাংশের সামান্য বেশি। অর্থাৎ, সাধারণের উপর বোঝা বাড়িয়েই যে কেন্দ্র পকেট ভরছে, বিরোধীদের এই অভিযোগ কার্যত প্রমাণিত।
অর্থমন্ত্রক আগেই জানিয়েছে, ২০২১ সালের তুলনায় চলতি বছরের ট্যাক্স রিটার্নের পরিমাণ অনেক বেশি। আয়কর দাতার সংখ্যাও বাড়ছে। তাদের হিসেবে, এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমায় প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা প্রত্যক্ষ কর আদায় হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোদি সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ২১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। আর্থিক ঘাটতি সাড়ে ৭ লক্ষ কোটি টাকা। প্রত্যক্ষ করের পাশাপাশি আয়ের অন্যতম উপকরণ নন ট্যাক্স রেভিনিউ। অর্থাৎ, কর বহির্ভূত আয়। কিন্তু সেটাই এখন উদ্বেগ বাড়িয়েছে অর্থমন্ত্রকের। কারণ, বিপুলভাবে কমে চলেছে এই নন ট্যাক্স রেভিনিউ। অর্থাৎ অন্যান্য উপায়ে রাজস্ব বৃদ্ধির যে যে মাধ্যম রয়েছে, যাবতীয় ক্ষেত্রে ব্যর্থ মোদি সরকার। 
প্রধানত বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান বাবদ সরকার যে টাকা অথবা সেস আদায় করে, সেটাই নন ট্যাক্স রেভিনিউ। এই খাতে কেন্দ্রের আয় কমেছে ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের দেওয়া করই এখন আশা ভরসা। সে আয়করই হোক, বা সিজিএসটি কিংবা সেস। কিন্তু মধ্যবিত্তের এইভাবে কেন্দ্রের পাশে দাঁড়ানোর পাল্টা স্বীকৃতি হিসেবে কোনও উপহার দেওয়া হচ্ছে না। একের পর এক বাজেট এসেছে এবং চলে গিয়েছে, আয়করের বোঝা কমানো হয়নি। ইতিমধ্যে সেই দাবিতে সরব হয়েছে বাণিজ্যমহলও। সম্প্রতি আবার তারা অর্থমন্ত্রককে চিঠি লিখে বলেছে, আয়করের সামান্য সুরাহা হলে মধ্যবিত্তের হাতে টাকা আসবে। ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। পরোক্ষে তা চাঙ্গা করবে অর্থনীতিকেই। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতেই দ্বিতীয় মোদি সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে এবার অন্তত আয়করে উপহার পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছে মধ্যবিত্ত।

2nd     December,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ