বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

‘খিদে পেয়েছে’, গ্রামের
দাওয়ায় বসে আব্দার মমতার
খেলেন মোটা চালের ভাত-ট্যাংরার ঝোল

বিশ্বজিৎ মাইতি, হাসনাবাদ: গ্রামবাসীরা যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না! তাঁদের সামনে বসে অনভ্যস্ত হাতে যিনি চাটাই বুনছেন, তিনি আর কেউ নন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিস্ময়ের এখানেই অবশ্য শেষ নয়! চাটাই বুনতে বুনতে মণ্ডলবাড়ির মেয়েদের তাঁর প্রশ্ন, ‘দুপুরের খাওয়া হয়েছে?’ দেওয়াল ঘড়ির দিকে এক পলক দেখে নিয়ে নমিতা মণ্ডল বললেন, ‘না দিদি, খাইনি। একটু পরে খাব। আপনি খাবেন?’ উত্তর এল সঙ্গে সঙ্গেই, ‘খাব। দুপুরে এখনও খাইনি কিছু।’ বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে পল্লিবধূরা তখন চোখ চাওয়াচাওয়ি করছেন। নমিতা বললেন, ‘দিদি, আমাদের তো ভাত আর ট্যাংরা মাছের ঝোল হয়েছে। মোটা চালের ভাত আপনি খেতে পারবেন?’ মমতা বললেন, ‘কেন পারব না? খিদে পেয়েছে। দিন আমাকে খেতে!’
প্রাথমিক আড়ষ্টতা কাটিয়ে গ্রামবাসীরা ততক্ষণে যেন নিজেদের বড় দিদিকেই দেখছেন বাড়ির দাওয়ায়। ঝটপট এসে গেল স্টিলের থালায় ভাত, ওল-ট্যাংরার ঝোল। পাশেই বাড়ি কমলা মণ্ডলের। তাঁর হেঁসেল থেকে এল মেটে আলুর তরকারি আর রূপচাঁদা মাছের ঝাল। তৃপ্তি সহকারে ‘মধ্যাহ্নভোজ’ সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি যখন কলকাতার পথে, নমিতা-কমলাদের ঘোর তখনও কাটেনি। মুখে তাঁদের একটাই কথা, ‘কোথায় মুখ্যমন্ত্রী! ইনি তো দিদির মতোই সব আপন করে নিলেন। আমরা এখনও ভাবতেই পারছি না...!’ 
মমতাকে একবার চোখের দেখা দেখবেন। বুধবার তাই হাসনাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের খাঁপুকুরে এসেছিলেন অশীতিপর জয়ন্তী চক্রবর্তী ও হৃষীকেশ মণ্ডল। স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মাঠে কয়েকশো মানুষকে শীতবস্ত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃদ্ধ হৃষীকেশবাবুকে কাছে ডেকে কাঁধে চাদর জড়িয়ে দেন  নিজেই। আবেগে কেঁদেই ফেললেন বৃদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিকতা তাঁকে অভয় দিয়েছিল। বলে উঠলেন, ‘মা, এখানকার জল বড় লোনা। একটু খাবার জলের ব্যবস্থা করে দেবে!’ বৃদ্ধের সঙ্গে গলা মেলালেন ভিড়ের অনেকেই। হ্যান্ড মাইক টেনে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘এডিএম প্রীতি গোয়েলকে সুন্দরবনের চার্জ দেওয়া হচ্ছে। ওঁকে বলবো, সাত দিনের মধ্যে জলের ব্যবস্থা করতে হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে সব বাড়িতে নলবাহী জল পৌঁছে দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘বনবিবি সেতু করে দিয়েছি। নদীর পাড় ভাঙে বলে আমি নিজে দেখতে এসেছি। আমরা এ নিয়ে একটা মাস্টারপ্ল্যান কেন্দ্রীয় সরকারকে জমা দেব। আমি সড়ক পথে যাব। শুনেছি কিছুটা রাস্তা খারাপ আছে। ঠিক করে দেব।’ এর আগে মুখ্যমন্ত্রী টাকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়াদের জামাকাপড় ও টেডি বিয়ার (সফ্ট টয়) উপহার দেন। তারও ঘণ্টাখানেক আগে টাকি ফেরিঘাট থেকে লঞ্চে ওঠেন মমতা। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নদীপথে ইছামতী ও ডাঁসা নদীতে ঘোরেন তিনি। ভাঙন পরিস্থিতি ও বাঁধ মেরামতির কাজ দেখতে দেখতে জলপথে খাঁপুকুর আসেন। মুখ্যমন্ত্রী আসছেন খবর পেয়ে গ্রামে এবং নদীর পাড়ে ভিড় জমান বহু মানুষ। তাঁদের উদ্দেশে হাত নাড়েন মমতা। খাঁপুকুর ঘাটে নেমে তিনি সড়ক ও বাঁধ মেরামতের কাজ নিয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের কিছু নির্দেশ দেন। দিনভর মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে এলাকায় যে উন্মাদনা লক্ষ্য করা গিয়েছে, তাতে পঞ্চায়েত ভোটের মুখে বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছে শাসক শিবিরও। -নিজস্ব চিত্র

1st     December,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ