বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

‘ভেবেছিলাম সিগন্যাল আছে’
চাকরি হারালেন সেই ট্রেন চালক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার শিয়ালদহের দুর্ঘটনার জেরে চাকরি খোয়ালেন কারশেডগামী ট্রেনের চালক। শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শীলেন্দ্রপ্রতাপ সিং বলেন, রেলের আইন অনুযায়ী এই চরম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিগন্যাল না মানার শাস্তি পেয়েছেন এই চালক। এই বরখাস্ত ট্রেন চালকের নাম অভিজিৎকুমার প্রভাকর। ৩২ বছর বয়সি এই চালকের কাছে এদিন সান্টিং সিগন্যাল ভাঙার কারণ জানতে চান রেলকর্তারা। শিয়ালদহের ডিআরএমের দাবি, ওই চালক জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হয়েছিল সিগন্যাল রয়েছে’। এদিন দুর্ঘটনার পর তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। ডিআরএমের কথায়, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন না। তাও কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল, তার জন্য চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে। আগামী চার-পাঁচদিনের মধ্যে তারা রিপোর্ট পেশ করবে বলে জানিয়েছেন শীলেন্দ্রপ্রতাপ সিং।
তবে কি এই চালক অনভিজ্ঞ ছিলেন? জবাবে পূর্ব রেলের এক কর্তা বলেন, নিয়ম মেনেই কারশেডের ট্রেন চালানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন ওই চালক। কীভাবে ট্রেন চালকদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের ট্রেন চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা ব্যাখ্যা করেছেন ওই রেল কর্তা। তাঁর কথায়, চালক হওয়ার পরীক্ষায় পাশ করে প্রার্থীরা নিজ নিজ ডিভিশনে প্রথমে রিপোর্ট করেন। তারপর বেশ কিছু মাস তাঁদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই পর্ব সাফল্যের সঙ্গে শেষ করলে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পর্ব শুরু হয়। সেই সময় তাঁদের লোকো পাইলট বা লোকাল ট্রেনের চালকদের কেবিনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়। এই সময় তাঁরা পাইলটদের সহযোগী হিসেবে পাশে থেকে ট্রেন চালানোর কারিকুরি শিখে নেন। বহুদিন সেই কাজ করার পর তাঁদের ‘লোকাল সান্টিং’-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ খালি ট্রেনকে কারশেডে নিয়ে যাওয়ার কাজ পান তাঁরা। এদিনের দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনের চালক সেই দায়িত্বেই ছিলেন। সেই পর্ব মিটে গেলে চালকদের পণ্যবাহী ট্রেন চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই ‘কোর্স’ শেষ করলে সংশ্লিষ্টরা লোকাল ট্রেন চালানোর দায়িত্ব পান। সেই কাজ সাফল্যের সঙ্গে করলে ‘লোকো পাইলট’ হিসেবে পূর্ণতা অর্জন করে দূরপাল্লার ট্রেন চালানোর অধিকারী হন। কিন্তু এদিন ‘সান্টিং সিগন্যাল’ ফেল করায় অভিজিৎকুমার তাঁর চালক জীবনের বাকি ধাপগুলি শেষ করতে পারলেন না। বহুদিনের চেষ্টায় পাওয়া রেলের চাকরি হারালেন মুহূর্তে। এটাই ট্রেন চালকদের ভবিতব্য।
লাইন মেরামতির কাজ চলছে। -নিজস্ব চিত্র

1st     December,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ