বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

পোস্টকার্ডের শুভেচ্ছা এখন অতীত,
ভরসা সোশ্যাল মিডিয়া

সুকান্ত বসু, কলকাতা: মুঠোফোন আর প্রযুক্তির সীমাহীন দৌলতে হারিয়ে গিয়েছে বিজয়ার পোস্টকার্ড। আজ আর লাল কালিতে শ্রীশ্রী দুর্গা সহায় লেখা পোস্টকার্ড ডাকে আসে না। একটা সময় ছিল, যখন পুজোর পর আত্মীয়-স্বজনরা বিজয়ার প্রণাম, স্নেহাশিস জানিয়ে চিঠি পাঠাতেন। কোনও চিঠি আসত খামে, কোনওটা পোস্টকার্ডে। ডাক পিওন পাড়ায় ঢুকলেই অনেকে খোঁজ নিতেন তাঁদের কোনও চিঠি এসেছে কি না। এই দৃশ্য আজ অতীত। এখন সব প্রজন্মই বিজয়া সারে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক কিংবা মেসেঞ্জারে। যাঁদের স্মার্ট ফোন নেই, তাঁরা এসএমএস করেই সেই মহান দায়িত্ব পালন করে থাকেন। নিমেষে প্রাপকের কাছে চলে যায় শুভ বিজয়ার বার্তা। তবে এটা ঠিক যে, হাতে লেখা পোস্ট কার্ড মেলার অনুভূতিটাই আলাদা। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সুখস্মৃতি, ভালোবাসা, আন্তরিকতা। এ নিয়ে কী বলছেন বিশিষ্টরা।

অমিত চট্টোপাধ্যায় (অবসরপ্রাপ্ত বিচারক)
হলুদ রঙের পোস্ট কার্ড বা আকাশি রঙের ইনল্যান্ড লেটারে বিজয়ার চিঠির অনুভূতিটাই আলাদা। যা অন্য কিছুতে পাওয়া যায় না। বিচারকের দায়িত্ব পালন করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জেলায় কাজ করতে হয়েছে। বন্ধুবান্ধব, প্রিয়জনরা বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি পাঠাতেন। তবে কবে শেষ চিঠি পেয়েছি, তা আর মনে নেই। সেই আনন্দটাই যে মাটি হয়ে গিয়েছে। এখন স্মার্ট ফোনেই বিজয়ার শুভেচ্ছা বার্তা পাই। তাতে ঠিক মন ভরে না।

কাজল সুর (প্রবীণ বাচিক শিল্পী)
লাল কালি দিয়ে শ্রীশ্রী দুর্গা সহায় লেখা বিজয়ার চিঠি বাড়িতে এলে পড়ার পর তা যত্ন করে টেবিলের কাচের তলায় রেখে দিতাম। কোনও আত্মীয়ের হাতের লেখা মুক্তোর মতো, আবার কারও এবড়ো-খেবড়ো। কিন্তু সেই চিঠি বাড়িতে এলে একটা নস্টালজিয়া কাজ করত। যে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আজ সবই আছে। কিন্তু কোথায় যেন সেই ভালোবাসাটা উবে গিয়েছে।

রুমা দাশগুপ্ত (প্রবীণ যাত্রাশিল্পী)
বিজয়ার চিঠির কথা উঠলেই মনের ভিতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠত। এখন পুজোর পর ডাকঘরে পোস্ট কার্ড কেনার জন্য কোন লাইন চোখে পড়ে না। মাঝে মধ্যে কুরিয়ার সার্ভিসের লোকজন আসেন পার্সেল দিতে। ডাক পিওন নামক মানুষটি কেমন যেন হারিয়ে গেল। বিজয়ার চিঠি আমার কাছে লোভনীয় বস্তু ছিল।

জীবন মুখোপাধ্যায় (প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, ইতিহাস বিভাগ, বিদ্যাসাগর কলেজ)
বিজয়ার চিঠিতেই ফুটে উঠত বিভিন্ন পরিবারের নানা কথা। যার মূল্য অপরিসীম। কিন্তু যুগের প্রয়োজনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে তো মানতেই হবে, এটাকে অস্বীকার করব কী করে। তবে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বহু বিশিষ্ট মানুষের বিজয়া সহ নানা শুভেচ্ছা বার্তা পরবর্তী সময় বহু গবেষণামূলক গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। তাই লাল কালিতে লেখা বিজয়ার চিঠি এই বয়সেও মনকে নাড়া দেয়।

স্বামী সারদাত্মানন্দ (সাধারণ সম্পাদক, আলমবাজার মঠ)
এখন বিজয়ার যাবতীয় চিঠি আসে মঠের অফিশিয়াল ই-মেলে আর আর হোয়াটসঅ্যাপে। ঝাঁকে ঝাঁকে আসে শুভেচ্ছা বার্তা, অর্ধেকের তো উত্তর দেওয়াই সম্ভব হয় না। অতীতে বিভিন্ন জেলা থেকে বিজয়ার শুভেচ্ছা বার্তা আসত পোস্টকার্ডে। এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা এলেও তাতে প্রাণ খুঁজে পাই না। বিজ্ঞানকে অস্বীকার করার অর্থ, কয়েক যোজন পিছিয়ে যাওয়া।

7th     October,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ