বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

দালালরাজ ভেঙে হয়রানি কমাতে
প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেটও অনলাইনে

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: কিছুদিন আগেই জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়। স্বাস্থ্যদপ্তরের এই উদ্যোগে কমেছে মানুষের হয়রানি। এবার প্রতিবন্ধী (বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের) শংসাপত্রও অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে ই-গভর্ন্যান্সে যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য। স্বাস্থ্যভবনের শীর্ষ মহল সূত্রের খবর, এজন্য পৃথক পোর্টাল চালু হতে পারে। গত কয়েক মাসে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকে বসেন বিভিন্ন পর্যায়ের আধিকারিকরা। শীঘ্রই এই প্রকল্প শুরু হতে পারে। তার জন্য সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সমস্ত সিএমওএইচ’কে প্রস্তুত থাকার সঙ্কেত দেন শীর্ষকর্তারা। 
দপ্তর সূত্রের খবর, এক ঢিলে দুই পাখি মারার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। (এক), প্রতিবন্ধী শংসাপত্র করিয়ে দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে বহু জেলায় দালালরাজ ও অসাধুচক্র সক্রিয়। সেই দুষ্টচক্র ভাঙা যাবে। (দুই), সরকারি হাসপাতালের কোন বিভাগে, কবে ডাক্তার দেখানো যাবে, সেই খোঁজখবর নেওয়া থেকে প্রতিবন্ধী কার্ড হাতে পাওয়া—এর মাঝে চার-পাঁচটি ধাপ রয়েছে। সার্টিফিকেটে অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে দু-একটি ধাপ ছাড়া বাকিগুলির ক্ষেত্রে হয়রানি কমবে। 
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সেন্ট্রাল মেডিক্যাল বোর্ড সূত্রের খবর, চোখ, কান, নিউরো, অর্থো, মানসিকসহ নানা ক্ষেত্রে কে কতটা বিশেষভাবে সক্ষম, তা যাচাই করতে প্রথমে এলাকা/পুরসভা/গ্রাম পঞ্চায়েত নির্ধারিত সরকারি হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট সমস্যা দেখাতে হয়। সমস্যা আছে মনে হলে চিকিৎসকরা জরুরি পরীক্ষা করিয়ে আনতে বলেন। যেমন ইএনটি’র ক্ষেত্রে অডিওমেট্রি, বেরা ইত্যাদি। অর্থোর ক্ষেত্রে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই প্রভৃতি। রিপোর্টে শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতার অভাব প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সেই মানুষটিকে মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে হাজির হওয়ার ছাড়পত্র দেন। এরপরই মেডিক্যাল বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা এতদিনে দেখানো চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে কে, কত শতাংশ বিশেষভাবে সক্ষম, তা নির্ধারণ করে সার্টিফিকেট দেয় (ন্যূনতম ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হলে তবেই সরকারি সার্টিফিকেট মেলে)। সেই সার্টিফিকেট নিয়ে সুনির্দিষ্ট সরকারি অফিস গেলে তখন মেলে বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ার কার্ড (যেমন সল্টলেকের উপান্ন)। এতগুলি ধাপ সম্পূর্ণ করতে করতে বহু জায়গায় জুতোর সুখতলা ক্ষয়ে যাওয়ার অবস্থা হয় মানুষটির। সেই সুযোগই কাজে লাগায় দালালরা। 
স্বাস্থ্যকর্তারা জানান, অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে শুধুমাত্র ডাক্তার দেখানো ও মেডিক্যাল বোর্ড অংশ বাদে বাকি ক্ষেত্রে হাসপাতালে হাসপাতালে ছোটাছুটির দরকার পড়বে না। যদিও বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের একাংশের মত, সুচারুভাবে অনলাইন সিস্টেম চালু না-হলে নয়া পদ্ধতিতে হয়রানি কমার থেকে উল্টে বাড়তে পারে। তাছাড়া অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার ক্ষেত্রে সকলে সড়গড় নাও হতে পারেন। 

7th     October,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ