বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায়ী সেজে
উত্তরবঙ্গে ঘাঁটি পাকিস্তানি গুপ্তচরের
পাকড়াও করল এসটিএফ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালিম্পং, কার্শিয়াং, মালদহ সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যের ব্যবসা ছিল পীর মহম্মদের। ক্রেতাদের জন্য সহজ কিস্তিতে জিনিস কেনার ব্যবস্থাও করে দিতেন তিনি। তবে এইসবই ছিল নিজেকে আড়াল করার ‘পর্দা’। তার আড়ালে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) হয়ে চরবৃত্তি। উত্তরবঙ্গে সেনাবাহিনীর গতিবিধির ছবি তুলে পীর মহম্মদ পাঠাতেন পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডিতে। গুরুত্বপূর্ণ নথি জোগাড় করেও পাঠাতেন। এসব তথ্য পাচার করে মোটা টাকা কামাই হতো। সূত্রের খবর, প্রতি নথির জন্য কয়েক হাজার টাকা পেতেন তিনি। গত দু’বছর ধরে আইএসআইয়ের হয়ে এই কর্মকাণ্ড চালানোর পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়লেন ৩৯ বছর বয়সি পীর মহম্মদ ওরফে সমীরদা।
সূত্রের খবর, ২০২০ সালে সোশ্যাল মাধ্যমে এক আইএসআই এজেন্টের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। তারপর নেপালে তাঁরা দেখাও করেন। সেই এজেন্টেই পীরকে আইএসআইয়ের গুপ্তচর হিসাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। সেই ব্যক্তি পীরকে বলেন, উত্তরবঙ্গে সেনাবাহিনীর গতিবিধির খবর সরবরাহ করতে। এরপর নেপালে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও যোগ দেন পীর। পুলিসের অনুমান, সেখানেই তাঁর মগজ ধোলাই করা হয়। সূত্রের খবর, রাওয়ালপিণ্ডিতে আইএসআইয়ের এক বড়কর্তার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল পীরের। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পর্যন্ত ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে পাকিস্তানে ওই কর্তার সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেছেন তিনি। 
কীভাবে খোঁজ মিলল এই গুপ্তচরের? দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে যোগাযোগ করছেন যে বা যাঁরা, এমন ফোনগুলির উপর নিয়মিত নজরদারি চলে। দেখা যায়, পীরের ফোন থেকে রাওয়ালপিণ্ডির দু’টি নম্বরে নিয়মিত কল যাচ্ছে। সন্দেহের সূত্রপাত এখান থেকেই। এর ভিত্তিতে এসটিএফকে খোঁজ নিতে বলা হয়। প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পরেই পীরকে গত ২০ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়িতে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর সমস্ত নথিপত্র নিয়ে তাঁকে ফের ২৩ তারিখ আসতে বলা হয়। এর মধ্যে এসটিএফের হাতে পীরের ফোন কলের যাবতীয় বিবরণ চলে এসেছে। পীরকে জিজ্ঞেস করা হয়, এই তথ্য ও ছবি তিনি কেন পাঠিয়েছেন? সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ফোন ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়। শনিবার কালিম্পং আদালতে তাঁকে তোলা হলে বিচারক ১০দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 
প্রশ্ন উঠছে, সেনাবাহিনীর গতিবিধির ছবি পীর কীভাবে হাতে পেলেন? সূত্রের খবর, সোশ্যাল মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলেন। সেই সূত্রেই তিনি খবরাখবর পেয়ে যেতেন। এই গোটা ঘটনার সঙ্গে সেনাবাহিনীর কেউ জড়িত কি না, সেই দিকটাও খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। পাশাপাশি রাওয়ালপিণ্ডিতে আইএসআইয়ের কোন কোন বড় মাথার সঙ্গে পীর নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, সেই বিষয়টিও তাঁকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন এসটিএফের আধিকারিকরা।

25th     September,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ