বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

অনুব্রতর দ্বিতীয় সায়গলের খোঁজ
সিবিআইয়ের নজরে বীরভূমের এক ইনসপেক্টর

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সিবিআইয়ের সৌজন্যে অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের কীর্তিকলাপ এখন অনেকেরই জানা। তবে সায়গল একা নয়। খোঁজ মিলেছে দ্বিতীয় সায়গলের। তিনি বীরভূমের এক পুলিস ইনসপেক্টর। একই দক্ষতায় তিনিও নিয়ন্ত্রণ করেন গোরু, কয়লা, বালি মাফিয়াদের। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তকারীরা জেনেছেন, তাঁর ফোন থেকেই জেলার বিভিন্ন পুলিস অফিসারের কাছে ‘নির্দেশ’ যেত। ওই ইনসপেক্টর তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কথামতো ‘পরিষেবা’ দিতেন। হেফাজতে থাকা সায়গলের ফোনের ‘কল ডিটেইলস’ পরীক্ষা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি সিবিআইর। অনুব্রতর সঙ্গে ওই পুলিস অফিসারের সংস্রব কতটা গভীরে, লেনদেনের কী হিস্যা ছিল—এসব তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। তাঁর নামে-বেনামে থাকা সম্পত্তির পরিমাণ কত, তা নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ডেকে পাঠানোর তোড়জোড়ও চালাচ্ছে সিবিআই। যদিও অনুব্রতবাবুর আইনজীবীরা সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।  
গোরু পাচারকাণ্ডে সায়গল হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। নামে-বেনামে থাকা বিপুল সম্পত্তি, অনুব্রতর কাছে তিনি যে টাকা পৌঁছে দিতেন, তা উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। কিন্তু কীভাবে পাওয়া গেল এই পুলিস অফিসারের নাম? সায়গল এবং অনুপ মাজি ওরফে লালার ‘কল ডিটেইলস’ থেকে তদন্তকারীরা প্রথমে ১০টি ফোন নম্বর পৃথক করেন। দেখা যায়, ওই নম্বরগুলি থেকে বারবার ফোন এসেছে লালা ও সায়গলের মোবাইলে। নম্বরগুলি কার বা কাদের, তা খোঁজ করতে গিয়ে সিবিআই জানতে পারে, সবক’টি নম্বর ব্যবহার করেন জেলায় কর্মরত এক পুলিস ইনসপেক্টর। তাঁর কথা ইতিমধ্যে লালাও ইডিকে জানিয়েছেন তাঁর বয়ানে। ওই বয়ানের নথিও সিবিআইয়ের হাতে এসে গিয়েছে। 
সায়গলের মতো ওই ইনসপেক্টরও গোরু, কয়লা, পাথর ও বালির কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। গাড়ি পিছু পাঁচ হাজার টাকা তোলা ধার্য করেছিলেন। এই তথ্য লালাই ইডিকে দিয়েছেন। সপ্তাহে আড়াই কোটি টাকা উঠত গোরু, কয়লা, পাথর ও বালির লরি থেকে। এই টাকা ওই ইনসপেক্টর সরাসরি অনুব্রতর বাড়িতে পৌঁছে দিত। এরপর সেই টাকা দু’ভাগে ভাগ হতো। অভিযোগ, গোরু ও কয়লার টাকা নিতেন সিবিআইয়ের জেরার মুখে পড়া টুলু মণ্ডল। আর বালি ও পাথরের টাকা ওই অফিসার পৌঁছে দিতেন আব্দুল কেরিম মণ্ডলের কাছে। তিনিও ইতিমধ্যে সিবিআই জেরার মুখোমুখি হয়েছেন। টুলু ও আব্দুল কেরিম এই টাকার একটা নির্দিষ্ট অংশ অনুব্রতর কাছে জমা দিয়ে বাকিটা নিজেদের কাছে রেখে দিতেন। তাতেই তাঁদের বিপুল সম্পত্তি ও বিলাস-বৈভব বলে দাবি সিবিআইয়ের। দুই তদন্তকারী সংস্থার দাবি, টুলু মণ্ডল প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মালিক। অনুব্রতর বেঁধে দেওয়া অঙ্কের বাইরে যে টাকা থাকত, তা ওই দু’জন ভাগ বাঁটোয়ারা করে নিতেন। যদিও দু’জনের আইনজীবী দাবি করেছেন, সিবিআই মিথ্যা অভিযোগ করছে। 
সিবিআইয়ের আরও দাবি, অনুব্রত, টুলু এবং কেরিমের এই বিপুল অবৈধ টাকার একটা বড় অংশ বীরভূমের এক রাইস মিল মালিকের কাছে চলে যেত। সেই মালিকের নামে ১৫টি রাইস মিল আছে। ওই ব্যবসায়ীর ঝাড়খণ্ডেও কারবার রয়েছে। রাইস মিলগুলির পাশাপাশি সেখানেও এই ‘কালো’ টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। শীঘ্রই ওই মিল মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই ডাকবে বলে জানা গিয়েছে। 

15th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ