বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

জোড়াসাঁকো দাঁ বাড়ির দুর্গা প্রতিমা। শনিবার সায়ন চক্রবর্তীর তোলা ছবি। 

ইতিহাস মনে রাখেনি শহিদ নলিনীকে
স্বাধীনতা উৎসবের প্রাক্কালে বিস্মৃত এক
তরুণ বিপ্লবী ফিরছেন তথ্যচিত্র হয়ে

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা : নলিনী বাগচিকে মনে আছে? ইতিহাসের পড়ুয়া না হলে, স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপন প্রাক্কালেও অনেকেই হয়ত বলবেন, কে তিনি? অথচ তাঁর নাম সেই পঙতিতে বসতে পারত, যেখানে শহিদ সম্মানে অমরত্ব পেয়েছেন ক্ষুদিরাম বসু, সূর্য সেন, বাঘাযতীন বা বিনয়, বাদল, দীনেশরা। নলিনী বাগচিকে সেভাবে মনে রাখেনি ইতিহাস। মাত্র ২২ বছর বয়সে ব্রিটিশ প্রশাসনের মাইনে করা বাঙালি পুলিসের হাতে খুন হয়েছিলেন তিনি। এই শহিদের আত্মত্যাগকে ভুলতে বসেছে তাঁর আপন দেশ মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানও। স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবের আগে তিনি শেষপর্যন্ত ফিরলেন তথ্যচিত্র হয়ে। বাঙালিকে তার বিস্মৃত ইতিহাসের কথা একবার মনে করিয়ে দিলেন ধুলিয়ানেরই এক ভূমিপুত্র সুমিত ঘোষ। তিনিই নলিনী বাগচিকে নিয়ে তৈরি করেছেন একটি তথ্যচিত্র।
পরাধীন ভারতে অনুশীলন সমিতি বা যুগান্তরের মতো গুপ্ত সমিতিগুলিতে নাম লেখাতেন তরুণরা। এরকমই এক তরুণ নলিনী। ছোট থেকে তিনি অত্যন্ত মেধাবী এবং ততটাই রুগ্ন। ডাক নাম ছিল পচা। ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলার বাসিন্দা নলিনী ১৯১৩ সালে পাকুড় হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় বসেন ও  চতুর্থ হন। ২০ টাকা জলপানি নিয়ে ভর্তি হন বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে। এই কলেজ তৎকালীন সময়ে বিপ্লবের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত ছিল। স্যার এডওয়ার্ড মন্টেগু হুইলার নামে এক সাহেব ছাত্রদের দেশপ্রেমের দীক্ষা দিতেন। এই শিক্ষা উদ্বুদ্ধ করল নলিনীকে। প্রসঙ্গত এই কলেজেই পড়াশোনা করেছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন।
দীক্ষার পর স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নলিনী অনুশীলন সমিতিতে নাম লেখালেন। শুরু করলেন বিহারে সংগঠন গড়ার কাজ। বুড়িবালামের যুদ্ধের কথা এখনও নিশ্চয় মনে রয়েছে সবার। সেই যুদ্ধের পর ইংরেজরা ধড়পাকড় এবং অত্যাচার ক্রমশ বাড়িয়েছিল। তখন তৎকালীন গৌহাটিতে গা ঢাকা দেন নলিনী। ১৯১৬ সালের অক্টোবর থেকে পুলিসের খাতায় ফেরার হিসেবে নথিভূক্ত ছিলেন। গল্প অন্য দিকে বাঁক নিল এক প্রবল শীতের রাতে। সোর্স মারফত খবর পেয়ে সেই রাতে নলিনীর গোপন আস্তানা ঘেরাও করে ইংরেজদের বেতনভূক পুলিস। গুটিকয়েক দেশি রাইফেল আর কার্তুজে পুলিসবাহিনীকে ঘায়েল করা সম্ভব ছিল না। তবে প্রবল দক্ষতায় উর্দিধারীদের বেড়া ভেঙে পালান নলিনী। এবং গোপনে বাড়াতে থাকেন সংগঠন। সাধারণ কর্মী থেকে পদোন্নতি হয়ে প্রভিন্সিয়াল অর্গানাইজার হিসেবে সমিতিতে স্বীকৃতি পান। এরপর ঢাকায় গা ঢাকা দেন। কিন্তু সেই বাসস্থানে এস পি বসন্ত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হানা দেয় পুলিস। এবার শেষ রক্ষা হয়নি। ১৯১৮ সালের ১৫ জুন কিংবা অন্য একটি তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুন, পুলিস গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় তরুণ নলিনীকে। তখন অবশ্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। সেখানে তাঁর পরিচয় জানতে নতুন করে অত্যাচার শুরু করে পুলিস। কিন্তু তিনি কে? সে বিষয়ে একটিবারও রা কাড়েননি নলিনী। শেষপর্যন্ত ওই হাসপাতালেই তিনি মারা যান। নলিনীর সেই বিস্মৃত ইতিহাস তুলে ধরতেই ক্যামেরা ধরেছেন সুমিতবাবুরা।
রাজ্য সরকারের আর্কাইভ বিভাগের কর্তা সুমিত ঘোষের কথায়, ধুলিয়ানে আমাদের বাড়ির পাশেই থাকতেন নলিনী বাগচিরা। ছোট থেকে তাঁর মূর্তি দেখে এসেছি। কিন্তু ওইটুকুই। মৃত্যুশয্যায় পুলিসের প্রবল অত্যাচারের পরও তিনি বলেছিলেন, ‘স্টপ ডগ। ডোন্ট ডিস্টার্ব মি। লেট মি ডাই ইন পিস’। মূর্তির গায়ে লেখা সেই কথাগুলি আমরা আওড়াতাম। কিন্তু মর্ম বুঝিনি কখনও। মুর্শিদাবাদের প্রথম শহিদকে নিয়ে রাজ্যে তেমন কোনও আলোচনা হয়নি কখনও। আমার মনে হয়, হওয়া উচিত ছিল। আর্কাইভ ঘেঁটে যেটুকু তথ্য মিলেছে, তা দিয়েই তথ্যচিত্র তৈরি করেছি। চেয়েছি, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে আরও একবার আলোকিত হোক বিস্মৃত এক বঙ্গসন্তানের বীরগাথা।

14th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ