বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

জোড়াসাঁকো দাঁ বাড়ির দুর্গা প্রতিমা। শনিবার সায়ন চক্রবর্তীর তোলা ছবি। 

অনুব্রতর আয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি সিবিআইয়ের 
দিনে ৩০ লাখ!

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা : ছিলেন সামান্য মাছ ব্যবসায়ী। দিনের শেষে রোজগার বলতে জুটত মাত্র ৫০-৬০ টাকা। মাছ ছেড়ে পুরোদস্তুর রাজনীতির কারবারি হয়ে উঠতেই বদলে যায় ছবিটা। লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে অনুব্রত (কেষ্ট) মণ্ডলের আয়। তারপর ক্ষমতার শিখরে পৌঁছতেই রোজগারের বহর যেখানে গিয়ে দাঁড়ায়, তা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। দিনে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা! গোরু-কয়লা পাচার থেকে বেআইনি বালি-পাথর খাদান—বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা থেকে এই টাকা জমা পড়ত ‘কেষ্টদা’র তহবিলে। বীরভূমের ‘মুকুটহীন সম্রাট’-এর কাছে অর্থের জোগানের তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে সিবিআইয়ের হাতে। তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ টাকার একটা অংশ ‘দানধ্যানে’ খরচ করতেন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি। বাকিটা জমা থাকত সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দেহরক্ষী এবং এক বিধায়কের কাছে। অনুব্রতকে গ্রেপ্তারের পর ওই বিধায়কই এখন সিবিআইয়ের নজরে। তাঁর বিরুদ্ধে নথি জোগাড়ের কাজ চলছে। তা শেষ হলেই তলব করা হবে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রের খবর।
গোরু পাচারের তদন্তে নেমে অনুব্রতর আয়ের উৎস নিয়ে ইতিমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করে ফেলেছে সিবিআই। বেনামে থাকা সম্পত্তির নথিও এখন তাদের হাতে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পাচার হওয়া গোরু পিছু আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা ‘কমিশন’ ধার্য করে দিয়েছিলেন কেষ্ট। ঈদ-মহরমের মরশুমে তা বেড়ে দাঁড়াত পাঁচ থেকে ছ’হাজারে। আবার কয়লার ক্ষেত্রে গাড়ি পিছু ১০ হাজার টাকাই ছিল ‘ফিক্সড রেট’। এই নজরানা না দিয়ে গোরু বা কয়লা কোনওটাই পাচার করা যেত না। অফিসারদের দাবি, টাকা তোলার জন্য দু’ধরনের ব্যবস্থা ছিল। এক, ইলামবাজারের পশুহাটের মালিক অনুব্রত ঘনিষ্ঠ আব্দুল লতিফ খানের মাধ্যমে। গোরু পাচারকারীদের কাছ থেকে তোলা তুলে তিনি পৌঁছে দিতেন বীরভূমে। আর দুই, পাচার পথের সমস্ত থানাকে দিতে হতো নজরানা। 
তদন্তে উঠে এসেছে বীরভূম হয়ে গোরু পাচারের ‘রুট’-এর তথ্যও। জানা যাচ্ছে, দু’টি পথ ছিল। একটি মাড়গ্রাম থেকে জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, লালগোলা হয়ে বাংলাদেশ। অপরটি ইসলামপুর-রানিনগর ঘুরে। এর বাইরে আরও কিছু ‘রুট’-এ গোরু যেত বাংলাদেশে। মোট ২৭টি থানা এলাকাজুড়ে ছিল এই সব পথ। প্রতি ক্ষেত্রেই পুলিসের সঙ্গে ‘মাসিক বন্দোবস্ত’ করে ফেলেছিল চোরাচালানে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। এক একটি থানার জন্য মাসে বরাদ্দ থাকত ৬০-৭০ লক্ষ টাকা। অবশ্য মুর্শিদাবাদে সীমান্তের দু’টি থানা ব্যতিক্রম। সেখানে ভেট দিতে হতো মাসে এক কোটি টাকা। বালি, পাথর এবং কয়লার ক্ষেত্রে একইভাবে বিভিন্ন রেট বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। রাইস মিল পর্যন্ত বাদ যায়নি। সবটাই বীরভূমের ‘কেষ্টদা’র বদান্যতায়।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলাগামী গোরু, কয়লা, বালি ও পাথরভর্তি গাড়ির নম্বর পাঠানো হতো অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গলের কাছে। পাচার পথ নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিস কর্তাদেরও তা আগাম জানিয়ে রাখতেন বীরভূমের ‘বাহুবলী’। এ কাজে ব্যবহারের জন্য সায়গলের কাছে ছিল ২২টি হ্যান্ডসেট। নেওয়া হয়েছিল ৫০টি সিম। মৃত অথবা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির নথি ব্যবহার করে সেগুলি সংগ্রহ করা হয় বলেই অভিযোগ। কললিস্ট ঘেঁটে সংশ্লিষ্ট জেলার ওসি-আইসিদের সঙ্গে ‘বাহুবলী’র ফোনালাপের তথ্য সামনে এসেছে। অফিসারদের দাবি, পাচার কারবার থেকে সংগৃহীত যাবতীয় অর্থ সংগ্রহ করতেন সায়গল। কেন্দ্রীয়ভাবে তা জমা পড়ত বোলপুরের ‘ডন’-এর ডেরায়। এই টাকা ‘খাটানো’র জন্য একাধিক কোম্পানি খোলা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।

13th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ