বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

নিজের গড়েই গ্রেপ্তার অনুব্রত
‘চলিয়ে, মা কা পারমিশন লে লিয়া’

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, আসানসোল এবং সংবাদদাতা, বোলপুর: অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন। আঁকড়ে থেকেছেন তাঁর চিরাচরিত বীরভূমের গড়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভাগ্য সদয় হল না। অবশেষে নিজের সেই ‘গড়’ থেকেই গ্রেপ্তার হলেন বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর কথায় ‘বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত’। তবে দুয়ারে সিবিআই আসা মাত্রই দোতলার ঠাকুরঘরে খিল এঁটে আরাধ্যা মা কালীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। ঘনিষ্ঠ এক বিধায়কের মাধ্যমে এখানে-ওখানে ফোন করে বাঁচার শেষ চেষ্টাও চালান। সাড়া মেলেনি। তৃণমূলের দাপুটে জেলা সভাপতিকে এমন অসহায় দেখেনি কেউ। চোখ ভাসছে জলে, মা কালীর কাছে প্রার্থনা করছেন... এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দাও মা। কিন্তু বিধি বাম। সেই ঠাকুরঘরেই বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছে গেল সিবিআই। প্রথমে চোটপাট, তারপর কিছুটা গাইগুঁই। সুর চড়ল আধিকারিকদের—‘অব চলিয়ে, কালী মা কা পারমিশন হামনে লে লিয়া।’ গুটিয়ে যান বীরভূমের বাহুবলী! সিবিআই আধিকারিক এবং সিআরপি জওয়ান পরিবৃত অবস্থায় যখন নীচে নামলেন, দৃশ্যত বিধ্বস্ত তিনি। চোখের কোণে জল চিকচিক করছে। পরনের হাল্কা হলুদ রঙের ফতুয়ার কলারে হাত এক সিবিআই অফিসারের। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সিবিআই হাজিরা দিয়ে যখন বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়িতে ফিরেছিলেন, হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক অভ্যর্থনা জানাতে হাজির হয়েছিলেন দোরগোড়ায়। স্লোগান উঠেছিল—অনুব্রত মণ্ডল জিন্দাবাদ। আর এদিন যখন অনুব্রত সিবিআই হেফাজতে যাচ্ছেন, তখন কর্মী-সমর্থক গুটিকয়। শুধু কানে এসেছে টিকাটিপ্পনি, আর ‘গোরু চোর, গোরু চোর’ রব। একেবারে ‘বাহুবলী’র দোরগোড়াতেই। 
সকালের এই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হয় বিকেলে আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত চত্বরে। কোর্টে ঢোকার সময় তো বটেই, ২০ আগস্ট পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে থাকার নির্দেশ শুনে অনুব্রত যখন গাড়িতে চাপছেন, তখনও সেই ‘গোরু চোর, গোরু চোর’ স্লোগান। কেষ্টদার সৌজন্যে বিরল এক দৃশ্য—‘রাম’ আর ‘বাম’ একযোগে গলা মেলাচ্ছিল একই স্লোগানে। তাঁকে অবশ্য পূর্ব অনুমান মতো আসানসোলে রাখা হয়নি। এদিন সন্ধ্যায় অনুব্রতকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সিবিআই। গন্তব্য? কলকাতা। ডানকুনির দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে রাত পৌনে তিনটে নাগাদ নিজাম প্যালেসে নিয়ে আসা হয় তাঁকে।
গোরুপাচার মামলায় বুধবার অষ্টমবারের জন্য সিবিআই হাজিরা এড়িয়েছিলেন অনুব্রত। দীর্ঘদিনের সঙ্গী ‘ফিসচুলা’কে অস্ত্র করে বাঁচার মরিয়া চেষ্টাও চালিয়েছিলেন। বুধবার সকালে প্রথমে বোলপুরের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসককে দিয়ে ‘বেড রেস্ট’ লেখানো এবং পরে এক বেসরকারি হাসপাতালের মালিককে ‘বুঝিয়ে’ অস্ত্রোপচারের চেষ্টাও চালান। কিন্তু বাধ সাধে সিবিআই। পিছিয়ে যান বেসরকারি হাসপাতালের ওই কর্ণধার। অপরদিকে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা সেরে ‘অপারেশন কেষ্ট’র আয়োজন তখন সম্পূর্ণ করে ফেলেছে সিবিআই। গভীর রাতেই সিবিআইয়ের এসপি (অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ) রাজীব মিশ্র এবং সুশান্ত ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বাছাই করা আধিকারিকদের দলটি পৌঁছে যায় বোলপুরে, রতনকুঠির অতিথিশালায়। সঙ্গে সিআরপির একঝাঁক জওয়ান। এদিন সকালে দুর্গাপুর থেকে চলে আসে সিআরপির আরও একটি বড় দল। সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ ২০টি গাড়ির কনভয় নিয়ে সিবিআই আধিকারিকরা পৌঁছে যান শহরের নিচুপট্টিতে কেষ্টদা’র প্রাসাদ সমান বাড়িতে। সঙ্গে পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে ১০০’র বেশি জওয়ান। ঘিরে ফেলা হয় বীরভূমের ‘বাহুবলী’র বাড়ি। শহরের নানা প্রান্তেও ছড়িয়ে দেওয়া হয় জওয়ানদের। নাকা চেকিংয়েও দেখা যায়, রাইফেল হাতে পাহারায় সিআরপি।
বেলা পৌনে ১০টা। অনুব্রতর বাড়িতে ঢোকেন সিবিআই আধিকারিকরা। বাড়ির নীচতলার অফিসঘরে ঢুকে যান তাঁরা। সেখানে তখন মোতায়েন ছিল অনুব্রতর সরকারি দেহরক্ষীরা। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, সিবিআই যাতে মূল বাড়িতে ঢুকতে না পারে, তার জন্য দরজায় তালা মেরে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল জেলা সভাপতির পিএসও চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এরপর দোতলায় পৌঁছে মোবাইল ফোনগুলি বাজেয়াপ্ত করে একটি ঘরে বাড়ির সবাইকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ততক্ষণে ঠাকুরঘরে খিল দিয়েছেন কেষ্টদা। বিস্তর টানাপোড়নের পর ধরা দেন তিনি। সকাল ১১টায় তাঁকে বাড়ির বাইরে বের করে আনে সিবিআই। কনভয় রওনা দেয় আসানসোলের দিকে। ততক্ষণে বোলপুরের বিভিন্ন প্রান্তে ঢাক বাজছে... চড়াম, চড়াম।  

12th     August,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ