বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

দ্বিধাবিভক্ত জরায়ুর দুই প্রকোষ্ঠে দুই সন্তান,
বিরল অস্ত্রোপচার শান্তিপুর স্টেট জেনারেলে

সুদেব দাস, রানাঘাট: দ্বিধাবিভক্ত প্রসূতির জরায়ু। পৃথক দুই প্রকোষ্ঠে দুই সন্তান। নদীয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এমনই এক প্রসূতিকে দেখে তাজ্জব ডাক্তাররা। এমন ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম। ডাক্তাররা জানাচ্ছেন, বিশ্বের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত মেডিক্যাল জার্নালে এ ধরনের মাত্র ১৬টি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। কাজেই শান্তিপুরের এই ঘটনা গোটা বিশ্বে ১৭তম ও ভারতবর্ষে প্রথম বলেই দাবি চিকিৎসকদের। সোমবার রাতে এই সঙ্কটজনক প্রসূতির সফল অস্ত্রোপচার করে নজির গড়ল শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। কাছেপিঠে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতাল থাকলেও, পলাশীপাড়া থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে শান্তিপুর হাসপাতালে প্রসূতিকে ভর্তি করেন তাঁর স্বামী। সিজারিয়ান ওটির পর এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন প্রসূতি। বর্তমানে মা ও যমজ সন্তানদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
পলাশীপাড়ার বাসিন্দা হাসিবুল শেখের সঙ্গে মামনি বিবির প্রায় পাঁচবছর আগে বিয়ে হয়। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে মামনি দু’বার সন্তান ধারণ করলেও তা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এরপর দেড় বছর আগে পলাশীপাড়ায় গাইনোকোলজিস্ট পবিত্র ব্যাপারীর কাছে চিকিৎসার জন্য আসেন ওই বধূ। বেশ কিছুদিন চিকিৎসার পর তৃতীয়বারের জন্য তিনি গর্ভবতী হন। এদিকে ওই ডাক্তারবাবু পলাশীপাড়া থেকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে বদলি হয়ে আসেন। কিন্তু ওই দম্পতি ডাঃ পবিত্র ব্যাপারীর কাছেই ডেলিভারি করাতে নাছোড়বান্দা। তাই কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতাল ছেড়ে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই প্রসূতিকে। 
বিষয়টি নিয়ে ডাঃ ব্যাপারী বলেন, পরীক্ষা করে দেখা যায় মহিলার জরায়ু দু’ভাগে বিভক্ত। পৃথক দু’টি প্রকোষ্ঠে দুই সন্তান রয়েছে। চিকিৎসার পরিভাষায় একে ‘বাইকরনুয়েট ইউনিকলিস ইউটেরাস’ বলা হয়। এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। তাই গর্ভাবস্থার নয়মাস শেষ করার পরই সিজারিয়ান ওটি কথা বলি। কিন্তু ওই পরিবার আমাকে ছাড়া অন্য কোথাও প্রসব করাতে নারাজ। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আমি শান্তিপুর হাসপাতাল সুপার ডাঃ তারক বর্মনকে জানাই। এরপরই আমরা সিদ্ধান্ত নিই প্রসূতিকে শান্তিপুর হাসপাতালে এনে সিজার করা হবে। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরল এই সিজারিয়ান ওটির জন্য তিন চিকিৎসকের একটি মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়। ওই টিমে গাইনোকোলজিস্ট ছাড়াও ছিলেন শিশু চিকিৎসক অরূপকুমার বসু ও অ্যানাসথেটিস্ট অভিজিৎ হালদার। তবে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে এ ধরনের সিজারিয়ান ওটি করতে কম ঝুঁকি পোহাতে হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, শান্তিপুর হাসপাতালে প্রসূতিদের জন্য বড় হাসপাতালগুলির মতো ম্যাটারনাল এইচডিইউ ও সদ্যজাতর জন্য নিউবর্ন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (নিকু) বা স্পেশাল নিউবর্ন কেয়ার ইউনিট (এসএন সিইউ) নেই। নেই ব্লাড ব্যাঙ্কও। তবে সমস্যা যাতে না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শান্তিপুরের কাছাকাছি রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল ও কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে এসএনসিইউ পরিষেবা রয়েছে। ফলে ওই রাতে প্রয়োজন হলে সদ্যজাতদের দ্রুত যাতে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়, সে ব্যবস্থা আগে থেকেই করা হয়েছিল। এছাড়া প্রসূতির জন্য ‘এ পজেটিভ’ ব্লাড গ্রুপের রক্ত জোগাড় করে রাখা হয়।
চিকিৎসকরা বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা সফল হতে পেরেছি। এজন্য হাসপাতালে ম্যাটারনিটি ওয়ার্ড ও ওটির স্টাফ প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে। দুই সদ্যজাতর ওজন দুই কিলো ৩০০ গ্রামের কাছাকাছি। মায়ের শারীরিক অবস্থাও বিপদমুক্ত। তবে একই জরায়ুর পৃথক দুই প্রকোষ্ঠে সাধারণত একটি সন্তান ধারণের উদাহরণ এর আগেও আমাদের দেশে রয়েছে। তবে এই ঘটনা সম্ভবত দেশে প্রথম। প্রসূতির স্বামী বলেন, চাষ করে কোনও মতে সংসার চালাই। আমার পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে কিংবা অন্য কোনও বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ওই ডাক্তারবাবুর কাছে সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব।
শয্যায় শুয়ে রোগী।  কর্তব্যরত সেবিকাদের কোলে দুই সদ্যজাত। -নিজস্ব চিত্র  

6th     July,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ