বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

র‌্যাগিংয়ে অভিযুক্ত ছাত্রকে অভিনব শাস্তি হাইকোর্টের
সপ্তাহে দু’দিন পড়াতে হবে
অবৈতনিক প্রাইমারি স্কুলে

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: র‌্যাগিংয়ের শাস্তি নয়, উচিত শিক্ষা। অন্তত এমনই পন্থায় বিশ্বাসী কলকাতা হাইকোর্ট। আর তাই র‌্যাগিংয়ে অভিযুক্ত এক বি-টেক পড়ুয়াকে অভিনব সাজার নির্দেশ বিচারপতির। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন করে পড়াতে হবে তিনটি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কচিকাঁচাদের দিনে অন্তত চার ঘণ্টা পাঠ দিলে তবেই মিলবে রেহাই। 
র‌্যাগিংয়ে অভিযুক্ত কোনও ছাত্রকে সম্ভবত এই প্রথম এমন নয়া শাস্তির বিধান দিল কোনও আদালত। কিন্তু কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ? ঘটনা হল, জুনিয়রদের উপর র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে বায়োটেকনোলজি(বি-টেক) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রকে বহিষ্কার করে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি অষ্টম সেমেস্টারে অংশ নিতে পারবেন না। চলতি মাস থেকেই সেই সেমেস্টার শুরু হওয়ার কথা। তাই শেষপর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জারি করা বহিষ্কারের নোটিস চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কণিষ্ক রায় নামে ওই পড়ুয়া। তাঁর দাবি, গত ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্রদের যে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল তাতে তিনি অংশ নিয়েছেন মাত্র। কোনওভাবেই র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁকে প্রথমে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পর হঠাৎ বহিষ্কার করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্যর এজলাসে মামলাটি উঠলে কণিষ্কর আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী সওয়ালে বলেন, যেকোনও রকমের কঠোর বিধি জারি রেখে তাঁকে সেমেস্টারে বসতে দেওয়া হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে আইনজীবী সৌম্য মজুমদার পাল্টা দাবি করেন, ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটির অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই ওই পড়ুয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ৪০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। এখন ওই পড়ুয়াকে সেমেস্টারে অংশ নিতে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তিনি কোনওভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবশে করতে পারবেন না। 
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি ভট্টাচার্য নির্দেশে স্পষ্ট জানান, এই ধরনের ঘটনায় আদালত চুপ করে বসে থাকতে পারে না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। যাবতীয় তথ্যের ভিত্তিতে এটা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে মামলাকারী ও তাঁর সহযোগীদের অভব্য কার্যকলাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এমন আচরণ মোটেও ছাত্র সুলভ নয়। র‌্যাগিং অভিশাপ। তা যদি শারীরিক নিগ্রহের স্তরে পৌঁছয় তাহলে অবশ্যই আদালতের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এরপরই বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে অর্থ খরচ করেছে, মামলাকারীকে জরিমানা হিসাবে তার অংশ বহন করতে হবে। শুধু তাই-ই  নয়, তাঁকে তিনটি অবৈতনিক প্রথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন চার ঘণ্টা করে কচিকাঁচাদের পাঠ দিতে হবে। মামলাকারীকে বারো সপ্তাহ সদাইপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুভাষনগর এফপি স্কুল ও বারাসতের কোকাপুর স্কুলে গিয়ে ক্লাস নিতে হবে—এই শর্তে তাঁকে অষ্টম সেমেস্টারে বসতে দেওয়া হচ্ছে। সেমেস্টার শেষ হওয়ার পর দিন থেকেই তাঁকে প্রাথমিকের ছাত্রদের পড়াতে হবে। মামলাকারী যে আদালতের নির্দেশ পালন করেছেন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকদের রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি। 

26th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ