বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

ছোটবেলায় বাবার হাত ধরেই
ঘুরে বেড়াতেন রামমোহন রায়
ছুটি পেলেই চলে আসতেন প্রিয় শহর বর্ধমানে

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অষ্টাদশ শতকে কর্মসূত্রে বর্ধমানে থাকতেন ভারত পথিক রামমোহন রায়ের বাবা রামকান্ত রায়। তিনি বর্ধমানের তৎকালীন রানি বিষণ কুমারীর বুদ্ধিদাতা হিসেবে কাজ করতেন। রাজ পরিবারের গেস্ট হাউসে একাই থাকতেন রামকান্তবাবু। সেই সময় স্কুলে ছুটি পেলেই বর্ধমানে বাবার কাছে আসতেন রামমোহন রায়। কাজের ফাঁকে ছোট রামমোহনকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান শহরে ঘুরতে বেড়াতেন রামকান্তবাবু। রাজ পরিবারের আপ্যায়নে মুগ্ধ হয়েছিলেন রামমোহন। এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রামমোহন রায়ের নানা ইতিহাস আঁকড়েই ধরেই তাঁর সার্ধ দ্বিশতবর্ষের জন্মদিন পালন করলেন বর্ধমানবাসী। 
বর্ধমান শহরের বাঁকা নদীর ধারে গড়ে উঠেছিল সতী মন্দির। তার পাশেই ছিল সতীদের দাহ করার ঘাট। সর্বমঙ্গলা পাড়া, আলমগঞ্জে এখনও বেশকিছু সতী মন্দির রয়েছে। জানা যায়, বর্ধমান শহরে সেই সময় রামমোহন রায়ের তৈরি করা ব্রাহ্মসমাজ সতীদাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। পরবর্তীকালে ব্রাহ্মসমাজের অফিস গড়ে ওঠে বর্ধমান শহরে। সেখান থেকেই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হতো। ১৯০৫ সালের পর থেকে ব্রাহ্মসমাজের অফিস স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ব্যবহার করতেন। সেখানে বসেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করতেন বিপ্লবীরা। 
জানা গিয়েছে, স্কুলজীবন শেষ করার পর মাত্র ষোলো বছর বয়সে তৎকালীন হিন্দু ধর্মের কুসংস্কার প্রথার বিরুদ্ধে একটি বই লিখে ফেলেন রামমোহন রায়। সেটির নাম দেন ‘হিন্দুদিগের পৌত্তলিক ধর্মপ্রণালী’। এদিন রামমোহন রায়ের জন্মদিনে সেইসব ইতিহাসের চর্চায় ডুবে রইলেন জেলার মানুষ।
জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে এদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। গান, নাচের মাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া। পিছিয়ে ছিল না রাজনৈতিক দলগুলিও। বিভিন্ন দলের পার্টিঅফিসগুলিতে রামমোহন রায়ের ছবিতে মালা দিয়ে চলে শ্রদ্ধা নিবেদন। 
জেলার তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক রামশঙ্কর মণ্ডল বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী জেলার প্রতিটি ব্লকের মতো তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অতিথিদের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে রামমোহন রায়ের ছবি দেওয়া হয়েছে।
শহরের ইতিহাস নিয়ে চর্চা করেন সর্বজিৎ যশ। তিনি বলেন, শহরের সতী মন্দিরগুলির সংস্কার করা প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরের একটা ইতিহাস আছে।

26th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ