বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

ওড়িশা ও উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ
পথ দুর্ঘটনায় মৃত বাংলার ১১

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার সাতসকালে জানা গিয়েছিল ওড়িশায় দুর্ঘটনার খবর। উত্তরাখণ্ডে গাড়ি খাদে পড়ে পাঁচ ট্রেকার সহ ছ’জনের মৃত্যুর খবর এল এদিন সন্ধ্যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৃথক দু’টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলার ১১ জন নাগরিক। কেউ গিয়েছিলেন সপরিবার ভ্রমণে। কেউ যাচ্ছিলেন পাহাড়ি পথে ট্রেকিং করতে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ওড়িশার গঞ্জাম জেলার ভঞ্জনগর থানা এলাকায় পর্যটকদের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। সেই বাসের ছ’জন যাত্রী মারা যান। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের সুলতানপুরের বাসিন্দা। একজনের বাড়ি হুগলির জাঙ্গিপাড়ার আঁটপুরে। গুরুতর জখম হয়েছেন ১৫ জন। তাঁদের বাড়িও সুলতানপুরেই। এই পর্যটকরা হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর থেকে ওড়িশার দারিংবাড়ি হয়ে বিশাখাপত্তনম যাচ্ছিলেন।
 এদিন সন্ধ্যায় খবর আসে, নৈহাটির একটি মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাবের পরিচালনায় গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল ট্রেকিংয়ের জন্য গিয়েছিল ১২ জনের একটি দল। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন একটি বোলেরো গাড়ি ভাড়া করে এদিন হরিদ্বার থেকে উত্তর কাশীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেই যাত্রাপথে তাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ওই গাড়িতে ছিল রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার। প্রবল ধাক্কায় সেটির বিস্ফোরণ ঘটলে আগুনে ঝলসে  পাঁচ ট্রেকার সহ গাড়ির চালক মারা যান। তাঁদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি  গড়িয়ার শ্রীনগর অঞ্চলে। বাকি দু’জন নৈহাটি ও বারাকপুরের বাসিন্দা।  
১১ দিনের ভ্রমণ প্যাকেজে ওড়িশার দারিংবাড়ি হয়ে বিশাখাপত্তনমে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল হাওড়ার পর্যটকদের। মঙ্গলবার রাতে দারিংবাড়ি থেকে যাত্রা শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই নেমে আসে ঘোর বিপর্যয়। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম মৌসুমি দেঁড়ে (৪৫), তাঁর মেয়ে রিমা দেঁড়ে (২২), সুপ্রিয়া দেঁড়ে (৩৫), সঞ্জিৎ পাত্র (৪০), বর্ণালী মান্না (৩৮) এবং স্বপন গুচ্ছাইৎ (৪৪)। স্বপনবাবুর বাড়ি হুগলির জাঙ্গিপাড়ার আঁটপুরে। তিনি রাঁধুনি হিসেবে ওই দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন। গঞ্জামের পুলিস সুপার ব্রিজেশ রাই জানান, বাসটি ৭৭ জন পর্যটক নিয়ে দারিংবাড়ি থেকে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ যাত্রা শুরু করেছিল। গঞ্জাম জেলার ভঞ্জনগর থানার পার্বত্য এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উল্টে যায়। সম্ভবত বাঁকের মুখে বাস ঘোরাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়েই তৎপর হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তিনজনের একটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমার কাছ থেকে মৃত ও আহতদের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। সবাইকে দ্রুত উদ্ধার করতে এবং দেহগুলি ফিরিয়ে আনতে তিনি সবরকম ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। 
এদিকে, গঙ্গোত্রী হাইওয়ে ধরে উত্তর কাশী যাওয়ার পথে কোটিগড়ের কাছে ট্রেকারদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। গাড়িতে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলে চালক সহ ছ’জন কার্যত ঝলসে যান। সংশ্লিষ্ট মাউন্টেনিয়ারিং সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি গড়িয়ায়। তাঁরা হলেন মদনমোহন ভুঁইয়া (৫৯), ঝুমুর ভুঁইয়া (৫৯) এবং নীলেশ ভুঁইয়া (২৪। এঁরা তিনজন যথাক্রমে বাবা, মা ও ছেলে। বাকি দুই মৃতের নাম প্রদীপ দাস (৫৫) এবং দেবমাল্য দেবনাথ (৪৩)। তাঁদের বাড়ি যথাক্রমে নৈহাটি ও বারাকপুরে। মারা গিয়েছেন গাড়িটির চালকও। তাঁর নাম আশিস। বাড়ি উত্তর কাশীতে। জানা গিয়েছে, সোমবার কলকাতা থেকে দুন এক্সপ্রেসে তাঁরা রওনা হন। বুধবার সকালে হরিদ্বারে নেমে গাড়ি নিয়ে তাঁরা উত্তর কাশী যাচ্ছিলেন। সেই পথেই এই ঘটনা। সন্ধ্যার মধ্যে সবক’টি দেহ চিহ্নিত করা গেলেও তা তুলে আনা সম্ভব হয়েছে কি না, জানা যায়নি। গড়িয়ার শ্রীনগর এবং বারাকপুর, নৈহাটিতে মৃতদের পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নৈহাটির ওই মাউন্টেনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়, প্রত্যেকেরই ট্রেকিংয়ের একাধিক পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল। এরকম মর্মান্তিক খবরের জন্য কেউই প্রস্তুত ছিলেন না। 

26th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ