বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

টাকা নিয়েও চুক্তিভঙ্গ বাংলাদেশের গায়িকা এমপির
কাঁটাতার পেরিয়ে মুমতাজের গ্রেপ্তারি কীভাবে,
বিদেশ মন্ত্রকের ব্যাখ্যা চায় কলকাতা হাইকোর্ট

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ‘খায়রুন লো... তোর লম্বা মাথার কেশ’ কিংবা ‘নান্টু ঘটকের কথা শুইন্যা’ গান আজও সুপারহিট। বাংলাদেশের সেই ফোকসম্রাজ্ঞী তথা সাংসদ মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে এপারে জারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা! এক যুগেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত। কিন্তু অধরা জনপ্রিয় গায়িকা। তাই এবার কাঁটাতার পেরিয়ে কোন উপায়ে সেই পরোয়ানা কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের কাছে তথ্য চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। সম্প্রতি সেব্যাপারে হলফনামা তলব করা হয়েছে।
কিন্তু ঠিক কী কারণে ওপারের গায়িকা-সাংসদের বিরুদ্ধে এদেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হল? জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত প্রায় চোদ্দ বছর আগে।  সেসময় এদেশে বি঩ভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিতেন মমতাজ। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের বাসিন্দা শক্তিশঙ্কর বাগচীর দাবি, ২০০৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে গায়িকার লিখিত চুক্তি হয়েছিল। সেইমতো বহরমপুরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান শিল্পী হিসাবে মমতাজকে আনার জন্য বায়না করেছিলেন উদ্যোক্তারা। সময়টা ছিল ২০০৮ সালের ডিসেম্বর। শক্তিবাবুর মারফত হয়েছিল বায়নার লেনদেন। অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী টাকা নেওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে আসেননি গায়িকা। যথারীতি অনুষ্ঠানস্থল ভাঙচুর হয়। চরম হেনস্তার মুখে পড়েন শক্তিবাবু। অন্যদিকে টাকা ফেরাতেও অস্বীকার করেন মমতাজ।
এরপর চুক্তিভঙ্গের দায়ে স্থানীয় থানার দ্বারস্থ হন শক্তিবাবু। কিন্তু থানা এব্যাপারে অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। বাধ্য হয়ে বহরমপুর আদালতের দ্বারস্থ হন শক্তি। মমতাজের বিরুদ্ধে ৪০৬ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ, ৪২০ ধারায় প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সূত্রেই ২০০৯ সালে প্রথম মমতাজের বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালত। পরে সমন কার্যকর না করায় মমতাজের বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এর মধ্যেই অবশ্য নিম্ন আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে বাংলাদেশে চলে যান গায়িকা। নিম্ন আদালতের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শক্তি। ২০১০ সালে নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করে মমতাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রাখে ও নিম্ন আদালতকে তা দ্রুত কার্যকরের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রক মারফত বিষয়টি কার্যকরের ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। যে কারণে ২০১৬ সালে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেন শক্তি।
প্রায় এগারোটি বেঞ্চ পেরিয়ে সম্প্রতি বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলাটি বিচারের জন্য এলে ডিআইজি(অর্গানাইজেশন) হৃষিকেশ মিনাকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেয় বেঞ্চ। ডিআইজি তদন্তে গাফিলতির কথা স্বীকার করে আদালতে জানান, পরোয়ানা কার্যকর না করার জন্য এক তৎকালীন এক পুলিস আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। এরপরই এখন কোন উপায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা যায় তা নিয়ে বিদেশমন্ত্রকে (প্রত্যর্পণ বিভাগ) ১৭ জুনের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ। ২৪ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি। বিষয়টি নিয়ে সাংসদ মমতাজকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি উত্তর দেননি।  প্রতিক্রিয়া  দেননি হোয়াটসঅ্যাপেও।

25th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ