বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

একাদশ আর নয়, বিষয়
নির্বাচন নবম থেকেই
সুপারিশ সিলেবাস কমিটির

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: একাদশ থেকে নয়, নবম শ্রেণি থেকেই ছাত্রছাত্রীদের পছন্দের স্ট্রিম (কলা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান) বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। সূত্রের খবর, নবগঠিত সিলেবাস কমিটির অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এমনই প্রস্তাবের কথা উঠে এসেছে। বর্তমানে আইসিএসই বা সিবিএসই স্কুলগুলির পড়ুয়ারাও একইভাবে বিষয় বাছাই করে নিতে পারে নবম শ্রেণি থেকে। সব ঠিক থাকলে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্য বোর্ডও সেই পথে হাঁটতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার যে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে, তাতেও এই ধরনের প্রস্তাব ছিল। তবে রাজ্য সরকার অন্ধভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করতে চায় না। আর তাই পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি। নেওয়া হবে তাদের সুপারিশ। যদিও নবম শ্রেণি থেকে বিষয়ধারা নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক প্রয়োজন সিলেবাসে বদল। সেই কথাবার্তাই ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। সিলেবাস কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘যারা ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চায়, তাদের কলাবিভাগের বিষয়গুলি অত বিস্তারিত না পড়লেও চলে। আবার বাণিজ্য যাদের পছন্দের স্ট্রিম, তারা কেনই বা পদার্থবিদ্যার খুঁটিনাটি পড়বে? তার চেয়ে নিজস্ব বিষয় নিয়ে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা করলেই কেরিয়ারে সুবিধা হবে। যদিও শিক্ষামহলের রক্ষণশীল শ্রেণি এটাকে কীভাবে গ্রহণ করে, সেটাও একটা দেখার বিষয়।’
জানা যাচ্ছে, বিষয়গুলিকে বেসিক এবং অ্যাডভান্সড কোর্সে ভাগ করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। যারা যে বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে পড়তে চায়, তারা সেই বিষয়ের অ্যাডভান্সড কোর্সগুলি পড়বে। অন্যান্য বিষয়গুলির জন্য বেসিক কোর্স। ১ জুন সিলেবাস কমিটির মূল বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে সদস্যরা তাঁদের মতামত জানাবেন। উপস্থিত থাকবেন শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরাও। তারপর কমিটির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কর্তাদের সঙ্গে। এই প্রক্রিয়া শেষে শিক্ষাদপ্তরের সবুজ সঙ্কেত মিললেই সুপারিশ কার্যকর করার কথা ভাবা হবে।
সিলেবাস কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছিলেন, পাঠ্যক্রম যেন কলকাতার কথা মাথায় রেখে তৈরি না হয়। জোর দিতে হবে গোটা রাজ্যের নির্যাস এবং প্রতিনিধিত্বে। প্রত্যন্ত জেলার ছাত্রছাত্রীরা যাতে সিলেবাসের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে, সেদিকটাও দেখতে বলা হয়েছে। এই কারণেই জেলার স্কুলগুলির শিক্ষকদের সঙ্গেও আলোচনার নির্দেশ এসেছে কমিটিগুলির কাছে।’ আর এক সদস্যের কথায়, ‘কলা বিভাগের বিষয়গুলিতে টুকটাক বদল আনার প্রয়োজন নেই। যদি বদলাতেই হয়, আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।’ এ বিষয়ে সহমত অন্য এক সদস্য। তিনি বলেন, ‘নতুন সিলেবাস চালু হওয়ার পর বছর বছর বইগুলিতে পরিবর্তন হয়েছে। তাই এবার সিলেবাসে আগাগোড়া বদল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’
প্রসঙ্গত, একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির বইগুলির মূল পাঠ্যক্রম তৈরি হয় সব রাজ্যের পর্ষদগুলির কেন্দ্রীয় সংসদ দ্য কাউন্সিল অব বোর্ডস অব স্কুল এডুকেশন বা কবসের রূপরেখা মেনে। রাজ্যগুলি তাতে ১০-১৫ শতাংশ অদলবদল করে। তবে, দ্বাদশের পরে যেহেতু সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলিতে বসতে হয়, একটা সার্বিক ভারসাম্য থাকা বাঞ্ছনীয়। এখন একাদশ-দ্বাদশের বইগুলি যেমন রাজ্য সরকার তৈরিই করে না। সিলেবাসের ভিত্তিতে তা তৈরি করে বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থা। রাজ্য সরকার সেগুলিকে স্বীকৃতি দেয়। নবম এবং একাদশেও একই প্রক্রিয়া। তাই এ বিষয়ে প্রকাশনা সংস্থাগুলির সঙ্গেও আলোচনার অবকাশ রয়েছে। 

25th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ