বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

সকলের জন্য কন্যাশ্রীর সুবিধা 
নিশ্চিত করতে উদ্যোগী রাজ্য

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা থেকে রাজ্যের কোনও যোগ্য স্কুলছাত্রী আর বঞ্চিত থাকবে না। কারণ আবেদনপত্র জমা করতে না পারলেও পড়ুয়াদের চিহ্নিত করে এই প্রকল্পের অধীনে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। 
সাধারণত সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের ১৩ থেকে ১৮ বছরের ছাত্রীরা আবেদন করার পরেই তাদের কন্যাশ্রী-১ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, শুধুমাত্র আবেদন করতে না পারার কারণে এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে কেউ বাদ পড়ল কি না, তা যাচাই করার কোনও পদ্ধতি এতদিন ছিল না। এজন্য মূলত নির্ভর করতে হতো জেলা আধিকারিকদেরই উপর। সমস্ত রকম চেষ্টা সত্ত্বেও, কিছু ছাত্রী রয়ে যেত প্রকল্পের বাইরে। রাজ্য এবার এই আশঙ্কা দূর করতে চাইছে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করেছে নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তর। দপ্তর সূত্রের খবর, স্কুলশিক্ষা দপ্তরের ‘বাংলার শিক্ষা’ নামে একটি পোর্টাল রয়েছে। এতদিন তাতে থাকত কোন স্কুলে মোট কতজন ছাত্রছাত্রী‌ রয়েছে শুধু তার পরিসংখ্যান। নতুন পরিকাঠামোয় প্রত্যেক স্কুলের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর নাম এই পোর্টালে লেখা থাকছে। এবার নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তর শিক্ষাদপ্তরের এই তথ্য ব্যবহার করবে। তার ফলে কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য প্রতিটি ছাত্রীকে সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। 
এক আধিকারিক জানান, ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টাল থেকে একটি স্কুলের ছাত্রীদের তালিকা মিলিয়ে দেখলেই আমরা বুঝতে পারব প্রকৃতপক্ষে কতজন কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার উপযুক্ত। সেই অনুযায়ী যদি আবেদন পত্র না আসে, তখন আমরা খোঁজ নেব—আবেদনপত্র কারা এবং কী কারণে জমা করতে পারেনি। তাদের নাম পাঠিয়ে আবেদনপত্র জমার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হবে জেলা এবং স্কুলের আধিকারিকদের। এখনও পর্যন্ত মোট সাড়ে ৭৭ লক্ষের বেশি ছাত্রী কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। নতুন উপভোক্তারা এবারও এই প্রকল্পে যুক্ত হবে। তবে অন্যান্য বছর কতজন ছাত্রী নতুন করে এই প্রকল্পের আওতায় আসবে তার হিসেব কষে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সেই লক্ষ্যমাত্রা নবান্নকে জানানো হয়। তবে এবার কোনও টার্গেট ধরে এগনো হচ্ছে না। কারণ শিক্ষাদপ্তরের পোর্টাল অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণির প্রতিটি ছাত্রীকেই কন্যাশ্রীতে নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্বপ্নের প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১২ সালে। এজন্য ২০১৭ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পুরস্কার পায় বাংলা। প্রকল্পটি বাল্যবিবাহ কমাতে বিরাট ভূমিকা নিয়েছে। 
প্রকল্পের সুবিধা সকলে পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতকরণের কাজ অনেক আগেই শুরু করতে চেয়েছিল দপ্তর। সমস্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নামের তালিকা সম্প্রতি কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষাদপ্তরের পোর্টালে আসায়, এবছরই উদ্যোগটি ফলপ্রসূ হয়েছে। আর কেউ বঞ্চিত হবে না বলেই মনে করছে দপ্তর। কোনও উপভোক্তার পক্ষে আর ভুলক্রমেও একাধিকবার এর সুবিধা গ্রহণ সম্ভব হবে না। 

24th     May,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ