বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

আহারে মগ্ন। বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে তোলা নিজস্ব চিত্র। 

স্কুল খোলার দাবি, আরও মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল খোলার দাবিতে আরও একটি জনস্বার্থ মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে। এজন্য সরকারকে নির্দিষ্ট গাইডলাইন, দরকারে আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। মামলাকারী ছাত্র সংগঠনটির বক্তব্য, অনলাইন ক্লাস কিছুতেই  অফলাইন ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিকল্প হতে পারে না। বিশেষত যেখানে অনলাইনে পড়াশোনা করতে গেলে নিয়মিতভাবে অর্থ খরচের দায় থাকে। সেই খরচ চালানো বহু শিক্ষার্থীর পক্ষেই সম্ভব নয়। এমন শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ সরকারের দেওয়া উচিত বলে অভিমত মামলাকারীর। অন্যদিকে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস অবিলম্বে শুরু করার দাবিও মামলায় করা হয়েছে। কারণ, এই পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মূলত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি। যাদের ভ্যাকসিনের একটি বা দু’টি ডোজ হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। যে তথ্য সরকারই দিতে পারে। যদি কোনও শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিন নেওয়া বাকি থাকে, তা দেওয়ার জন্যও সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। যাতে দ্রুত স্কুল, কলেজগুলিতে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা চালু হয়।
মহারাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন রাজ্যের স্কুল খুলছে। সে-কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্যে স্কুল খোলার দাবিতে সরব হচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন। বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ‘চলো স্কুলে পড়াই’ কর্মসূচি নিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা বলেন, মেলা, যাত্রা, শপিং মল চালু থাকলে স্কুল না খোলার কোনও কারণ নেই। আমরা ইতিমধ্যেই ‘চলো স্কুলে পড়াই’ কর্মসূচি শুরু করেছি। এর মাধ্যমে আমরা স্কুল ভবনের বাইরে খোলা জায়গায় পড়ুয়াদের ক্লাস নিচ্ছি। অন্তত দু’শো স্কুল এতে অংশগ্রহণ করেছে। ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ সপ্তাহ চলবে। আরও বেশি স্কুলে এতে অংশগ্রহণ করবে। এটাই আমাদের রাজ্য সরকারের কাছে প্রতিবাদ। স্কুল খোলার দাবিতে স্মারকলিপি দিতে যাওয়া হলে বিকাশ ভবন গ্রহণ করলেও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ তা নেয়নি। তাদের কাছেও বার্তা পৌঁছনো দরকার।
শিক্ষক সংগঠন এসটিইএ বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে একেবারে প্রথম থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত স্কুল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মিত্র বলেন, আইসিএমআর, হু, ইউনেস্কোর মতো সংস্থা এবং চিকিৎসাবিদরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাহলে এরাজ্যে কেন তার অন্যথা হবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠনও। তাদের বক্তব্য, স্কুল বন্ধ থাকায় বাল্যবিবাহ বাড়ছে। এর ফলে বহু মেয়ের জীবন নষ্ট হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দিয়ে গবেষক সংগঠন ডিআরএসও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত খোলার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি, কলেজগুলির শূন্যপদে স্বচ্ছতা মেনে দ্রুত নিয়োগ করতে হবে।
বিভিন্ন মহলের দাবি উঠলেও বিকাশ ভবনের আধিকারিকরা এই মুহূর্তে স্কুল খোলার সম্ভাবনা দেখছেন না। তাঁদের বক্তব্য, টিকাকরণ শেষ না-হলে সরকার স্কুল খোলার ঝুঁকি নেবে না। অবশ্য মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতির জন্য স্কুল খোলা আবশ্যক বলে মানছেন তাঁরাও। তবে তাঁদের বক্তব্য, পরীক্ষার আগে কিছুদিনের জন্য স্কুল খোলা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নবান্ন। সেদিক থেকে নির্দেশ আসার জন্যই অপেক্ষা করছেন তাঁরা। এদিকে স্কুল বন্ধ থাকায় ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ পরিকল্পনা করেছে, বাংলার শিক্ষা পোর্টালে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন এবং ভিডিওর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের গাইড করা হবে। ১৪টি বিষয়ের প্র্যাকটিক্যাল হওয়ার কথা। সেগুলির সাজেশন ইতিমধ্যেই ওয়েবসাইটে দেওয়া রয়েছে। তা থেকে বাছাই করে কয়েকটি বিষয়ে এই ভিডিও আপলোড করা হবে। স্কুলগুলি সেই টপিক থেকেই একটি বেছে পরীক্ষা দিতে পারে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদেরও অনেকটা সুবিধা হবে বলে সংসদ মনে করছে। সংসদের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ভিডিওগুলি তুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 
স্কুল খোলার দাবিতে হাজরা মোড়ে ডিএসওর বিক্ষোভ কর্মসূচি। -নিজস্ব চিত্র

21st     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ