বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

আহারে মগ্ন। বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে তোলা নিজস্ব চিত্র। 

দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় এবার রাজ্যে
করোনায় মৃত্যু কমল ৮৩ শতাংশ   

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে করোনার চলতি ঢেউয়ে মৃত্যুহার আগের দু’টি ঢেউয়ের তুলনায় অনেকটাই কম। যা স্বস্তিদায়ক বলে দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। গত কয়েকদিনে করোনায় মৃতের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তাতে অনেকেই ‘গেল গেল’ রব তুলছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের বক্তব্য, আগের দু’টি ঢেউয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার সঙ্গে এবারের তুলনামূলক আলোচনা করলেই স্বস্তির চিত্র স্পষ্ট হবে। চলতি ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে রাজ্যে মৃত্যুহার মাত্র ০.১৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি হাজার জনে ১.৩ জন। সেই জায়গায় প্রথম ঢেউয়ে মৃত্যুহার ছিল ১.৭২ শতাংশ। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ছিল ০.৮২ শতাংশ। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে এই তথ্য। 
দপ্তর সূত্রে খবর, এই হিসেবে চলতি ঢেউয়ে মৃত্যুহার প্রথম ঢেউয়ের ১৩ ভাগের এক ভাগ এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের ছ’ভাগের এক ভাগ বা ১৬.৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ মৃত্যু কমল ৮৩ শতাংশ। তাহলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ মিলিয়ে রাজ্যে করোনায় গড় মৃত্যুহার কত? প্রায় দু’বছর ধরে চলতে থাকা এই মহামারীতে গড় মৃত্যুহার হল ১.১ শতাংশ। সেই দিক থেকেও চলতি ঢেউয়ে মৃত্যুহার গড় হারের আট ভাগের মাত্র এক ভাগ। 
স্বাস্থ্যকর্তারা জানিয়েছেন, যে কোনও মৃত্যু‌ই চরম দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে দ্বিতীয় ও চলতি ঢেউয়ের মধ্যে কোনও তুলনা হয় না। 
এ বছর ১০-১৬ জানুয়ারির পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে করোনায় মৃত্যু বাড়ছে। যথাক্রমে তা হল ১৬, ১৯, ২৩, ২৮, ৩৯ ও ৩৬। কিন্তু তা দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিসংখ্যানের ধারেকাছেও আসে না। গত বছর ১৪ মে দ্বিতীয় ঢেউয়ের দৈনিক সংক্রমণ শিখরে উঠেছিল। সেদিন সংক্রামিত হয়েছিলেন ২০ হাজার ৮৪৬ জন। দৈনিক মৃতের সংখ্যা ছিল ১৩৬। পরপর কয়েকদিন জারি থাকে এই মৃত্যুমিছিল। রাস্তায় তখন সারাক্ষণই লেগে থাকত অ্যাম্বুলেন্সের আনাগোনা, হাসপাতালে বেড বা অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য কাড়াকাড়ি—সব মিলিয়ে ভয়ানক আতঙ্ক তাড়া করছিল মানুষকে। দৈনিক সংক্রমণ শিখরে ওঠার পরের দিনগুলিতে (১৫ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি) দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৪৪, ১৪৭, ১৪৭, ১৪৫, ১৫৭ এবং ১৬২। 
এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, মৃত্যুহারের দিক থেকে দ্বিতীয় ও চলতি ঢেউয়ের মধ্যে তুলনাই হয় না। কিন্তু ওমিক্রন নির্বিষ হওয়া সত্ত্বেও গত এক সপ্তাহে মৃত্যু বাড়ছে কেন? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সংক্রমণ শিখর ছোঁয়ার অর্থ এরপর তা নামতে শুরু করবে। এর পরবর্তী কয়েকদিনে মৃতের সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। কারণ সংক্রামিত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি বয়স্ক, কোমরবিড বা আশঙ্কাজনক রোগীদের মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। দ্বিতীয় ঢেউতেও দেখা গিয়েছিল, সংক্রমণ শিখরে পৌঁছেছিল ১৪ মে। দৈনিক আক্রান্ত ছিল ২০ হাজার ৮৪৬। মৃত্যু হয়েছিল ১৩৬ জনের। তার ১০ দিন পর সংক্রমণ অনেকটাই কমে হয় ১৭ হাজার ৮৮৩। মৃত্যু কিন্তু কমেনি। বেড়ে হয়েছিল ১৫৩। এর মধ্যে বয়স্কদের সতর্কতা বেশি দরকার বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে যেমন ৩৫-৪৫ বছর বয়সিদের  মৃত্যু বেশি হয়েছিল, এবার কিন্তু বয়স্কদের (৭৫ ঊর্ধ্ব) মৃত্যু বেশি হচ্ছে। তবে এই মৃত্যুর ৭৮ শতাংশ ক্ষেত্রে কো-মরবিডিটি ছিল রোগীর।

18th     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ