বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

আহারে মগ্ন। বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে তোলা নিজস্ব চিত্র। 

লাল ফিতের গেরোয় উত্তরপ্রদেশ
থেকে গ্যাস আনার কাজ আটকে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রান্নার গ্যাসের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় গরিব থেকে মধ্যবিত্ত সকলের কপালেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সেখানে পাইপলাইনে গ্যাসের জোগান শুরু হলে হেঁশেলের বিপদ যেমন কাটবে, তেমনই এই গ্যাসের ব্যবহার বাড়বে গাড়িতেও। দূষণ কমবে পরিবেশে। এই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে কর্মকাণ্ড। তবে এই কাজে অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে লাল ফিতের ফাঁস। এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেইল ও হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম (এইচপিসিএল) ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালে যে হলফনামা পেশ করেছে, তাতেই এই চিত্র ফুটে উঠেছে। এখন সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে কয়েকশো কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর কাজ। এখন লাল ফিতের ফাঁস আলগা হলেই শুরু হতে পারে কাজ। এক্ষেত্রে শুধু কেন্দ্রীয় সরকার নয়, রাজ্য সরকারের তরফেও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ উঠেছে।  
রাজ্যে আদৌ সিএনজি বা কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস আসবে কি? গেইল ও হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম যে হলফনামা দিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি হতাশ। এমনটাই জানিয়েছেন এই বিষয় নিয়ে ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। কিন্তু কেন? হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম জানিয়েছে, মূল যে প্রকল্প, সেই জেএইচবিডিপিএল-এর দুর্গাপুর-হলদিয়া পাইপলাইন এই রাজ্যের ছ’টি জেলা দিয়ে ৩২০ কিলোমিটার যাবে। সেইমতো উদ্যোগ নেওয়া হলেও অন্তত পাঁচটি জেলায় পাইপলাইন পাতার জন্য ‘রাইট টু ইউসেজ’ অনুমোদন এখনও মেলেনি। উত্তর ২৪ পরগনায় সমস্যার সমাধান না হওয়ায় কলকাতার জন্য বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকেও প্রয়োজনীয় সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। অথচ, তা দেওয়া গেলে কলকাতা ও শহরতলিতে পাইপলাইনে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। কাজ শুরু করার জন্য জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নদীয়ার গয়েশপুরে সিটি গ্যাস স্টেশন স্থাপনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনাতেও এমন স্টেশন স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
হলফনামা থেকে জানা যাচ্ছে, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুরে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য ২০১৯ সালে পেট্রলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচরাল গ্যাস রেগুলেটেরি বোর্ডকে বরাত দেয় এইচপিসিএল। একইভাবে হুগলি, নদীয়া, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশের জন্য একই পদক্ষেপ করা হয়। সমতলে আট বছর ও পাহাড়ি এলাকায় ১০ বছরের মধ্যে এই কাজ ধাপে ধাপে শেষ হওয়ার কথা। সেইমতো বাড়িতে পাইপলাইনে গ্যাসের সংযোগ প্রদান, সিএনজি স্টেশন স্থাপন ও পাইপলাইন বসানো চলবে। কিন্তু, সেই কাজ শুরুই করা যায়নি। কারণ, গেইল প্রধান ট্রাঙ্ক পাইপলাইন তৈরি করে উঠতে পারেনি। উল্লেখ্য, এই গ্যাস সরবরাহ হবে মূলত দু’টি মূল পাইপলাইন থেকে। একটি জগদীশপুর-হলদিয়া-বোকারো-ধামা হয়ে আসবে, অন্য শাখাটি আসবে বারাউনি-গুয়াহাটি রুট থেকে। এই ট্রাঙ্ক পাইপলাইন তৈরি হলে প্রতিটি সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (সিজিডি) স্টেশনকে গ্যাস নেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে।
হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, এই পাইপলাইন ও সিজিডি স্টেশনের জন্য জমি ও তা ব্যবহারের অনুমতি আদায় করতেই বছর গড়িয়ে যাচ্ছে। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি ও রাজ্যের পূর্ত বা অন্য কোনও দপ্তরের কাছে তাদের আবেদন পড়ে থাকছে। এই ফাঁস খোলা না গেলে ঝুলেই থাকবে কাজ।

18th     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ