বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

রাজ্যে শিখর ছুঁয়ে নামছে করোনা
গ্রাফ, চলতি ঢেউয়ের শেষ আসন্ন

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: উল্কার গতিতে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া ওমিক্রনের চলতি ঢেউয়ের সমাপ্তি আসন্ন। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে সংক্রমণের গ্রাফ শিখর ছুঁয়ে ইতিমধ্যেই নামতে শুরু করেছে। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় অবশ্য আরও কয়েকদিন সংক্রমণ সামান্য বাড়তে পারে। তবে উপসর্গহীন ও মৃদু উপসর্গের সেই সংক্রমণে বাড়াবাড়ি কিছু হবে না। পাশাপাশি ওই জেলাগুলিতে কলকাতা এবং শহরতলির চার জেলার মতো ঘনবসতি নেই। ফলে দ্বিতীয় ঢেউতেও কোভিড সংক্রমণের হার তেমন বাড়েনি। তিলোত্তমা ও সংলগ্ন চার জেলাই রাজ্যের মোট কোভিড সংক্রমণের ৭০ শতাংশ বহন করে এসেছে। তাই স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, সামগ্রিকভাবে রাজ্যের কোভিড সংক্রমণ শেষের দিকেই এগচ্ছে। তবে চিকিৎসক মহল সতর্ক করছে, আগামী দিনেও মাস্ক পরা ও কোভিড বিধি মানার ব্যাপারে কোনও ঢিলেমি দেখালে চলবে না। যতই মানুষ শিথিলতা দেখাবে, সংক্রমণের শেষের দিন আসার ক্ষেত্রেও দেরি হবে। ভোগান্তি বাড়বে। দৈনন্দিন কাজকর্ম, স্কুল-কলেজ-অফিস-আদালত-ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাবও পড়বে। 
ডিসেম্বরে শেষ সপ্তাহ থেকে প্রায় টানা দু’-আড়াই সপ্তাহ ধরে স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে লক্ষ করছেন। দেশ ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংক্রমণের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে তুলনাও টানছেন। মহামারীবিদ্যার বিভিন্ন গ্রাফ ও স্কেলে পরিসংখ্যান দিয়ে তার ওঠাপড়া রয়েছে তাঁদের নজরে। ২৭-২৮ ডিসেম্বর থেকে করোনা গ্রাফ তার ঊর্ধ্বমুখী চরিত্র দেখাতে শুরু করেছিল। ওঠাপড়া বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্যকর্তারা সিদ্ধান্তে এসেছেন, ৯ জানুয়ারি চলতি ঢেউ শিখরে পৌঁছে গিয়েছে। মাত্র দেড় সপ্তাহেই। ওইদিন দৈনিক সংক্রমণ ছিল ২৪ হাজার ২৮৭। কলকাতায় ৮ হাজার ৭১২। এখন গ্রাফের নীচে নামার পালা। রবিবার দৈনিক সংক্রমণ ১৪ হাজার ৯৩৮। কলকাতায় ৩ হাজার ৮৯৩। এই এক সপ্তাহে রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ কমেছে ৯ হাজার ৩৪৯। আর শুধু কলকাতার পরিসংখ্যান দেখলে সংখ্যাটা ৪ হাজার  ৮১৯। 
৯ জানুয়ারি, সংক্রমণ শিখরে ওঠার দিন কলকাতা ছাড়া সংলগ্ন চার জেলায় দৈনিক সংক্রমণ ছিল—দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১ হাজার ৩৯, উত্তর ২৪ পরগনায় ৫ হাজার ৫৩, হুগলিতে ১ হাজার ২৭৬ এবং হাওড়ায় ১ হাজার ৭৪২। সেখানে ঠিক পরের রবিবার, ১৬ জানুয়ারি চার জেলায় দৈনিক সংক্রমণ যথাক্রমে ১ হাজার ২৯, ২ হাজার ৫৬৫, ৭৪৫ এবং ৬৮৪। সমালোচকদের একাংশ দাবি করছেন, গত সাতদিনে পরীক্ষা কমেছে। তাই সংক্রমণও কম দেখাচ্ছে। কিন্তু পাল্টা প্রশ্নও উঠছে—তাহলে পজিটিভিটি রেট কমছে কেন? ৯ জানুয়ারি রাজ্যের পজিটিভিটি ছিল ৩৩.৮৯ শতাংশ। ১৬ জানুয়ারি তা কমে হয়েছে ২৭.৭৩ শতাংশ। 
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী চার জেলা ছাড়াও সংক্রমণ শিখরে পৌঁছেছে দার্জিলিংয়ে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুরে সংক্রমণ কমতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। সামান্য বাড়তে পারে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামে। সম্ভাবনার এই তালিকায় রয়েছে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, মালদহ ও কোচবিচার। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মোট সংক্রমণের সিংহভাগ কলকাতা ও আশপাশের চার জেলার বলে, অন্যত্র সংক্রমণ সামান্য বাড়লেও রাজ্যের সামগ্রিক নিম্নমুখী করোনা গ্রাফে তার প্রভাব পড়বে না। স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজ্যে চলতি ঢেউয়ের শেষ আসন্ন। বিশেষত, কলকাতা ও পাশের জেলাগুলিতে সংক্রমণ শিখর ছুঁয়ে এখন নামছে। তবে দ্রুত এর থেকে রেহাই পেতে কোভিড বিধি মানা ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।’

17th     January,   2022
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ