বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

নিম্ন আদালতে ‘যান্ত্রিক পদ্ধতিতে’ বিচার
পকসো আইনে দুই ব্যক্তির
ঘোষিত সাজা হাইকোর্টে খারিজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নাবালিকার যৌননিগ্রহ রুখতে ও অভিযুক্তকে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছিল পকসো আইন। এই আইনের যথোপযুক্ত ব্যবহার বা অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা সময় বলবে। কিন্তু, কলকাতা হাইকোর্ট একই দিনে নিম্ন আদালতের উপর্যুক্ত আইন অনুযায়ী দেওয়া সাজা স্রেফ খারিজ করে দিল। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের অভিমত, দুই ক্ষেত্রেই যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এমন হলে কোনও ব্যক্তির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। 
২০১২ সালের পকসো আইনে সাজা হয় ২১ বছরের শেখ দিলখুস আলমের। বোলপুর আদালতের ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই দেওয়া রায় চ্যালেঞ্জ করে তাঁর আইনজীবী কল্লোল মণ্ডল আদালতকে জানান, বোলপুর স্টেট ব্যাঙ্কের মধ্যে আধার কার্ড সেন্টারে অভিযুক্ত কাজ করতেন। অভিযোগকারী রঞ্জিত মাল ও তাঁর স্ত্রী ঝুমা আধার কার্ডের ফর্ম ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ আসে। আলম বারণ করেছিলেন। অভিযোগটি পরে ফের এলে বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। 
মামলার বয়ান অনুযায়ী, ১০ বছরের একটি মেয়েকে ওই সেন্টারের সামনে রেখে রঞ্জিত মেয়েটির বাবা-মায়ের আধার কার্ড আনতে যান। বাসে করে যাতায়াতে যা দেড় ঘণ্টার পথ। অথচ, তিনি ৩০ মিনিটের মধ্যেই তিনি ফিরে আসেন। প্রথম প্রশ্ন: একা মেয়েটিকে সেখানে রেখে যাওয়া হল কেন? দ্বিতীয় প্রশ্ন: মেয়েটিকে সেন্টারের ভিতরে নিয়ে যেতে কেউ দেখেনি। তৃতীয় প্রশ্ন: রঞ্জিত নিজেকে মেয়েটির মামা বলে পরিচয় দেয়। অথচ, মেয়েটির বাবার নাম তিনি জানেন না। চার নম্বর প্রশ্ন: ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি সহজেই মিলত। কিন্তু, পুলিস তা সংগ্রহ করার চেষ্টাই করেনি। পঞ্চম প্রশ্ন: ঘটনাস্থলটি ব্যস্ত এলাকায়। কিন্তু, কেউ তা জানতেই পারল না কেন? ছয় নম্বর প্রশ্ন: ঘটনাস্থলের বা ব্যাঙ্কের কোনও কর্মীকে সাক্ষী করা হয়নি কেন? অথচ সব সাক্ষীই অভিযোগকারীর বসত এলাকার।  
এই প্রেক্ষাপটে রায়ে বলা হয়েছে, পুলিস বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য মামলাই দাঁড় করাতে পারেনি। তাই পকসো আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করার দায় নেই। তাই ঘোষিত সাজা খারিজ করা হল। 
অন্যদিকে, ধর্ষণের অন্য একটি মামলায়, অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সি সুশাঙ্ক ঘোষকে ভারতীয় ফৌজদারি আইন ছাড়াও পকসো আইনে সাজা দেন কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক। মেয়েটি ঘটনার সময় নিজের বয়স ১৭ বছর ১০ মাস বলে দাবি করেছিল। অথচ, সেই দাবির সপক্ষে কোনও নথি জমা করা হয়নি। যদিও সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, মাধ্যমিকের বা যে বিদ্যালয়ে প্রথম ভর্তি, সেখান থেকে জন্মের অথবা কর্পোরেশন, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য। কোনওটাই না পেলে মেডিক্যাল পরীক্ষায় বয়স প্রমাণ করতে হবে। ফলে ঘটনার সময় দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী নাবালিকা ছিলেন কি না, তা প্রশ্নাতীত নয়। দ্বিতীয়ত, ২০১৬ সালে অভিযোগ দায়ের করার অন্তত ছ’মাস আগে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু, তা পারস্পরিক সম্মতিতে কি না জানা নেই। বিতর্কিত ডাক্তারি পরীক্ষাতেও ধর্ষণের প্রমাণ নেই। ওদিকে মেয়ের বাবা সাক্ষ্যে বলেছেন, মেয়ে ও অভিযুক্তের মধ্যে প্রায় আড়াই বছর ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। দেনাপাওনা নিয়ে ঝগড়া হতে মেয়ে ও তাঁর মা গ্রামবাসীর পরামর্শে অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযুক্তের এমন সওয়ালের জেরে এই সাজাও খারিজ হয়েছে।        

23rd     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021