বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

বাড়ি বসেই স্নাতকের পরীক্ষায় নকল
করতে সক্রিয় শ’য়ে শ’য়ে চ্যাট গ্রুপ
হাতিয়ার হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম
 

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: ‘ফাইভের সি কোশ্চেনের উত্তরটা কেউ জানো? ইনবক্সে পাঠাও প্লিজ।’ ‘আমাকে কেউ ওয়ানের বি-টা বলো।’ —একের পর এক প্রশ্ন আছড়ে পড়ছে। উত্তরও মিলে যাচ্ছে তুরন্ত। এই বিশ্বে সবাই গুড সামারিটান! অন্যের ভালো করলে নিজেরও ভালো হবে। এই থিওরিতে বিশ্বাসী। করোনার ‘সৌজন্যে’ বাড়িতে বসেই পরীক্ষার সুযোগ মিলছে। আর তা কাজে লাগাতে কসুর করছেন না এক শ্রেণির পড়ুয়া। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সেমেস্টারের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে তৈরি হয়েছে হাজারও হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম গ্রুপ। তাতেই আসছে এমন অনুরোধ। নিরাশ হচ্ছেন না প্রায় কেউই। তবে, স্রেফ নোটস শেয়ার করা বা বিষয় নিয়ে আলোচনার বৈধ গ্রুপও রয়েছে। তার সংখ্যাও প্রচুর।
করোনার জন্য চূড়ান্ত সেমেস্টারের পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর বাড়িতে লিখে ই-মেলে পাঠিয়ে দিতে হবে এবারও। আর এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না কেউই। গতবার অনেকে কৌশলটা বুঝতে পারেননি। এবার অবশ্য তাঁরা ব্যাপারটা ধরে নিয়েছেন। ‘দশে মিলি করি কাজ’ নীতিতে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ টোকাটুকিটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। এখন বহু বিশ্ববিদ্যালয়েই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন চলছে। তার প্রশ্ন এক-এক করে আসছে গ্রুপে। উত্তরও সবাই পেয়ে যাচ্ছেন চটজলদি। তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে উত্তর যাচ্ছে ইনবক্সে। ফাইনাল সেমেস্টারের পরীক্ষার আগে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নেই ‘ওয়ার্ম আপ’ সেরে রেখেছিলেন গ্রুপের সদস্যরা।
বিএ ইংলিশ অনার্স ফোর্থ সেমেস্টার, ফিজিক্স অনার্স সিক্সথ সেমেস্টার, ম্যাথস অনার্স থার্ড সেমেস্টার—এরকম হাজারো গ্রুপ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে আবার অনেক ক্ষেত্রেই গোপনে উল্লেখ থাকছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। এখানে যোগদানের জন্য গ্রুপের অ্যাডমিন বা পরিচালকরা রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছেন। তাতে শ’য়ে শ’য়ে পড়ুয়া যোগও দিচ্ছেন। গ্রুপগুলির সদস্য সংখ্যা বেশিরভাগই সর্বোচ্চ সীমায়। অর্থাৎ ২৫৬ জন করে সদস্য রয়েছে। অর্থাৎ, দেওয়াল ডিঙিয়ে প্রশ্নের উত্তর ছুড়ে দেওয়ার দিন শেষ। করোনার সঙ্গে নয়ারূপে ফিরছে টুকলি। পরীক্ষার হলে ফোন তল্লাশি হতে পারে। বাড়িতে ধরবে কে? সেই সুযোগই নিচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা।
এই ঘটনার কথা শুনে অবাক কলেজের অধ্যক্ষরা। নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী বলেন, টোকাটুকির জন্য এরকম গ্রুপ তৈরির কথা তো শুনিনি। তবে, প্রশ্নপত্র আগে জোগাড়ের জন্য কিছু গ্রুপ তৈরির কথা শুনেছি। করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় যতদূর সম্ভব স্বচ্ছতা বজায় রেখে পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল করও এই অভিযোগ শুনে আকাশ থেকে পড়েন। তিনি বলেন, কুকর্মের জন্য এত বুদ্ধি খাটাতে পারে কেউ! শুনে শিক্ষাবিদ হিসেবে খারাপ লাগছে। আসলে ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস যে তলানিতে ঠেকেছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। এদিকে, এ ধরনের গ্রুপে প্রচুর স্প্যামারও ঢুকে গিয়েছে। তারা বিভিন্ন লিঙ্ক গ্রুপে শেয়ার করছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলি ফিশিং লিঙ্ক। তার মাধ্যমে সাইবার প্রতারণার কবলেও পড়তে পারে ছাত্রছাত্রীরা। কিছু গ্রুপে স্প্যামার ঠেকাতে তা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, পরীক্ষার দু’দিন আগে তা খোলা হবে। তা করাও হয়েছে। 

31st     July,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021