বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে এনে ‘খোঁচা’ প্রধানমন্ত্রীকে
অবিলম্বে শ্রম সম্মেলন ডাকার আবেদন,
মোদিকে চিঠি সঙ্ঘের শ্রমিক সংগঠনের

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: ‘দেশের দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিকদের স্বার্থে দয়া করে ভারতীয় শ্রম সম্মেলন ডাকুন। নিজে হাজির থাকুন সেখানে। ১৯৪০ সাল থেকে চলে আসা এই সম্মেলনের গুরুত্ব ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করুন। আইনি বাধ্যবাধকতাও বজায় রাখুন।’ কোনও বামপন্থী বা কংগ্রেসপন্থী সংগঠন নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এমনই মিঠে-কড়া ভাষায় চিঠি লিখল আরএসএস-এর শ্রমিক সংগঠন বিএমএস। বিজেপি জমানায় টানা ছ’বছর হচ্ছে না জাতীয় শ্রম সম্মেলন। তা ফের চালু করতে সঙ্ঘ পরিবারের আওতায় থাকা সংগঠনের এমন চিঠি রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়,  বছরের পর বছর এই সম্মেলন বন্ধ থাকা নিয়ে কংগ্রেস জমানার জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে পরোক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ‘খোঁচা’ দিতেও ছাড়েনি তারা। বিএমএস-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনয় সিনহা সোমবার এই চিঠি পাঠিয়েছেন মোদিকে। 
সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, ব্যাঙ্ক, বিমা সহ একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছেন মোদি। বিরোধী শিবির দেশ জুড়ে এনিয়ে সরব হয়েছে। পরিস্থিতি বিচার করে সঙ্ঘ নেতৃত্ব এ বিষয়ে সরকারকে ধীরে চলার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু সেসব পরামর্শ মোদি তথা কেন্দ্রীয় সরকার খুব একটা গুরুত্ব যে দিচ্ছে না, তা সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেই স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংগঠনে নিজেদের গুরুত্ব ধরে রাখতে এবার বিরোধীদের সুরে প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তোলার রাস্তায় হাঁটতে চাইছে সঙ্ঘ। 
প্রধানমন্ত্রীকে ই-মেল করে পাঠানো চিঠিতে বিনয়বাবু আরও বলেছেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন আইএলওর ১৪৪তম প্রস্তাব বা কনভেনশনকে দেশের সংসদও অনুমোদন দিয়েছে। ফলে এই বিষয়টির আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ভারতীয় শ্রম সম্মেলন ১৯৪০ সাল থেকে ফি বছর হয়ে আসছে। ডঃ আম্বেদকরের দূরদৃষ্টির কারণে তা ত্রিপাক্ষিক আলোচনার সর্বোচ্চ মঞ্চের চেহারা লাভ করে ‘শ্রম সংসদ’ তকমা পায়। ১৯৫৭ সালে ১৫তম সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই উঠে আসে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বৈজ্ঞানিক ফর্মুলা। বিভিন্ন দেশ ভারতের এই সম্মেলন মডেলকে পরে অনুসরণ করেছে। খুব জরুরি কারণে কখনও দু’বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্মেলন। একমাত্র জরুরি অবস্থার সময় টানা কয়েক বছর তা হয়নি। ১৯৯৭ সাল থেকে সম্মেলনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি। 
ক্ষুব্ধ বিএমএস নেতার বক্তব্য, ২০১৫ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ গত কয়েক বছরে দেশের অন্দরে শ্রমিক কেন্দ্রিক নানা ইস্যু তৈরি হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিক, শ্রম আইনের সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা, মহামারীতে কর্মচ্যুত এবং মজুরি হ্রাস হওয়া, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সমস্যা, মহিলা শ্রমিকদের সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো বহু ইস্যুতে এই ধরনের ত্রিপাক্ষিক মঞ্চে আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

23rd     July,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021