বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

‘বলেছিলাম, বৃষ্টি না থামলে ট্যাক্সিতে
ফিরিস, হেঁটে আসার দরকার নেই’
ঋষভের 
অকালমৃত্যুতে শোকে পাথর বাবা-মা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাবা, বৃষ্টি না থামলে ট্যাক্সি করে বাড়ি ফিরিস। হেঁটে আসার দরকার নেই। এখন সময় ভালো নয়। ঘরে ঢুকে ফোন করিস। তখন ভালোভাবে কথা না হওয়ায় ছেলের ফোনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ফরাক্কার এনটিপিসি মোড়ের বিপাশা মণ্ডল। কিন্তু মায়ের মোবাইলে আর ডায়াল করার সুযোগ পাননি ঋষভ। সন্ধ্যায় টিভির পর্দায় চোখ রেখে আঁতকে ওঠেন তাঁর বাবা মনোজ মণ্ডল। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যুর খবর ব্রেকিং নিউজ হিসাবে দেখানো হচ্ছিল। সদ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা তাঁদের ছেলের কোনও কিছু হলো না তো! মনে কু ডাকতে থাকতে থাকে। কিছুক্ষণ পরই আশঙ্কা সত্যি হয়ে দেখা যায়। কলকাতা থেকে ফোনে জানানো হয়, ঋষভ আর নেই। রাজভবনের সামনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন। হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে। জলে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়েছিল। তা পায়ে লেগেই বিপত্তি হয়। বাড়িতে খবর আসার পর ছেলে হারানো মাকে তখন সামলানো দায় হয়ে উঠেছিল। বারবার মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। বাবাও শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েন। শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়।
ঋষভের আদি বাড়ি ফরাক্কার যোগেশ্বরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মা এখন ফরাক্কার এনটিপিসি মোড়ে থাকেন। ঋষভ কলকাতায় একটি সংস্থায় চাকরি করার সুবাদে সেখানেই থাকতেন। তাঁর বাবা বলেন, ছেলে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর একটি সংস্থায় চাকরি পেয়েছিল। ১ মার্চ কাজে যোগ দিয়েছিল। এক বছরের চুক্তি ছিল। তবে স্থায়ী হওয়ার সম্ভবনা ছিল। সেখানে স্থায়ী হয়ে গেলে ছেলে চাকরি করত। তা না হলে তার পিএইচডি করার ইচ্ছা ছিল। কোনও কিছুই হলে না। ও এভাবে চলে যাবে ভাবতে পারিনি। যাদের উদাসীনতার জন্য আমি ছেলে হারালাম তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঋষভ মে মাসের ১০ তারিখ কলকাতায় গিয়েছিলেন। তার আগে বেশ কয়েক দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন। আবার তিনমাস পর বাড়ি আসার কথা ছিল। এলাকাতে তিনি মেধাবী এবং শান্ত ছেলে হিসাবেই পরিচিত। তাঁর বাবা আরও বলেন, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ঋষভ বাইরে থাকলেও  প্রতিদিনই দু’বেলা ফোন করতো। এদিনও অফিস যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিল। কী দিয়ে ভাত খেয়েছে, অফিসে কী কাজ করতে হয় সবকিছুই মায়ের সঙ্গে আলোচনা করত। অফিস ছুটি হওয়ার পরেও ফোন করে জানিয়েছিল, কলকাতায় খুব বৃষ্টি হচ্ছে। তখনই মা ছেলেকে ট্যাক্সিতে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। 
ছেলের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই ঋষভের মা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তিনি বারবার বলে চলছেন, ভগবান ওকে কেন কেড়ে নিলে। আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। কাঁদতে কাঁদতে বারবার চোখ রাখছেন মোবাইলের দিকে। যদি আবার ছেলের ফোন আসে…।

13th     May,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021