বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

লকডাউনে পাশে থাকায়
‘অ্যাডভান্টেজ’ তৃণমূলের

রাহুল দত্ত, ধূপগুড়ি: জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার। তিন জেলাকে ঘিরে ধূপগুড়ি। মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা। রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিজ পণ্যের পাইকারি বাজারের হাট এখানেই। 
কৃষি বৈচিত্রের মধ্যেই মিলেমিশে থাকেন রাজবংশী, নমঃশূদ্র সহ সব সম্প্রদায়েরই মানুষ।  স্বাধীনতার পরে প্রথমে কংগ্রেসের এবং পরে সংযুক্ত সমাজতান্ত্রিক দলের দখলে ছিল এই বিধানসভা কেন্দ্র। কিন্তু, ১৯৭৭ সালে পালাবাদল। সেই থেকেই  সিপিএমের দুর্ভেদ্য দুর্গ ধূপগুড়ি। ২০১১ সালে পরিবর্তনের ঝড়ে ধসে পড়েনি সেই দুর্গ। কিন্তু, ২০১৬ সালে সব হিসেব উল্টে দিয়ে ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মিতালি রায়। স্থানীয় পুরসভার ক্ষমতাতেও তৃণমূল। পুরসভায় ও সরকারে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে এলাকায় ঢালাও উন্নয়ন হয়েছে। তার পরেও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন মানুষ। ১৭ হাজারেরও বেশি ভোটে এই কেন্দ্র থেকে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। 
কেন? উত্তর খুঁজতে গিয়ে তৃণমূল নেতারা লেজেগোবরে হচ্ছেন। তবে, দলের  বড় অংশের কর্মী-সমর্থকদের পর্যবেক্ষণ—‘মানুষ আমাদের আসলে ভুল বোঝেননি। দলের মধ্যে মত বিরোধ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই লোকসভা ভোটে কাল হয়েছিল।’ তবে লকডাউনের দুঃসময়ে সবাই একসঙ্গে হাত ধরেছেন। মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। পরবর্তীকালে গোষ্ঠী তৈরির মাতব্বররা দল ছেড়েছেন। ফলে এখন দলের অন্দরে কোন্দল প্রায় নেই বললেই চলে। এটাই জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে তৃণমূলকে। দলের সমর্থক নীলকমল বসাকের কথায়, ‘দলবদলু নেতাদের ঠেলায় দ্বন্দ্বে দীর্ণ এখন বিজেপি। লোকসভা ভোটের হাওয়া এখন উবে গিয়েছে। যেটা আমাদের জয়ের পথকে সুগম করেছে।’
নীলকমলের মতো তৃণমূলের ‘সহজ জয়’ অবশ্য দেখছেন না জিতু বর্মন। কলেজপাড়া এলাকায় দাঁড়িয়ে তিনি বলছিলেন, ‘অ্যাডভান্টেজ রয়েছে, এটা ঠিকই। তবে, একেবারে নিশ্চিন্তে থাকার সুযোগ নেই। এখানে উন্নয়নমূলক বহু কাজ হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে এখানকার মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তা হলেও এখানে বরাবরই বিজেপির একটা ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। ২০১১ সালে ১০ শতাংশের কাছাকাঠি ভোট পেয়েছিল তারা। ২০১৬ সালে ১৭.৩০ শতাংশ হয়। ২০১৯ সালে সেটি ৪৯ শতাংশে পৌঁছে যায়। যার মধ্যে বাম-ভোটের একটা বড় অংশ রয়েছে। এবার সেই ভোট রাম ছেড়ে বামে ফিরলে তৃণমূলের জয় সুনিশ্চিত।’
 কিন্তু, বামেদের ‘ঘর ওয়াপসি’র সম্ভাবনা কতখানি? স্থানীয় দোকানদার সুখেন রায়ের কথায়, ‘গ্রামীণ এলাকায় (গিলান্ডি, বানেরহাট, বিন্নাগুড়ির অংশ, মাগুরমাড়ি, ঝুমুড়) বামেদের প্রভাব এখনও তেমন চোখে পড়েনি। তবে শহর এলাকায় লাল পাতাকার দাপাদাপি ফের দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের সময় গ্রামীণে  ভালো কাজ করেছে তৃণমূল। বহু মানুষের পাশে থেকেছে ওরা। সেটা শাসকদলের পক্ষে সহায়ক। একই সঙ্গে শহরের বাম-ভোট বামেই ফিরতে হবে। এটাই ধূপগুড়ির সহজ ভোট-অঙ্ক।’ 
এই ‘অঙ্ক’ কষতে অবশ্য রাজি নন বিজেপি প্রার্থী বিষ্ণুপদ রায়। ধূপগুড়ির অনুন্নয়ন নিয়ে তিনি এক তিরে বিঁধছেন সিপিএম, তৃণমূলকে।  প্রচারে বেরিয়ে মানুষকে বোঝাচ্ছেন, ৩৪ বছরে বামেদের বঞ্চনা। গত ১০ বছরের তৃণমূলের দুর্নীতি। সেই সঙ্গে গেরুয়া শিবির কী করতে চায়, তার ফিরিস্তি নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, মজবুত সংগঠন এবং মানুষের ভালোবাসা নিয়েই তিনি জিতবেন। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী মিতালি রায়ের হাতে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের তালিকা। প্রচারে গিয়ে মানুষকে বোঝাচ্ছেন, বিজেপি এলে কী ক্ষতি। সিপিএম প্রার্থী  বলছে, যুব সমাজের কর্মসংস্থানের কথা। 
রাজনৈতিক লড়াইয়ে এবার আচমকা এসে পড়েছেন টোটো চালকরা। ক’দিন পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে টোটো জাতীয় সড়ক পারাপার করতে পারবে না। এতে বেশ সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় টোটো চালকরা। টোটো চালক মুন্না বর্মনের কথায়, ‘আমাদের পেটে কেন লাথি মারা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। জাতীয় সড়ক পারাপার না করতে পারলে ধূপগুড়িতে টোটোর অর্ধেকের বেশি যাত্রী কমে যাবে।’ সব মিলিয়ে ২০-২৫ হাজার টোটোর চালক এবং পরিবার মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ খুব বিপদে পড়বেন বলে মত আরেক চালক সমীর মহন্তর। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে, এর প্রভাব ভোট বাক্সে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকেই। টোটো চালকদের অবশ্য আশ্বস্ত করছেন ভোট-প্রার্থীরা। 

16th     April,   2021

মুখ্যমন্ত্রীর ৪টি চিঠি নিয়ে মুখে কুলুপ
মমতাকে এড়িয়ে ডিএমদের সঙ্গে
কোভিড-বৈঠক ‘উদ্বিগ্ন’ মোদির

রাজ্যে রাজ্যে বাড়ছে সংক্রমণ এবং মৃত্যু। টিকা, অক্সিজেন, হাসপাতালে বেডের আকাল দেশজুড়ে। এই সঙ্কটকালে সার্বিক টিকাকরণ এবং অক্সিজেনের দাবিতে বারবার প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন একাধিক অবিজেপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এদিনও ১২ জন বিরোধী নেতা মিলিতভাবে চিঠি দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদিকে। যদিও পত্রাঘাত পর্বে অন্যতম অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিগত কয়েকদিনে নরেন্দ্র মোদিকে চারটি চিঠি পাঠিয়েছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেননি।

 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
12th     May,   2021