বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

‘নতজানু’ বিজেপি নেতৃত্বের
বিরুদ্ধে লড়াই ডাক্তারবাবুর

তন্ময় মল্লিক

ডাঃ সজল বিশ্বাস। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী সজলবাবু এখন ৩৭। সরকারি চাকরি ছেড়েছেন মাস তিনেক হল। বিজেপির প্রতি তাঁর অনুরাগ দীর্ঘদিনের। অনেকে ভেবেছিলেন, সজলবাবুই গাইঘাটায় বিজেপির প্রার্থী হবেন। কিন্তু, মতুয়া ভোট হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ‘বেসুরো’ শান্তনু ঠাকুরের দাদা সুব্রত ঠাকুরকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ির কাছে বিজেপি নেতৃত্বের এই ‘আত্মসমর্পণ’ মানতে পারেননি দলের অনেকে। তাঁরাই সজলবাবুর কাছে গিয়ে বলেছিলেন, ‘একটা প্রতিবাদ হওয়া দরকার। ঠাকুর হরিচাঁদ-গুরুচাদকে সামনে রেখে ক্ষমতা ভোগের রাজনীতি ঠেকাতে হবে।’ সজলবাবু না করেননি। তিনি জনসঙ্ঘ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী। বিজেপির পথের কাঁটা।
সজলবাবু বলেন, চাকরি ছাড়ার সময় আমাকে প্রার্থী করতে হবে, এমন কোনও শর্ত বিজেপিকে দিইনি। শুধু বলেছিলাম, ঠাকুরবাড়ির বাইরে কাউকে প্রার্থী করা হোক। কিন্তু, দল সেই সাহস দেখাতে পারেনি। আমাদের লড়াই ঠাকুরবাড়ির নীতির বিরুদ্ধে। যেভাবে ঠাকুরবাড়ি রাজনীতিকে গ্রাস করছে তাতে হয়তো একদিন দেখা যাবে, পঞ্চায়েতের প্রার্থীও ওই বাড়ি থেকে করার দাবি উঠবে। এটা মানা যায় না। আমার বাবাও ঠাকুর হরিচাঁদ-গুরুচাঁদের ভক্ত। ঠাকুর হরিচাঁদ-গুরুচাঁদও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষকে শিক্ষার আঙিনায় আনতে চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই ভোটে দাঁড়িয়েছি। জনসঙ্ঘ আমাকে সমর্থন জানিয়েছে। ঠাকুরবাড়ির ক্ষমতা ভোগের রাজনীতির বিরুদ্ধে গাইঘাটার মানুষের ক্ষোভ কতটা, তা বুঝবেন ২ মে।’
২০১৫ সালে বনগাঁ লোকসভা উপনির্বাচনে মমতাবালা ঠাকুরের কাছে পরাজিত সুব্রত ঠাকুরকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। পরাজয়ের পর চাকরি নিয়ে সোজা অস্ট্রেলিয়ায় চলে গিয়েছিলেন তিনি। বছর তিনেক কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন গত বছর মার্চে। এহেন সুব্রতবাবুকে প্রার্থী করায় বিজেপির অন্দরে প্রবল ক্ষোভ। তা সত্ত্বেও তিনি প্রার্থী। কারণ বিজেপির দিল্লির নেতৃত্ব মনে করে, মতুয়া ভোট ঠাকুরবাড়ির নির্দেশে ইভিএমে জমা পড়ে।
সুব্রতবাবু বলেন, সব সময়ই একটা বিরোধীপক্ষ থাকে। আমি গরিবের জন্য কাজ করতে চাই বলেই অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরেছি। সজলবাবু ডাক্তার হতে পারেন, কিন্তু মানুষের কাজে লাগেন না। আমি ঠাকুরবাড়ির সদস্য। আমার রক্তে রয়েছে রাজনীতি। আমার জয় উনি ঠেকাতে পারবেন না। 
তৃণমূল কংগ্রেসও অঙ্ক কষেই ঠাকুরবাড়ির ঘনিষ্ঠ নরোত্তম বিশ্বাসকে প্রার্থী করেছে। নরোত্তমবাবুর কথায়, রক্ত নয়, কর্মই আসল। হরিচাঁদ ঠাকুরের দুই ছেলে, গুরুচরণ ও ঊমাচরণ। গুরুচরণ তাঁর কর্মগুণে গুরুচাঁদ হয়েছিলেন। কর্ম তাঁকে ঈশ্বরের আসন দিয়েছে। উমাচরণ কিন্তু উমাচাঁদ হতে পারেননি। তাই যিনি কাজ করতে পারবেন, গাইঘাটার মানুষ তাঁকেই জেতাবেন।
সুব্রতবাবু গুরুত্ব না দিলেও নির্দল প্রার্থী সজলবাবুকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে দুশ্চিন্তার মেঘ ক্রমশ কালো হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে বেছে বেছে তাঁর ফেক্স ছিঁড়ে দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করছে, নির্দল হলেও তিনি লড়াইয়ে আছেন। হয়তো আগ্নেয়গিরির লাভার মতোই সকলের অলক্ষে বিজেপির ক্ষোভের স্রোত তাঁরই দিকেই বইছে। সেই কারণেই কি লড়াই থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা?
সজলবাবু বলেন, গাইঘাটায় সমাজবিরোধীদের দাপট ভয়ঙ্কর। সকলেই বিহিত চান। কিন্তু, এগনোর সাহস পাচ্ছেন না।  কাউকে না কাউকে লড়াইটা লড়তেই হবে। ধরে নিন, আমিই সেটা শুরু করলাম। স্বাধীনতা আন্দোলনেও তো মাতঙ্গিনী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বেরিয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য থাকলেও প্রত্যাশা ছিল না। এটাও গাইঘাটার মানুষের ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’। ঠাকুরবাড়ির কাছে বিজেপি নেতৃত্বের আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শুরু। (শেষ)

16th     April,   2021

মুখ্যমন্ত্রীর ৪টি চিঠি নিয়ে মুখে কুলুপ
মমতাকে এড়িয়ে ডিএমদের সঙ্গে
কোভিড-বৈঠক ‘উদ্বিগ্ন’ মোদির

রাজ্যে রাজ্যে বাড়ছে সংক্রমণ এবং মৃত্যু। টিকা, অক্সিজেন, হাসপাতালে বেডের আকাল দেশজুড়ে। এই সঙ্কটকালে সার্বিক টিকাকরণ এবং অক্সিজেনের দাবিতে বারবার প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন একাধিক অবিজেপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এদিনও ১২ জন বিরোধী নেতা মিলিতভাবে চিঠি দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদিকে। যদিও পত্রাঘাত পর্বে অন্যতম অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিগত কয়েকদিনে নরেন্দ্র মোদিকে চারটি চিঠি পাঠিয়েছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেননি।

 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
12th     May,   2021