বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

ভোট দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে
গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু নতুন ভোটারের
শীতলকুচি

সন্দীপ বর্মন, শীতলকুচি: ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে রক্তাক্ত হয়ে প্রাণ হারালেন নতুন ভোটার। শনিবার শীতলকুচি ব্লকের লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠানটুলির ২৮৫ নম্বর বুথে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিস জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত ওই যুবকের নাম আনন্দ বর্মন (১৮)। এই যুবকের মৃত্যু নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মৃত আনন্দ তাঁদের দলের কর্মী ছিলেন। তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করেছে। শাসকদলের পাল্টা বক্তব্য,পাঠানটুলিতে বিজেপির লোকজনই বোমাবাজি করে, গুলি চালায়। কার গুলিতে আনন্দ বর্মন মারা গিয়েছে তা তদন্ত করে দেখলেই পরিষ্কার হবে। এ ঘটনার পর ওই বুথে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। পরে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা পৌঁছলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং ভোট নেওয়া শুরু হয়।
এদিন ভোট গ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতের পরিবারের দাবি, আনন্দর দাদা গোবিন্দর উপরও এদিন হামলা হয়। তিনি গুরুতর জখম অবস্থায় মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একইসঙ্গে ওই এলাকার আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। 
বিজেপির শীতলকুচি মণ্ডল সভাপতি কনক বর্মন বলেন, এদিন সকালে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হতেই আমাদের কর্মীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে থাকেন। সেই সময়ে তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী বাইক নিয়ে বোমাবাজি করতে করতে এলাকায় ঢোকে। দুষ্কৃতীরা ভোটারদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি বোমা ও গুলি ছোঁড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই এলাকার আমাদের শক্তি প্রমুখ গোবিন্দ বর্মনের ভাই আনন্দ গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে শীতলকুচি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানান। তৃণমূলের ওই বাইক বাহিনী দুষ্কৃতীদের আমরা গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি। 
তৃণমূলের শীতলকুচির ব্লক সভাপতি তপন গুহ বলেন, ক’দিন ধরে ব্লকজুড়ে বিজেপির লোকজন ব্যাপক বোমাবাজি করছে। ওরা আগে থেকেই এলাকাকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছিল। পাঠানটুলিতে বিজেপির লোকজনই বোমাবাজি করে, গুলি চালায়। ওই বুথের আমাদের কর্মীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিক থেকেও গুলি চালানো হয়েছে। কার গুলিতে আনন্দ বর্মন মারা গিয়েছে তা তদন্ত করে দেখলেই পরিষ্কার হবে। বিজেপির পোষা গুন্ডাদের আক্রমণে আমাদের কয়েকজন কর্মী জখম হন। আমরা বিজেপির বোমা-বন্দুকের রাজনীতির নিন্দা করছি। 
মৃত আনন্দের জ্যাঠতুতো দাদা বিমল বর্মন বলেন, আমরা কোনও ঝামেলায় ছিলাম না। তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে ঝামেলা দেখে আনন্দের সঙ্গে লাইন থেকে বেরিয়ে আসছিলাম। ওই সময়ে ওকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। কোচবিহারের পুলিস সুপার দেবাশিস ধর বলেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠানটুলির কাশিয়ারবান্নির ২৮৫ নম্বর বুথে সকাল থেকে বিজেপির এজেন্টকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। পরে বেশকিছু বিজেপি কর্মী একত্রিত হয়ে এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে বুথে যান। ওই সময়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। 

11th     April,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
12th     May,   2021