বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

মন্তেশ্বরে তৃণমূলের কাঁটা ভূমিপুত্র ইস্যু
বিজেপির মাথাব্যথা দলবদলু প্রার্থীই
কেন্দ্র: মন্তেশ্বর

অভিষেক পাল, মন্তেশ্বর: ভূমিপুত্র হলেও প্রার্থীর দলবদলু তকমাই মন্তেশ্বর বিধানসভায় বিপদ বিজেপির। প্রকাশ্যে তেমনভাবে কেউ বিরোধিতা না করলেও সদ্য তৃণমূল ত্যাগী প্রার্থীকে মন থেকে মেনে নিতে পারছে না বিজেপির একাংশ। অপরদিকে রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী মঙ্গলকোট আসন ছেড়ে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে এই কেন্দ্রে লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। এলাকার উন্নয়নের নিরিখে এখানে শাসক দলের নেতৃত্বের ফিল গুড আবহ থাকলেও প্রার্থীর গলার কাঁটা ভূমিপুত্র ইস্যু। তবে, এই বিধানসভার ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট কোনদিকে যাবে, তার উপরই নির্ভর করছে প্রার্থীর ভবিষ্যৎ ভোটভাগ্য। 
একুশের নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগে মন্তেশ্বর বিধানসভায় ভূমিপুত্র প্রার্থী চাই পোস্টারে ছয়লাপ হয়ে গিয়েছিল। এমনকী তৃণমূলের তরফে ভূমিপুত্র প্রার্থীর দাবিতে প্রচারও করা হয়েছিল। কারণ জল্পনা ছিলই যে, সিদ্দিকুল্লা সাহেব এই বিধাসভায় প্রার্থী হওয়ার জন্য দলনেত্রীর কাছে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। প্রার্থীপদ ঘোষণা হওয়ার পর দলের কর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখালেও, ধীরে ধীরে সেই ক্ষোভ মিটিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি প্রার্থীর। তাই নিজের পছন্দের কেন্দ্র পেয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তিনি। প্রবীণ এই রাজনীতিকের কাঁধে ভর করে ভোট বৈতরণী পার করতে এখন মরিয়া শাসক শিবির।  
মন্তেশ্বর বিধানসভায় এবারের ভোটে বিজেপি চাইছে ‘আসল পরিবর্তন’। কিন্তু সেই পরিবর্তনে শিক্ষিত হিন্দুরা গা ভাসাবেন কিনা তা লাখ টাকার প্রশ্ন। তবে এই পরিবর্তন হুঙ্কারে সংখ্যালঘু ভোট আরও একজোট হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে। তাই তাঁরা আঁকড়ে ধরতে চাইছেন কোনও শক্ত অবলম্বন। সেখানেই তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে তাঁরা পরিত্রাতা হিসেবেই দেখছেন। তবে এগিয়ে থেকে শুরু করলেও এখানে তৃণমূলের লড়াই একেবারে সহজ হবে না। কারণ নিজেদের মধ্যে কোন্দল ও সাবোতাজের আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মন্তেশ্বরে তৃণমূল প্রার্থী সজল পাঁজা নির্বাচিত হন। কিন্তু দু’বছর বাদে হঠাৎ তাঁর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালের উপনির্বাচনে এই আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটেই জয়ী হন তাঁর ছেলে সৈকত পাঁজা। যদিও ভোট ঘোষণার আগে তিনি দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁকেই এবার প্রার্থী করেছে বিজেপি। এনিয়ে দলের একাংশের চাপা ক্ষোভ রয়েছে। এলাকায় গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, প্রথমদিন থেকে দল করে তৃণমূলের যাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়েছে, তাঁরাই আজ পদ্মের নেতা। সেই ক্ষোভ ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিধানসভায় ২ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে। যার মধ্যে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট জয়ের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হবে। ভোট কুশলীদের মতে, মুসলিম ভোট ঝুঁকে আছে দিদ্দিকুল্লা সাহেবের দিকে। তাই হিন্দুভোট তাদের দিকে টানতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। আবার সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী অনুপম ঘোষ এখানকার মুসলিম ভোটে থাবা বসাতে পারেন বলেও মনে করছেন অনেকে। 
ভোটের আগে যে যার মতো করে মন পাওয়ার চেষ্টা করছে সব দলই। তৃণমূলের প্রচারে উঠে আসছে গত দশ বছরের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান। পাশাপাশি ইস্তাহারে প্রকাশ পাওয়া ১০টি অঙ্গীকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করছেন তৃণমূল নেতা কর্মীরা। বিজেপি আসল পরিবর্তন এনে সোনার বাংলা গড়ার প্রচার চালাচ্ছে। বামেরা কর্মসংস্থান ও দুর্নীতি নিয়ে মানুষের কাছে বিকল্প সরকারের আহ্বান জানাচ্ছে। যদিও উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতির ভোটে কোন দিকে পাল্লা ভারী তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২মে অবধি। যদিও তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা সাহেব বলেন, জয়ের মার্জিন বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। দলে কোনও সমস্যা নেই। সকলে এক হয়ে কাজ করছেন। ১০ বছরের উন্নয়ন দেখেই মানুষ আমাদের ভোট দেবেন। বিজেপি প্রার্থী বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত মন্তেশ্বর গড়াই আমার লক্ষ্য। মানুষ তৃণমূলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই আমাদের ভোট দেবেন।  

8th     April,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
10th     April,   2021