বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

‘তুমিই পারবে’, বালির বাম
প্রার্থীকে ভরসা বৃদ্ধ গৃহকর্তার
বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে ‘নিবিড় প্রচার’

বীরেশ্বর বেরা, হাওড়া: বেলুড়ের টিফিনবাজার। অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। আঁকাবাঁকা গলিপথ ধরে পৌঁছতে হয় গেরস্থের উঠোনে। টোটোও আটকে যায় সেই পথে। অগত্যা এক বামকর্মীর বাইকে সওয়ার দীপ্সিতা ধর। পিছনে আরও কয়েকটি বাইক। সব আরোহীর গায়ে টি-শার্ট। তাতে আঁকা কাস্তে-হাতুড়ি। কারও হাতে লালঝান্ডা। আবার দু’একজন প্রৌঢ়ের হাতে  পত পত করে উড়ছে কংগ্রেসের পতাকা। একটি বাড়ির সামনে গিয়ে কলিং বেলের সুইচ টিপলেন বালি বিধানসভার সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম প্রার্থী। 
ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন এক বৃদ্ধ। তিনিই এ বাড়ির  গৃহকর্তা। হাসিমাখা মুখ। নমস্কার করে বললেন, ‘কেমন আছো তুমি?’ দীপ্সিতার মুখে ‘ভালো’ কথাটা শেষ হতে না হতেই বৃদ্ধ বলে চললেন—‘তোমার কথা, গান, আবৃত্তি, বক্তৃতার ভিডিও ফেসবুকে আমার মেয়ে সবসময় দেখে। আমাকেও দেখায়। তুমিই পারবে মা।’ আশীর্বাদের ভঙ্গিতে হাত তুললেন গৃহকর্তা। প্রতি নমস্কার সেরে বেরিয়ে এলেন জেএনইউয়ের গবেষক ছাত্রী। 
বামপন্থী ভোট-রাজনীতির ময়দানে ‘নিবিড় প্রচার’ কথাটি ঘুরেফিরে আসে। অর্থাৎ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে ভোট প্রচার। বালিতে সেটাই হাতেকলমে করে দেখাচ্ছেন দীপ্সিতা। হচ্ছে কিছু বড় এবং বর্ণাঢ্য মিছিলও। কলকাতা থেকে আসছেন রাজ্যস্তরের নেতানেত্রীরা। তাঁর সমর্থনে তাঁরা সভাও করছেন। তবে ওই ‘নিবিড় প্রচার’য়েই বেশি জোর দিচ্ছেন প্রার্থী। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী এই কেন্দ্রে অনেকটা পিছিয়েই ছিল বামেরা। এবার দীপ্সিতা যে জয়ের দিশা দেখছেন, তার মূলে রয়েছে প্রচার পদ্ধতিই। 
বালির এমন কোনও বাড়ি নেই, যেখানে এই কৃতী ছাত্রী যাচ্ছেন না। কোথাও সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে বাসিন্দাদের কাছে ভোট চাইছেন। কোথাও গৃহকর্তার সঙ্গে দেখা করবেন বলে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকছেন ৫-১০ মিনিট। রাস্তায় বাইক বা সাইকেল থামিয়ে হাত মেলাচ্ছেন। কেউ মৃদু হেসে চলে যাচ্ছেন। আবার কেউ বলছেন, ‘চিন্তা করবেন না তিনি। আমি তো বরাবরই সিপিএম।’ সন্তান কোলে মা এসেও অভয় দিচ্ছেন। শিশুর গাল টিপে আদর করে দিচ্ছেন দীপ্সিতা। 
ঠাকুরদাস ঘোষ স্ট্রিটের বাসিন্দা শীলা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘরকন্না সামলেই লেখালেখি করা তাঁর শখ। দীপ্সিতাকে তুলে দিলেন তাঁর প্রকাশিত বইয়ের একটি কপি। এর মধ্যেই বেলুড় জোনাল কমিটি থেকে ফোন এল পার্টিনেতার। যেতে হবে লিলুয়া সমবায় আবাসনে। সেখানে বেশ কিছু বয়স্ক মানুষ অপেক্ষা করছেন প্রার্থীর জন্য। এবারও বাইকে সওয়ার হলেন দীপ্সিতা। প্রচারের ফাঁকে কথায় কথায় জানালেন, বালি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় সব এলাকাতেই নিজে প্রচারে যেতে পেরেছেন। তারপর যেসব ‘পকেট’ বাকি ছিল, বা আরও একবার যাওয়ার প্রয়োজন আছে, সেই এলাকাগুলি ‘কভার’ করা হচ্ছে। লিলুয়া সমবায় আবাসনের দুর্গামণ্ডপে দীপ্সিতাকে ফুলের মালা দিয়ে অভ্যর্থনা জানালেন সেখানকার এক প্রবীণ বাসিন্দা। এক গৃহবধূ মিষ্টি, জল আনলেন। আবাসনে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল এখানকার কলেজপড়ুয়া সায়কের সঙ্গে। তিনিও বাম ছাত্র-যুবদের নবান্ন অভিযানে পুলিসের লাঠির আঘাতে জখম হয়েছিলেন। 
প্রচারের শেষে দীপ্সিতাকে জিজ্ঞাসা করা গেল, বাকি দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বী, তৃণমূলের রাণা চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপির বৈশালী ডালমিয়াও তো এখানে জিতবেন বলে দাবি করেছেন। তাছাড়া গত লোকসভা ভোটের হিসেবে আপনারা তো অনেকটা পিছিয়ে? ‘লোকসভা ভোটের থেকে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই আলাদা। তখন নানাভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। মানুষ এবার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝছেন সবটা। বাকিটা জানা যাবে ২ মে।’ এটুকু বলে পার্টি অফিসে ফেরার জন্য বামকর্মীদের বাইকে চেপে বসলেন দীপ্সিতা। 

8th     April,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
10th     April,   2021