বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

লকডাউনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো
 বর্ণালীকে মনে রেখেছে মানুষ
কেন্দ্র: রানাঘাট দক্ষিণ

সুদেব দাস, রানাঘাট: শুনশান রাস্তাঘাট। বন্ধ দোকান-বাজার। হাসপাতালের বাইরে পরিযায়ী শ্রমিকদের দীর্ঘ লাইন। কেউ এসেছেন চেন্নাই, কেউ আবার কেরল থেকে।  অদৃশ্য করোনা ভাইরাস তাড়া করে বেড়াচ্ছে। জারি রয়েছে লকডাউন। বছরখানেক আগে এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত ছিল গোটা দেশ। সেই সময় রাজনৈতিক রং ভুলে, দলীয় পতাকা দূরে রেখে গ্রামের প্রত্যন্ত মানুষদের কাছে সাহায্য নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন নদীয়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা এবারের রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী দে। লকডাউনের সময় গ্রামের মানুষদের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সংযোগ, ভোটের আগে তৃণমূলকে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ জোগাচ্ছে।
মূলত, এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর জনসংযোগের সঙ্গে টেক্কা দিতেই বিজেপি তরুণ চিকিৎসক মুকুটমণি অধিকারীকে প্রার্থী করেছে। তিনিও পুরোদমে প্রচারে নেমেছেন। তবে লকডাউনের সময় থেকে তৃণমূল প্রার্থী গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনসংযোগ করে মানুষের যে আস্থা অর্জন করেছেন, তার কাছে কিছুটা হলেও পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে বিজেপি প্রার্থীকে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
গাংনাপুর থেকে শ্রীধরপুর যাওয়ার রাস্তার পাশেই  কোড়াবাড়ি গ্রাম। রাস্তার দু’ধারে চাষের জমি। কৃষিকাজই এলাকার বাসিন্দাদের প্রধান জীবিকা। ভোটের সময় ছাড়া এ তল্লাটে নেতা-মন্ত্রীদের দেখা মেলে না বলেই অভিযোগ। তবে গতবছর  লকডাউনের সময়  গ্রামের মানুষের খোঁজ নিতে এসেছিলেন বছর চল্লিশের এক মহিলা। ছিল না কোনও ব্যানার, পতাকা ইত্যাদি। অনেকেই ভেবেছিলেন, কোনও সমাজসেবী সংগঠনের কেউ হবেন। তারপর কেটে গিয়েছে এক বছর। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে গ্রামীণ জনপদ। ভোটের দামামা বেজে উঠতেই এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ফ্লেক্স টাঙিয়েছে। শাসক দলের ফ্লেক্সে উঠে এসেছে সেই মহিলার ছবি। বাসিন্দাদের অনেকেই বুঝতে পেরেছেন ইনিই সেই মহিলা, যাঁকে লকডাউনের সময়ে দেখা গিয়েছিল গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়াতে— বর্ণালী দে।
ভ্যান চালিয়ে দিন কাটতো গ্রামেরই বাসিন্দা বিমলচন্দ্র মণ্ডলের। তিনি বলেন, লকডাউনের সময় কষ্টে দিন কেটেছে। সেই সময় এলাকায় ওই ‘দিদি’ এসেছিলেন। সাধ্যমতো আমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন। এমনকী একটি ফোন নম্বর দিয়ে, অতি প্রয়োজনে ফোন করতে বলেছিলেন। তখন তাঁর হাতে গ্লাভস, মুখে মাক্স ছিল। চিনতে পারিনি। কিন্তু এখন আমাদের কাছে পরিষ্কার, তিনি এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন। কয়েকদিন আগেও তিনি এই গ্রামে এসেছিলেন। প্রবীণদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছেন। মহিলা, বৃদ্ধাদের বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। তা দেখে আমাদের অনেকের চোখে জল আসে। নিশ্চিতভাবেই তার প্রতিফলন ইভিএমে পড়বে। 
শুধু কোড়াবাড়ি গ্রাম নয়। লকডাউনের সময় এমন দৃশ্যের সঙ্গেই পরিচিত হয়েছিল রানাঘাট-১ ব্লকের তারাপুর, ন’পাড়া, পায়রাডাঙ্গা ইত্যাদি গ্রাম। যদিও তৃণমূল প্রার্থী বলেন, আমি নিজেও একজন গ্রামের সাধারণ পরিবারের মেয়ে। তাই অতিমারীর সময় গ্রামের মানুষের অভাব-যন্ত্রণা আমাকে ব্যথিত করেছে। যেটুকু পেরেছি মানুষের জন্য কাজ করবার চেষ্টা করেছি। তখন বিধানসভা নির্বাচন ছিল দূর অস্ত। সুতরাং আমি এই কেন্দ্রের প্রার্থী হব তা মাথাতেই আসেনি।
এদিকে গ্রামবাসীদের অনেকেই বলেন, এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার মাজদিয়ার বাসিন্দা। তাই লকডাউনের সময় তাঁকে কাছে পাওয়া যায়নি। যদিও বিজেপি নদীয়া জেলা দক্ষিণ সাংগঠনিক সহ-সভাপতি বিপুল উকিল বলেন, বিজেপি একটি সাংগঠনিক দল। সাংগঠনিকভাবে আমরা কাজ করি। লকডাউনের সময় কেউ যদি ব্যক্তিগত কোনও কাজ করে থাকেন, তার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। ওই সময় আমরাও দলীয়ভাবে কাজ করেছি। আমাদের দলের দুস্থ কর্মীরা গবাদি পশু বিক্রি করে, সেই টাকা দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এমন উদাহরণও আছে।

8th     April,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
15th     April,   2021