বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

ইতিহাসকে সাক্ষী রেখেই পর্যটনে
শ্রীবৃদ্ধি টেরাকোটার শহর বিষ্ণুপুরে

অভিজিৎ চৌধুরী, বিষ্ণুপুর: টোরাকোটার মন্দির, আর টেরাকোটা পুতুলের শহরে ভিড় বাড়ছে পর্যটকের। নাহ্‌, এই হিসেব এক-দু’দিনের নয়... বছর বছরের। পর্যটনের পেশাদাররা বুঝেছেন। বলছেন... ছবিটা বদলেছে আগের থেকে। অনেকখানি। টোরোকোটার ভাস্কর্য যে পুর এলাকাগুলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, সেখানে কিছুটা সময় কাটালেই বদলটা চোখে পড়ে। বাণিজ্যের স্বাভাবিক নিয়ম, গ্রাহক বাড়লে দোকান-বাজার বাড়ে। সেসবের আপগ্রেডেশনও হয়। গত কয়েক বছর বিষ্ণুপুরের পর্যটন-অর্থনীতি কিন্তু এই ইঙ্গিতই দিয়েছে। সরকারি উদ্যোগে পোড়মাটির হাট হয়েছে। আর তাকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যের নতুন দিশা পেয়েছেন গ্রামীণ শিল্পীরা। রাজনৈতিকভাবে নানা বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু পর্যটন-উন্নয়নের সাক্ষী দিচ্ছে ব্যবসা। যার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরাই। উন্নয়ন আর অনুন্নয়ন নিয়ে তরজা অন্তহীন। কিন্তু একটি প্রাচীন শহরে হোটেল ব্যবসার রমরমা, আর বহুজাতিক সংস্থার জলের প্লাস্টিক বোতলের সর্বজনীন হয়ে যাওয়া... এ একটা সহজ-সরল হিসেব দেয়। অর্থনীতির মানুষ না হলেও এটা বোঝা কঠিন নয় যে, এই অঙ্কে সবটাই যোগ-গুণ। বিয়োগের চিহ্নমাত্র নেই।
বিষ্ণুপুর বাসস্ট্যান্ডে সকাল সকালই পরিচয় হয়েছিল সরকার দম্পতির সঙ্গে। করোনার কারণে ভিন রাজ্যে ঘুরতে যেতে পারেননি। তাই মালদহ থেকে চলে এসেছেন বিষ্ণুপুরে। সরকার গিন্নি পূরবী সরকার বললেন, ‘কাছেপিঠে কোথাও যেতে চেয়েছিলাম। তাই বিষ্ণুপুরটাই পছন্দ করলাম। বন্ধুবান্ধবদের অনেকেই সম্প্রতি ঘুরে গিয়েছে। তাঁরাই বলছিল, রথ দেখা কলা বেচা দু’টোই হয়ে যাবে।’ সরকার গিন্নির পছন্দ বালুচরী শাড়ি। আর সরকার কর্তা? বাড়ি সাজাতে চান মাটির পুতুলে। ফলে গন্তব্য বিষ্ণুপুর। 
লোকসমাগমের চিত্রটা চোখে পড়েছিল সুপ্রাচীন রাসমঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে। খুব ঘন না হলেও ভিড়টা সহজেই বোঝা যায়। শহরে পর্যটকদের মন্দিরগুলি ঘুরিয়ে দেখানোর কাজ করেন পিন্টু কুণ্ডু। পেশায় টোটোচালক। বলছিলেন, ‘এই সময় ভিড় অনেকটাই কম থাকে। গরমের মরশুম, পর্যটনের মরশুম তো আর নয়! ডিসেম্বরে কিন্তু ঠাঁই নাই অবস্থা। তবু এই মার্চে যা পর্যটক আছে, আগে তাও থাকত না।’ পিন্টুবাবুই জানালেন, পর্যটকদের সুবিধার জন্য টোটোর রুট ও ভাড়া পর্যন্ত সরকার ঠিক করে দিয়েছে। এতে পর্যটকরা খুশি, আবার টোটো চালকরাও প্রচুর যাত্রী পাচ্ছেন।
বিষ্ণুপুরের খ্যাতনামা কামানটি যেখানে রাখা আছে, সেই রাস্তার দু’ধারে টেরাকোটা পুতুলের দোকান। সময়ের গতি বদলেছে। তাই এক ছাদের তলায় ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতারও মহামিলন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এই সব দোকান। টেরাকোটার সঙ্গে দেদার বিকোচ্ছে সেরামিকের নানা সামগ্রী। এমনই এক দোকানের মালকিন লিলি পণ্ডিত বলছিলেন, ‘১৯৮২ সালে আমাদের টেরাকোটার সামগ্রীর দোকান চালু হয়। বিয়ে হয়ে আসার পর থেকেই দোকান দেখছি। গত দশ বছরে মানুষের ভিড় যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা টেনে বেড়েছে দোকান।’ মধ্যবয়সি লিলিদেবী তখন স্মৃতিচারণে মগ্ন। পাশেই ইতিহাসের গন্ধ মেখে নিথর হয়ে বসে আছে কামান। আজ বজ্রনির্ঘোষে আগুন উগরে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু সে দেখছে... পরিবর্তন। পর্যটন। মল্লরাজাদের প্রাক্তন ভিটেতে ভোটের মল্লযুদ্ধও। সে ইতিহাসের সাক্ষী... প্রমাণ। ক্ষমতা দেখাতে পারলে সেও হয়তো বজ্রকণ্ঠে বলত, জনাকীর্ণ হচ্ছে বিষ্ণুপুর। 
হাজার হোক ইতিহাস তো মিথ্যে বলে না।

8th     April,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
15th     April,   2021