বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
রাজ্য
 

নিমতিতা: চায়না মোবাইলের ব্যাটারি উদ্ধার
সন্দেহ এড়াতে বিস্ফোরকের
উপর ছিল রুটি ও তরকারি 

সুখেন্দু পাল, বহরমপুর: নিমতিতা বিস্ফোরণ কাণ্ডে তদন্ত যত এগচ্ছে ততই চাঞ্চল্যকর তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে আসছে। তাঁরা জানতে পেরেছেন, বিস্ফোরক ভর্তি ব্যাগের উপরে রুটি ও তরকারি রাখা হয়েছিল। ব্যাগ দেখে যাতে কারও কোনও সন্দেহ না হয় সেই কারণেই এমনটা করা হয়েছিল। তাদের সেই পরিকল্পনা সফলও হয়েছে। মন্ত্রীর অনুগামীদের কেউই সেটি দেখে সন্দেহ করেননি। ব্যাগের উপর খাবার দেখে মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা একজন তা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেইসময়ই বিস্ফোরণ হয়। গোয়েন্দারা ঘটনাস্থল থেকে কিছু ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী উদ্ধার করেছেন। ঘটনাস্থলেই পুরনো চায়না মোবাইলের একটি বড় ব্যাটারিও পাওয়া গিয়েছে। বিস্ফোরণে এই ব্যাটারিটি কাজে লাগানো হয়েছিল বলেই তাঁরা মনে করছেন। তবে, বিস্ফোরণের পরও সেটি অক্ষত রয়েছে।
তিনটি সংস্থা বিস্ফোরণকাণ্ডে তদন্ত করছে। প্রথম দু’-তিনদিন তাঁরা তেমন কিছু খুঁজে পাননি। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁদের হাতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। সেই সূত্র ধরেই অপরাধীর কাছে তাঁরা পৌঁছতে চাইছেন। তাঁরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার দিন রাতে স্টেশনের আশপাশে কয়েকজনকে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। বিস্ফোরণের পর তারা উধাও হয়ে গিয়েছিল। ওই যুবকরা কারা সেটা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জেরা করা হয়েছে। তবে এদিন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বিস্ফোরক তৈরিতে ওস্তাদ সূতির কয়েকজনকে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
গোয়েন্দাদের দাবি, এই ধরনের বিস্ফোরক জঙ্গি সংগঠনগুলি ব্যবহার করে। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোর রেকর্ড এই জেলায় নেই। তবে উন্নতমানের ডিভাইস এবং বিস্ফোরক এর আগেও মুর্শিদাবাদ থেকে উদ্ধার হয়েছে। ধুলিয়ানে কয়েক বছর আগে এমনই আইইডি উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে আবার জেএমবির যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল। তাই এই বিস্ফোরক তৈরিতে কোনও জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের যুক্ত থাকার সম্ভাবনাও আধিকারিকরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাদের কেউ অর্ডার দিয়ে বোমা বানিয়ে থাকতে পারে।
এক আধিকারিক বলেন, বিস্ফোরণে উন্নত মানের ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে সেই ডিভাইসের অংশ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া মোটা পাতের চাদর ব্যবহার করা হয়েছিল। তার টুকরোও স্টেশন চত্বর থেকে পাওয়া গিয়েছে। আধিকারিকরা মনে করছেন, বিস্ফোরক রাখার পর দুষ্কৃতীরা ১নম্বর প্ল্যাটফর্মে চলে গিয়েছিল। সেখানেই দাঁড়িয়ে তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে। বিস্ফোরকের উৎস খুঁজে বের করতে না পারলে আগামী দিনে বিপদ বাড়বে। তাদের ধরতে না পারলে দুষ্কৃতীরা আরও বড় হামলা চালাবে। তাই ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য তিনটি সংস্থাই উঠেপড়ে লেগেছে। তবে, এই ঘটনার পিছনে বড় কোনও মাথা রয়েছে বলে তারা নিশ্চিত।
প্রসঙ্গত, ১৭ফেব্রুয়ারি কলকাতায় যাওয়ার জন্য নিমতিতা স্টেশনে ট্রেন ধরতে যাচ্ছিলেন মন্ত্রী জাকির হোসেন। ২নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে মন্ত্রী সহ ২৩জন জখম হন। মন্ত্রীর অনুগামীদের দাবি, গোরু পাচারে বাধা দেওয়ার জন্য তাঁকে দু’বছর আগে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। মন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করে সেকথা জানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল। তাই এই ঘটনার সঙ্গে পাচারকারীরা যুক্ত রয়েছে কি না, সেটা আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন।

24th     February,   2021
 
 
কলকাতা
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
5th     March,   2021