বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

‘দুগ্ধ বিপ্লবে’র দুয়ার খুলে গেল রাজ্যে, মিটবে ঘাটতি

সুদীপ্ত কুণ্ডু, রানাঘাট: রাজ্যে ‘দুগ্ধ বিপ্লবে’র দরজা খুলে গেল। দুধের ঘাটতি পূরণের জন্য আর্টিফিসিয়াল ইনসেমিনেশনকে(এআই) কাজে লাগাচ্ছে রাজ্যের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর। আটটি জেলাকে নিয়ে পাইলট প্রজেক্ট করে কৃত্রিম উপায়ে বকনা বাছুর প্রজননে সাফল্য পাওয়ায় ‘শ্বেত বিপ্লব’ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রাজ্য। অল্প দিনের মধ্যেই ব্লকে ব্লকে এই ধরনের গো প্রজননের সুবিধা চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। তারজন্য পরিকল্পনাও প্রস্তুত।
রাজ্যের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম গো প্রজনন অনেকাংশই সফল হয়েছে। এবার রাজ্যজুড়ে সরকারি পরিকাঠামোয় এই প্রজনন প্রক্রিয়ার সুবিধা গোপালকরা পাবেন। তাতে আমাদের রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে দুগ্ধ উৎপাদনের যে ঘাটতি ছিল, তা মিটতে চলেছে। আগামীদিনে রাজ্যে দুগ্ধ বিপ্লব ঘটতে চলেছে। তাতে এরাজ্যের চাহিদা পূরণ করে অন্য রাজ্যে দুধ রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে তাঁর আশা।
এরাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাম জমানার ধুঁকতে থাকা দুগ্ধ শিল্পে অচলায়তন ভেঙে ফেলে উন্নয়নের পথে হেঁটেছে তৃণমূল সরকার। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বাংলার ডেয়ারি চালু করা হয়েছে। তারপর আরও একধাপ এগিয়ে কৃত্রিম গো প্রজননে শুধুমাত্র বকনা বাছুরই যাতে জন্মায়, সে ব্যাপারে আটটি জেলাকে নিয়ে পাইলট প্রজেক্ট শুরু করে রাজ্য। ওই আট জেলা হল উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, নদীয়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ এবং বাঁকুড়া। অল্পদিনেই মিলেছে সফলতা। জানা গিয়েছে, আর্টিফিসিয়াল ইনসেমিনেশনকে কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যেই এই আট জেলায় মোট ৪৪৮টি সুস্থ বকনা বাছুরের জন্ম দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের কর্তাদের কথায়, এই ধরনের প্রজনন পদ্ধতিকে নামকরণ দেওয়া হয়েছে ‘সেক্সড সর্টেড সিমেন’। কী এই প্রজনন পদ্ধতি? জানা গিয়েছে, কৃত্রিম পদ্ধতিতে ষাঁড়ের শুক্রাণু কোষ সংগ্রহের পর পরীক্ষাগারে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে নিষিক্ত করা হচ্ছে, ওই শুক্রাণু গাভীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলে বকনা বাছুরের জন্ম হবে। বকনা বাছুরের জন্ম নিশ্চিত করার পর তা গাভীর উপর সেটা প্রয়োগ করা হচ্ছে। আরও জানা গিয়েছে, কৃত্রিম গো প্রজননে অভিজ্ঞ জেলা প্রাণিসম্পদ বিকাশ আধিকারিক, প্রাণিচিকিৎসক, প্রাণিবন্ধু ও প্রাণিমিত্রদের কাজে লাগিয়ে সফল হয়েছে ওই পাইলট প্রজেক্ট। গোপালকদের একটা অংশের দাবি, এতদিন কৃত্রিম প্রজনন পন্থা অবলম্বন করা হলেও কোন বাছুর জন্ম নেবে, তা আগের থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হতো না। অনেক সময় এঁড়ে বাছুর জন্মানোর পর বাধ্য হয়ে পথে-ঘাটে তা ছেড়ে দেওয়া হতো। নতুন এই পদ্ধতি গো পালনে অনেকটাই সুবিধা এনে দেবে। নদীয়া জেলা প্রাণিসম্পদ বিকাশ আধিকারিক দেবাশিস জানা বলেন, নিশ্চিত বকনা বাছুরের জন্ম মানে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি। স্বাভাবিকভাবেই এতে স্থানীয়স্তর থেকে পর্যায়ক্রমে রাজ্যস্তর পর্যন্ত দুধের ঘাটতি মিটবে। পাশাপাশি রাজ্যের ডেয়ারি শিল্পেও প্রচুর কর্মসংস্থান হবে।

13th     February,   2024
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ