বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

বিসর্জন ঘিরে পুরসভার তৎপরতা
তুঙ্গে, ভিড়ে জমজমাট গঙ্গার ঘাট
সেলফি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দশমীর বিকেল। নিমতলা ঘাটে কলেজ পড়ুয়াদের একটা বড় দল। ছাত্রছাত্রীদের কেউ বারাসতের। কেউ এসেছেন দক্ষিণেশ্বর থেকে। কেউ থাকেন কাছাকাছি। শ্যামবাজারে। বিকেলে নিমতলা ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন। প্রত্যেকেই বিসর্জন দেখতে এসেছেন। দেখা, প্রতিমার ছবি তোলার পাশাপাশি অহরহ চায়ে চুমুক, সুখটান এবং সেলফিও। গত দু’বছর ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ভাসান দেখা হয়নি কারও। এবছর করোনা বিদায় নিতেই ফের ঘাটে ছুটে আসা। 
দক্ষিণেশ্বরের সৃজন গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, গত দু’বছর পুজোয় একদম এনজয় করতে পারিনি। এ বছর ধার বাকি পুষিয়ে নিয়েছি। করোনার আগে নিয়ম করে ভাসান দেখতে আসতাম। দু’বছর বাড়ি থেকে ছাড়েনি। এ বছর ফের আড্ডা। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সৃজনের বান্ধবী প্রিয়াঙ্কা ও সুস্মিতা। তাঁরা ঘনঘন ঘাড় হেলিয়ে সমর্থন জানাচ্ছিলেন বন্ধুর বক্তব্য। এ ছবি শুধু নিমতলা ঘাটের নয়। করোনাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে এ বছরের পুজো ফের তার পুরনো ফ্লেভার ফিরে পেয়েছে। ভাসানেও সেই ছবি ফিরে এসেছে।  
বিসর্জনের সময়  দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া নিয়ম জারি ছিল প্রশাসনের। পুলিসের নজরদারি, মাইকিং, স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতা। তাদের নজরদারির 
মধ্যে বিসর্জন দেখতে আসার সেই জমজমাট ছবি ধরা পড়েছে বাজে কদমতলা কিংবা বাগবাজার ঘাটে। বিসর্জন দেখতে কেউ এসেছেন পরিবার সমেত। কেউ দল বেঁধে। কেউ আবার প্রিয় মানুষটির হাত ধরে। দেদার সেলফি। সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট। প্রতিমা নিরঞ্জন। ছবি তোলা। ফুচকা, ঝালমুড়ি, ঘটি গরম, আইশক্রিম, সবারই টুকটাক মুখ চলেছে সমানে। বিক্রেতাদের মুখেও চওড়া হাসি। 
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তৎপর ছিল প্রশাসন। প্রতিটি ঘাটে বাড়তি পুলিস মোতায়েন হয়েছে। আছে পুরসভার উদ্যান বিভাগ এবং জঞ্জাল সাফাইয়ের কর্মীরা। দিনরাত লাগাতার কাজ চলছে। জল থেকে প্রতিমা তোলার জন্য ছিল ক্রেন। দশমী এবং একাদশী, দু’দিনই বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শন করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারও একাধিক ঘাট ঘুরে দেখেন। গঙ্গায় প্রতিমা ফেলার আগে ঠাকুরের অস্ত্র, ফুল সহ অন্যান্য পুজো-বর্জ্য ডাম্পারে তুলেছেন সাফাই কর্মীরা। জলে পড়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ক্রেনে তুলে ফেলা হয়েছে প্রতিমার কাঠামো। দশমীর দিন প্রায় আড়াই হাজার প্রতিমা গঙ্গাঘাটে বিসর্জন হয়েছে বলে কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। একাদশী বৃহস্পতিবার বলে নিরঞ্জন ঘাটগুলি এদিন অপেক্ষাকৃত ফাঁকা ফাঁকা ছিল। তবে কয়েকটি বারোয়ারি পুজোর প্রতিমা একাদশীতেও নিরঞ্জন হয়েছে বাজে কদমতলা ঘাটে। একাদশীতে বিসর্জনের সংখ্যা আনুমানিক ২০০। ঘাটে ঘাটে রিভার ট্রাফিক মোতায়েন রাখা হয়েছিল। ছিল পুরসভার ক্রেন, পে লোডার সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা। 
বিসর্জন ঘিরে অপ্রীতিকর কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে। দশমীর দিন বাবুঘাটে ক্রেনের ধাক্কায় এক বালক আহত হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘাট চত্বরে গন্ডগোল হয়। এই জাতীয় দুর্ঘটনা রুখতে আগামী বছর থেকে ভাসান-কুলিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে। বাড়ানো হবে কর্মী সংখ্যা। মেয়র বলেছেন, ‘বিসর্জনের সমস্ত প্রস্তুতি রয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই ব্যবস্থা লাগু থাকবে। গঙ্গা থেকে দ্রুত প্রতিমার কাঠামো তোলার জন্য আগামী বছর থেকে আরও বেশি সংখ্যক ভাসান-কুলির ব্যবস্থা রাখা হবে। তারা কাঠামো দ্রুত জল থেকে তুলে ফেলবেন। তারপর পুরকর্মীরা সেই কাঠামো গাড়িতে তুলে নেবেন।’ ক্রেনের বদলে অতিরিক্ত সংখ্যক কুলি দিয়ে কাজ কতটা সুসম্পন্ন হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পুর কর্তাদের একাংশের মধ্যে। এই প্রসঙ্গে এক আধিকারিক বলেছেন, ‘ছোট প্রতিমা কুলি দিয়ে জল থেকে তোলা সম্ভব। জলে ফেলার পর প্রতিমার ওজন বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে বড় প্রতিমা ক্রেন ছাড়া তোলা সম্ভব হবে না।’
পুরসভার পাশাপাশি বন্দরের পক্ষ থেকেও জাজেস ঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট এবং নিমতলা ঘাটে উদ্ধারকারী বোট, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং ক্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

7th     October,   2022
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ