বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

দু’মাসের দুর্গাকে নিয়েই
হোমে যাচ্ছেন কুমারী মা
‘আমার দুর্গা নারী গর্ভের রক্তমাংস কন্যা’

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘আমার দুর্গা নারী গর্ভের রক্তমাংস কন্যা’- কন্যাশ্লোক (আমার দুর্গা), মল্লিকা সেনগুপ্ত। উমার বাপের বাড়ি আসতে দিন চল্লিশ বাকি। বর্ষা আর শরতের এই সন্ধিক্ষণে বারাসত হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছে রক্তমাংসের দু’মাসের দুর্গাও। ফুটফুটে শিশুটির নতুন বাড়ি হল দত্তপুকুরের একটি হোম। সেখানে সে তার মায়ের সঙ্গে থাকবে। শিশুটির মা কুমারী। আর শিশুটি পিতৃপরিচয়হীন। এই দুই কারণে শিশুটির জন্মানোটা প্রবল অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল।
২২ এপ্রিল বারাসতে দাঁড়িয়েছিলেন বছর আঠারোর এক তরুণী। শরীরে সন্তান ধারণের চিহ্ন। ক্লান্ত এবং হত্যোদম। পরে ওই তরুণী জানিয়ে ছিলেন, ‘গাছের উঁচু ডাল থেকে ঝুলে পড়ার ইচ্ছে হয়েছিল। মৃত্যু ছাড়া অন্য পথ আমার সামনে ছিল না। এই সমাজে পিতৃপরিচয় ছাড়া সন্তানের জন্ম দেওয়াটা গুরুতর অপরাধ।’ তিনি বিহারের নওদা থেকে কাজের খোঁজে এসেছিলেন বারাসতের একটি ইটভাটায়। সেখানে সন্তানসম্ভবা হন। এই অপরাধে ভাটার মালিক কাজ থেকে তাড়িয়ে দেন। তারপর অভূক্ত অবস্থায় ঘুরছিলেন রাস্তায় রাস্তায়। শেষপর্যন্ত গর্ভস্থ সন্তানের জন্যই সেদিন কোনওক্রমে বারাসত হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। তারপর সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। 
নিরাপত্তারক্ষী মারফত সন্তানসম্ভবা তরুণীর খবর পান হাসপাতালের সুপার সুব্রত মণ্ডল। তাঁকে ভর্তির বন্দোবস্ত করেন। তারপর হাসপাতাল হয়ে ওঠে ভাবী মায়ের ঘর। আর হাসপাতালের কর্মীরা হয়ে ওঠেন তাঁর আত্মীয়সম। এমনকী প্রসূতি ওয়ার্ডে সাধভক্ষণও হয়। ২৬ জুন তরুণী জন্ম দেন ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তানের। সুপার মেয়েটির নাম দেন ‘দুর্গা’। এবার দু’মাসের দুর্গাকে নিয়ে সরকারি হোমে যাচ্ছেন মা। হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে  নার্স, এবং অন্যান্য কর্মীরা তাঁর নিজের মানুষ হয়ে উঠেছেন ধীরে ধীরে। দুর্গা তাঁদেরই কোলেপিঠে মানুষ। 
বারাসত জেলা হাসপাতালের সুপার বলেছেন, ‘আশ্রয়হীন তরুণীর কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। তাই হাসপাতালেই থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আপাতত দুর্গাকে নিয়ে তিনি সরকারি হোমে যাচ্ছেন। ওঁকে বাড়িতে ফেরাতে বিহারে পরিবারের সঙ্গে যোগযোগের চেষ্টা করছি।’ 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়েছিল, জেলা প্রশাসনকে। তারপর মা ও মেয়ের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে দত্তপুকুরের একটি সরকারি হোমে। শনিবারই দুর্গাকে নিয়ে তাঁর মা চলে যাবেন সেখানে। নতুন একটি আশ্রয় পেয়ে মা খুশি। আর পুরনো ঘর ছেড়ে যেতে তাঁর দু’চোখে জল। চোখে জল হাসপাতালের কর্মী-আধিকারকিদেরও। একটা হাসপাতাল অজান্তেই বাড়ি হয়ে গিয়েছিল এক সহায় সম্বলহীন তরুণীর। হাসপাতালটির জন্যই একটি দুর্গা তাঁর কোলে এসেছে। এবার তাঁকে বড় করার পালা। অল্পবয়সী গরীব মেয়েটির কাঁধে এখন পাহাড়ের মতো দায়িত্ব। হাসপাতালের সকলে তাঁর হাত ধরে বলেছেন, কোনও অসুবিধা হলে জানাতে। সেই ভরসাতেই একলা পা বাড়িয়েছেন মা। মল্লিকা সেনগুপ্ত ওই কবিতাতেই লিখেছিলেন, ‘অগ্নিপথে, যুদ্ধজয়ে, লিঙ্গসাম্যে, শ্রেণিসাম্যে/দাঙ্গাক্ষেত্রে, কুরুক্ষেত্রে।/ মা তুঝে সালাম।’
সন্তানকে কোলে নিয়ে কুমারী মা। -নিজস্ব চিত্র

20th     August,   2022
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ