বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

বাগবাজারের প্রতিমা নিরঞ্জন 

ঝাড়খণ্ডে সরকার ফেলতে
রাজ্যে ঢুকেছিল ৩ কোটি
অসমে ব্যবসায়ীকে নোটিস দিতে গিয়ে ফের বাধার মুখে সিআইডি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঝাড়খণ্ডে হেমন্ত সোরেনের সরকার ফেলার জন্য অসম থেকে এ রাজ্যে ঢুকেছিল প্রায় তিন কোটি টাকা। নির্দিষ্ট ডেরায় এই টাকা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন অসমে বিজেপির শীর্ষনেতার ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ী। তাঁর সংস্থায় ডিরেক্টর পদে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজেপি নেতার এক আত্মীয়ও। সেই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস দিতে গিয়ে অসম পুলিসের হাতে হেনস্তার শিকার হতে হল সিআইডিকে। শেষ পর্যন্ত গুয়াহাটির ফ্যান্সিবাজার এলাকায় ওই বহুতল আবাসনের নীচে নোটিসের কপি সাঁটিয়ে দিয়ে ফিরতে হয়েছে সিআইডিকে। 
কয়েকদিন আগে ঝাড়খণ্ডের তিন বিধায়কের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ঝাড়খণ্ডের নির্বাচিত সরকার ফেলার চক্রান্ত করতেই এই টাকা কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রথমে অস্বীকার করলেও দীর্ঘ জেরায় ভেঙে পড়ে তাঁরা জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা দু’বার অসমে গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে কথা বলেন অসমের এক ব্যবসায়ী। তিনি তিন বিধায়ককে জানান, টাকা কলকাতা থেকেই নিতে হবে। সেই মতো তাঁরা কলকাতায় এসে পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকা সংগ্রহ করে নেন। 
সিআইডি ওই ব্যবসায়ীর সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, তিনি অসমের  বড়মাপের এক রাজনৈতিক নেতার অত্যন্ত কাছের লোক। দু’জনে যৌথভাবে কোম্পানিও খুলেছেন। কোভিডের সময় পিপিই কিট কেনার সরকারি বরাত দেওয়া হয়েছিল ওই ব্যবসায়ীর সংস্থাকে। সেক্ষেত্রে বাজারের তুলনায় অনেক বেশি দামে কিট কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আরও জানা যায়, কলকাতায় ওই ব্যবসায়ীর একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থা এবং যৌথ অংশীদারিত্বে একটি বিনোদন সংস্থা রয়েছে।  তদন্তে জানা যায়, ঝাড়খণ্ডের সরকার ফেলার জন্য মিডলম্যানের ভূমিকা পালন করছেন ওই ব্যবসায়ী। বিজেপির সংশ্লিষ্ট শীর্ষনেতার নির্দেশমতো গোটা ‘অপারেশন’ তিনিই পরিচালনা করছেন। 
এরপর সিআইডি অসমের ওই ব্যবসায়ীর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি সংগ্রহ করে। তাতে দেখা যায়, বিভিন্ন উৎস থেকে ঘুরপথে অসমে  ব্যবসায়ীর কোম্পানিতে বহু টাকা ঢুকেছে। সেই টাকার একাংশ সরানো হয়েছে তাঁরই কলকাতার কোম্পানিতে। কলকাতা থেকে টাকা তুলে তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে মহেন্দ্র আগরওয়ালের হাতে। মহেন্দ্রকে জেরা করেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, প্রায় তিন কোটি টাকা পাঠানো হয়েছিল। এই টাকা ঝাড়খণ্ডে চলেও গিয়েছে ইতিমধ্যে। 
টাকা কারা কারা নিয়েছেন, তা জানার জন্য ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি হয়ে পড়ে। সেই কারণে তাঁকে নোটিস দিতে সম্প্রতি অসমে যায় সিআইডির টিম। অভিযোগ, তাঁর কমপ্লেক্সে ঢুকতে বাধা দেয় অসমের পুলিস। তখন সিআইডির শীর্ষকর্তারা কথা বলেন অসম পুলিসের ডিজির সঙ্গে। দীর্ঘ আলোচনার পর সমস্যা মেটে। অবশেষে ব্যবসায়ীর আবাসনের  নীচে নোটিসের কপি সাঁটিয়ে দিয়ে আসে সিআইডি।  

8th     August,   2022
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ