বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

কারও তিনতলা বাড়ি, কেউ বিবাহিতা, কারও ঘরে রয়েছে এসি
কার্ড ছাপিয়ে ভূরি ভূরি আবেদন ‘রূপশ্রী’র
১৬ জনকে ‘ধরল’ প্রশাসন

অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ‘স্যার, আমরা খুবই গরিব, একটু দেখবেন প্লিজ’! দপ্তরের আধিকারিকের সামনে করজোড়ে আকুতি করেছিলেন এক তরুণী। আবেদনের সঙ্গে জমা দিয়েছিলেন বিয়ের কার্ডও। কিন্তু, সেই আবেদন খতিয়ে দেখতে গিয়ে আধিকারিকদের চোখ ছানাবড়া। মুখে গরিব বললেও বাস্তবে কৈখালির ওই আবেদনকারীর রয়েছে তিনতলা প্রাসাদোপম বাড়ি! বাবার বড় ব্যবসা। এমনকী, তাঁর বিয়েও হয়ে গিয়েছে! শুধুমাত্র রূপশ্রী প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা হাতাতেই বিয়ের ভুয়ো কার্ড ছাপিয়ে আবেদন করেছেন।
এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত তিন মাসে বিধাননগর পুরসভা এলাকায় এমন ১৬ জন ভুয়ো আবেদনকারীকে ‘ধরেছে’ প্রশাসন। যাদের অধিকাংশই বিবাহিতা। বাড়িতে এসি মেশিন, ওয়াশিং মেশিন, ডাবল-ডোর ফ্রিজ, কী নেই! ‘ধনী’ আবেদনকারীর ছড়াছড়ি। ধরা পড়ার পর অবশ্য সকলেই প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। ভবিষ্যতে কোনওদিন এই ধরনের অপরাধ করবেন না বলে দিয়েছেন মুচলেকাও। কাঁচুমাচু করে বলেছেন, ‘স্যার, সরি। ভাবলাম টাকা পেলে ফিক্সড করে দেব’। কেউ দাবি করেছেন, ‘হাত খরচে টান পড়েছে, তাই লোভে পড়ে আবেদন করেছিলাম।’
গরিব-দুঃস্থ পরিবারের মেয়েদের বিয়ের সময় এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সুবিধা দিতে রূপশ্রী প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে সব পরিবারের আয় বছরে দেড় লক্ষ টাকার কম, কেবলমাত্র তাঁরাই প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারবেন। পাত্রী ও পাত্র দু’জনকেই বিবাহযোগ্য হতে হবে। আবেদনে বিয়ের কার্ডও জমা দিতে হয়। আবেদনপত্র জমা পড়লে প্রশাসনের তরফে খতিয়ে দেখা হয় সবকিছু। সব ঠিক থাকলে পাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢোকে। বিয়ের এক থেকে দু’মাস আগে আবেদন করা যায়।
এপ্রিল, মে এবং জুন মাসে বিধাননগর পুরসভা এলাকা থেকে শতাধিক রূপশ্রীর আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১৬ জন ভুয়ো আবেদনকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। রূপশ্রী প্রকল্পে বিধাননগর পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশুমান ধর বলেন, এই প্রকল্পের টাকা যাতে কোনওভাবে নয়ছয় না হয়, তার জন্য আমরা আবেদন ভালো করে খতিয়ে দেখি। ১৬ জন ধরা না পড়লে সরকারের চার লক্ষ টাকা নষ্ট হতো। প্রশাসনের কথায়, এক আবেদনকারী দারুণ ছক কষেছিলেন। নিজের পাকা বাড়ি। ধনী পরিবার। কিন্তু, প্রশাসনের কর্মীরা যখন হাজির হন সেখানে, তখন তিনি পাশের পাড়ায় একটি মাটির বাড়িতে গিয়ে বসেছিলেন। বলেছিলেন, সেটাই তাঁর বাড়ি। পরে, পাড়ার লোকজনই ফাঁস করে দেন। তাঁর পাকাবাড়িতে গিয়ে প্রশাসনের লোকজন দেখেন, দু’টি বেডরুমেই এসি চলছে!

7th     July,   2022
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ